বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভারতের ব্যস্ততম রেল করিডরগুলির অন্যতম দিল্লি–হাওড়া রুটে পরিকাঠামো উন্নয়নের পথে বড় পদক্ষেপ নিল ভারতীয় রেল (Indian Railways)। যাত্রী ও মালবাহী ট্রেনের ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে বিহারের দানাপুর–ফতুহা অংশে নতুন রেললাইন নির্মাণের জন্য প্রায় ৯৭৬ কোটি টাকার প্রকল্প অনুমোদিত হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে পূর্বাঞ্চলের রেল চলাচল আরও গতিশীল হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ভারতীয় রেলের (Indian Railways) বড় প্রকল্প
রেল সূত্রে জানা গিয়েছে, পূর্ব মধ্য রেলওয়ের অধীন দানাপুর থেকে ফতুহা পর্যন্ত প্রায় ২৯ কিলোমিটার রেলপথে অতিরিক্ত লাইন বসানোর কাজ হবে। এই সম্প্রসারণের ফলে ট্রেন পরিচালনার সক্ষমতা বাড়বে এবং বর্তমানে ব্যস্ত এই অংশে ট্রাফিকের চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে। প্রকল্প সম্পূর্ণ হওয়ার পর প্রথম বছরেই অতিরিক্ত ৪০টি ট্রেন চালানোর সুযোগ তৈরি হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, এর মধ্যে ২২টি যাত্রীবাহী এবং ১৮টি মালবাহী ট্রেন থাকবে।
এই অবকাঠামো উন্নয়ন তিনটি ধাপে বাস্তবায়িত হবে। দানাপুর -পাটনা অংশে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন, রাজেন্দ্রনগর-পাটনা সাহিব অংশে তৃতীয় লাইন এবং পাটনা সাহিব-ফতুহা অংশে তৃতীয় ও চতুর্থ লাইন নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে ট্রেন চলাচলে অপেক্ষার সময় কমবে এবং সময়ানুবর্তিতা বাড়বে বলে রেলের আশা।
দিল্লি, দীনদয়াল উপাধ্যায় জংশন পাটনা,কিউল,ভাগলপুর,হাওড়া রেল করিডরের সক্ষমতা বৃদ্ধির পরিকল্পনার অংশ এই নয়া প্রকল্প। একই সঙ্গে ভারতীয় রেলের ‘জ্বালানি, খনিজ ও সিমেন্ট করিডোর’ উন্নয়ন কর্মসূচিতেও এই রুটকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রেলের মতে, বক্সার জেলার চৌসায় প্রস্তাবিত ২,১২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র চালু হলে বিপুল পরিমাণ কয়লা ও অন্যান্য কাঁচামাল পরিবহণে এই রেলপথের ভূমিকা আরও বাড়বে।

আরও পড়ুন : ‘৭ দিন সময় নিচ্ছি’, আর জি কর ঘটনার ২ বছর, হঠাৎ কেন এমন ঘোষণা রত্ন দেবনাথের?
ভবিষ্যতের শিল্প ও লজিস্টিক চাহিদা মাথায় রেখে এখন থেকেই পরিকাঠামো শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রেল বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের সক্ষমতা বৃদ্ধি প্রকল্প শুধু ট্রেনের সংখ্যা বাড়ানোর জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে যাত্রী পরিষেবার মান উন্নয়ন, মালবাহী পরিবহণের গতি বৃদ্ধি এবং পূর্ব ভারতের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে আরও গতিশীল করতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
















