বাংলাহান্ট ডেস্ক: রাহুল গান্ধী (Rahul Gandhi) সহ বিরোধীদের দিল্লিতে (Delhi) ১ নভেম্বরের প্রস্তাবিত রাজনৈতিক কর্মসূচিকে ঘিরে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ব্যবসায়ী মহলে। কর্মসূচির জেরে রাজধানীর বাণিজ্যিক এলাকাগুলিতে দোকানপাট বন্ধ রাখতে হতে পারে এবং বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে পারেন ব্যবসায়ীরা, এমনই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে ‘চেম্বার অফ ট্রেড অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি’ (Chamber of Trade and Industry)। সংগঠনটির দাবি, পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে যে মোট ক্ষতির অঙ্ক ১০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে। এই আশঙ্কার কথা জানিয়ে ফের লোকসভার বিরোধী দলনেতা রাহুল গান্ধীকে চিঠি দিয়েছে সিটিআই। একই সঙ্গে কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও চিঠি পাঠিয়ে বিরোধী দলগুলির সঙ্গে আলোচনা করে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে ব্যবসায়ীদের এই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে রাহুল গান্ধী বা কংগ্রেসের তরফে নতুন করে কোনও প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি বলে সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
রাহুলের (Rahul Gandhi) বিক্ষোভ কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়ার জন্য চিঠি ব্যবসায়ীদের:
সিটিআইয়ের চেয়ারম্যান ব্রিজেশ গোয়েলের বক্তব্য, আগামী ১ নভেম্বরের কর্মসূচিতে প্রায় ১০ লক্ষ মানুষের জমায়েত হতে পারে। পাশাপাশি রামলীলা ময়দান সংলগ্ন এলাকায় প্রায় ২০ হাজার বাসের উপস্থিতির সম্ভাবনাও রয়েছে। এত বিপুল সংখ্যক মানুষের সমাগম হলে আশপাশের রাস্তায় যান চলাচল ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি বাণিজ্যিক কার্যকলাপও ধাক্কা খেতে পারে বলে আশঙ্কা ব্যবসায়ীদের। তাঁদের দাবি, পরিস্থিতির কারণে দোকানপাট বন্ধ রাখতে হলে ক্ষতির পরিমাণ অনেকটাই বেড়ে যাবে। এর আগে গত ১০ অক্টোবর কয়েক হাজার মানুষের জমায়েতের আশঙ্কায় দিল্লিতে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। সিটিআইয়ের দাবি, ওই দিন ব্যবসায়ীদের প্রায় ৩ হাজার কোটি টাকার ক্ষতি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার ভিত্তিতেই আগামী কর্মসূচি ঘিরে আরও বড় আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা প্রকাশ করেছে সংগঠনটি। যদিও ১০ হাজার কোটি টাকার সম্ভাব্য ক্ষতির হিসাবটি ব্যবসায়ী সংগঠনের অনুমান, নিশ্চিত ক্ষতির পরিমাণ নয় (Rahul Gandhi)।
ব্যবসায়ীদের উদ্বেগের অন্যতম কারণ উৎসবের মরশুম। ধনতেরাস ও দীপাবলিকে কেন্দ্র করে দিল্লির বিভিন্ন বাজারে প্রতি বছর বিপুল কেনাকাটা হয়। সিটিআইয়ের হিসাব অনুযায়ী, ধনতেরাসের সময় সোনা-রুপো, ইলেকট্রনিক্স, পোশাক, বাসনপত্র, শুকনো ফল, মিষ্টি এবং গাড়ির মতো বিভিন্ন পণ্যের ব্যবসা মিলিয়ে দিল্লিতে প্রায় ২৫ হাজার কোটি টাকার লেনদেন হয়। এই সময়ে বাজারে ক্রেতাদের ভিড় থাকে চোখে পড়ার মতো। ফলে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক এলাকায় বড় জমায়েত হলে কেনাকাটা এবং পণ্য সরবরাহে সমস্যা দেখা দিতে পারে বলে মনে করছেন ব্যবসায়ীরা। তাঁদের আশঙ্কা, রাজনৈতিক কর্মসূচির কারণে যদি দোকান বন্ধ রাখতে হয় কিংবা ক্রেতাদের বাজারে আসা কমে যায়, তা হলে উৎসবের মরশুমে প্রত্যাশিত ব্যবসা মার খেতে পারে। সেই কারণেই কর্মসূচির দিন পরিবর্তনের জন্য বারবার আবেদন জানাচ্ছে সংগঠনটি।
এই পরিস্থিতিতে কয়েক দিন আগেই রাহুল গান্ধীকে চিঠি লিখে কর্মসূচি ১০ নভেম্বরের পরে করার প্রস্তাব দিয়েছিল সিটিআই। কিন্তু সেই আবেদন মেনে নিতে রাজি হননি রাহুল। বরং এক্স হ্যান্ডেলে একটি পোস্টে তিনি জানিয়েছিলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে জ্ঞানেশ কুমারকে পদ থেকে সরানোর কথা বলতে হবে। রাহুলের বক্তব্য ছিল, তাঁর উল্লেখ করা এই পদক্ষেপ করা হলে ৩০ সেকেন্ডের মধ্যেই বিক্ষোভ থেমে যাবে। উল্লেখ্য, জ্ঞানেশ কুমারকে নিয়ে বিরোধীদের আপত্তিই এই প্রতিবাদ কর্মসূচির অন্যতম কেন্দ্রবিন্দু বলে সংশ্লিষ্ট বক্তব্য থেকে ইঙ্গিত মিলেছে। ফলে ব্যবসায়ীদের আর্থিক উদ্বেগের পাশাপাশি রাজনৈতিক বিরোধও এই কর্মসূচিকে ঘিরে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। একদিকে বিরোধীরা নিজেদের দাবিতে অনড়, অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা উৎসবের মরশুমে সম্ভাব্য ক্ষতি এড়াতে দিন পরিবর্তনের আবেদন জানাচ্ছেন।

রাহুল গান্ধীর (Rahul Gandhi) পোস্টের পরদিনই ফের চিঠি পাঠিয়ে নিজেদের অবস্থান জানিয়েছে সিটিআই। এবার শুধু রাহুল নন, কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গেকেও আলোচনায় উদ্যোগী হওয়ার অনুরোধ জানানো হয়েছে। সংগঠনটির আবেদন, বিরোধী দলগুলির মধ্যে আলোচনা করে এমন একটি সমাধান খোঁজা হোক, যাতে রাজনৈতিক প্রতিবাদের অধিকার বজায় রেখেও ব্যবসায়ীদের ক্ষতি যথাসম্ভব এড়ানো যায়। তবে কর্মসূচি পিছিয়ে দেওয়া হবে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়। শেষ পর্যন্ত রাহুল গান্ধী ও কংগ্রেস নেতৃত্ব কী সিদ্ধান্ত নেন, এখন সেদিকেই নজর ব্যবসায়ী মহলের। একদিকে রাজনৈতিক দাবিকে সামনে রেখে প্রতিবাদের প্রস্তুতি, অন্যদিকে উৎসবের বাজারে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা—এই দুইয়ের মধ্যে সমন্বয় কীভাবে হয়, তা আগামী কয়েক দিনে পরিষ্কার হতে পারে।














