বন্দি নিরাপত্তা নিয়ে চিন্তিত আদালত, কী হচ্ছে জেলে? রিপোর্ট তলব হাই কোর্টের

Published on:

Published on:

Calcutta High Court flags prison overcrowding and safety issues
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ রাজ্যের বিভিন্ন সংশোধনাগারে বন্দিদের ভিড় বাড়ছে। তাদের চিকিৎসার অভাব আর একের পর এক মৃত্যুর ঘটনাও সামনে আসছে। এই পরিস্থিতি নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ প্রকাশ করল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। আদালতের স্পষ্ট বার্তা, নির্বাচন চললেও মানুষের জীবন নিয়ে কোনও আপস করা যাবে না। ঠিক কী হচ্ছে সংশোধনাগারগুলিতে, আর কেনই বা এত প্রশ্ন উঠছে সেই বিষয়েই বিস্তারিত রিপোর্ট চেয়েছে আদালত।

সংশোধনাগারের অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ কলকাতা হাই কোর্টে (Calcutta High Court)

জেলগুলির বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে শুনানির সময় অসন্তোষ প্রকাশ করে হাই কোর্টের (Calcutta High Court) ডিভিশন বেঞ্চ। বিচারপতিরা স্পষ্ট বলেন, বন্দিদের নিরাপত্তা ও অধিকার রক্ষা করা জরুরি, এটা কোনওভাবেই অবহেলা করা যাবে না। রাজ্যে মোট ৬১টি সংশোধনাগার রয়েছে। সেখানে ২১,৯৯২ জন থাকার ব্যবস্থা থাকলেও এখন বন্দি রয়েছেন ২৩,৮৮৬ জন। অর্থাৎ প্রায় ১,৯০০ জন বেশি। সবচেয়ে খারাপ অবস্থা মালদহ জেলের। ৩৫৩ জনের জায়গায় সেখানে ১,০৭৫ জন বন্দি রয়েছেন।

চিকিৎসার অবস্থাও খুবই খারাপ। ৬১টি জেলের জন্য মাত্র ২৭ জন ডাক্তার রয়েছেন। এছাড়া প্রায় ১,০০০টি কর্মীর পদ খালি। এত কম লোকবল নিয়ে কীভাবে বন্দিদের দেখভাল করা সম্ভব, তা নিয়েই প্রশ্ন তোলে আদালত (Calcutta High Court)। রাজ্যের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নির্বাচন শেষ হলে নিয়োগ করা হবে। আপাতত ফার্মাসিস্টরা কাজ সামলাচ্ছেন। কিন্তু এই যুক্তি মানেনি আদালত। বিচারপতিরা বলেন, ডাক্তারদের কাজ ফার্মাসিস্টরা করতে পারেন না, আর নির্বাচন কোনও অজুহাত হতে পারে না।

এদিন আদালতে বন্দি মৃত্যুর বিষয়ও উঠে আসে। ২০২২ সাল থেকে এখন পর্যন্ত ১৭৮ জন বন্দির মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ, মাত্র ২টি পরিবার ক্ষতিপূরণ পেয়েছে। বাকি পরিবারগুলি কেন কিছু পায়নি, তার সঠিক জবাব দিতে পারেনি রাজ্য। আদালত (Calcutta High Court) আরও জানতে চায়, মৃত বন্দিদের পরিবারের মামলা কি এখনও প্রক্রিয়ার মধ্যে আটকে আছে কিনা। পাশাপাশি আগেই যে আর্থিক খরচের নিয়ম (SOP) তৈরি করতে বলা হয়েছিল, সেটাও এখনও করা হয়নি বলে অভিযোগ ওঠে।

Calcutta High Court

আরও পড়ুনঃ কলকাতায় ED-র বড় অভিযান, মার্লিন গ্রুপের কর্ণধার সুশীল মোহতার বাড়ি-অফিস সহ ৭ জায়গায় রেড কেন্দ্রীয় সংস্থার

সব দিক দেখে আদালত (Calcutta High Court) রাজ্য সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে, ২২ এপ্রিলের মধ্যে একটি বিস্তারিত রিপোর্ট দিতে হবে। সেখানে জানাতে হবে কীভাবে জেলের ভিড় কমানো হবে, কীভাবে চিকিৎসা ও কর্মীর সমস্যা মেটানো হবে এবং মৃত বন্দিদের পরিবারকে ক্ষতিপূরণ দেওয়ার পরিকল্পনা কী।