‘রান্নার কাজের জন্য যেমন অভিজ্ঞ রাঁধুনিকে..,’ SSC মামলায় হাইকোর্টে বললেন এজি, কী রায় দিল আদালত?

Published on:

Published on:

calcutta high court(104)
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ দ্বিতীয় এসএলএসটি (SLST) নিয়োগের মেধা তালিকা কীভাবে তৈরি হবে, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই জট। অভিজ্ঞতার জন্য আগেভাগে ১০ নম্বর যোগ করা হবে কি না? এই বিষয়ে মঙ্গলবার কলকাতা হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অমৃতা সিনহার এজলাসে শুনানি চলে। শুনানিতে রাজ্যের অ্যাডভোকেট জেনারেল (এজি) কিশোর দত্ত কমিশনের (School Service Commission) সিদ্ধান্তের সপক্ষে একাধিক যুক্তি পেশ করেন।

এসএসসির হয়ে হাইকোর্টে জোর সওয়াল এজির | Calcutta High Court

মামলার শুনানিতে এজি বলেন, রান্নার কাজের জন্য যেমন একজন অভিজ্ঞ রাঁধুনিকেই সাধারণত অগ্রাধিকার দেওয়া হয়, শিক্ষক নিয়োগের ক্ষেত্রেও অভিজ্ঞতার দাম দেওয়া উচিত। সিলেকশন কমিটি যখন কোনও নিয়ম তৈরি করে, তখন তা বিশেষজ্ঞদের মতামতের ভিত্তিতেই হয় বলে জানান এজি। বলেন, সাধারণত, নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে আদালত হস্তক্ষেপ করে না, যদি না সেই নীতি সংবিধান বিরোধী হয়।

সম্প্রতি স্কুল সার্ভিস কমিশন, ২০২৫ সালের নতুন গেজেট প্রকাশ করেছে। সেই নির্দেশিকা অনুযায়ী ইন্টারভিউ বা পার্সোনালিটি টেস্টের আগেই চাকরিপ্রার্থীদের অভিজ্ঞতার ভিত্তিতে ১০ নম্বর যোগ করা হবে। অর্থাৎ যারা আগে শিক্ষকতা করেছেন বা অভিজ্ঞ, তারা শুরুতেই বাড়তি ১০ নম্বর পাবেন।

কমিশনের যুক্তি, ২০১৬ সালের বাতিল হওয়া নিয়োগ প্রক্রিয়ায় অনেক শিক্ষক চাকরি হারিয়েছিলেন। তাঁদের অভিজ্ঞতার দাম দিয়ে পুনর্বাসনের সুযোগ দিতেই এই বাড়তি ১০ নম্বরের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এই নিয়েই শুরু হয় বিতর্ক। সাধারণ চাকরিপ্রার্থীরা এই নিয়মের বিরোধিতায় সরব হন। তাঁদের বক্তব্য ইন-সার্ভিস প্রার্থীরা লিখিত পরীক্ষার মোট ১০০ নম্বর পাচ্ছেন কিন্তু ফ্রেশারসদের ক্ষেত্রে তা ৯০ নম্বর। এই বিষয়কে বৈষম্যমূলক দাবি করেন তারা।

মামলাকারীদের একাংশ অভিযোগ তোলেন, অভিজ্ঞদের বাড়তি নম্বর দেওয়া বা আলাদা করে দেখা সংবিধানের ১৪ নম্বর অনুচ্ছেদ বা সাম্যের অধিকারের বিরোধী। এর পাল্টা যুক্তি দিয়ে এজি বলেন, যারা অভিজ্ঞ এবং যারা অনভিজ্ঞ, তারা সম্পূর্ণ দুটি সম্পূর্ণ আলাদা শ্রেণি। এদের একই পাল্লায় মাপ করা সঠিক নয়। যারা ইতিমধ্যেই কাজের মাধ্যমে দক্ষতা অর্জন করেছেন, তাঁদের বাড়তি সুবিধা প্রদান করাকে বৈষম্য নয় বলে দাবি করেন তিঁনি।

কমিশন বা সাবঅর্ডিনেট লেজিসলেচার কি নিজের ইচ্ছেমতো নিয়ম বানাতে পারে? এর উত্তরে সুপ্রিম কোর্টের ‘ইলেকট্রিসিটি অ্যাক্ট’-এর রায় তুলে এজির ব্যাখ্যা, মূল আইনসভা বা প্যারেন্ট লেজিসলেচার ক্ষমতা দিলে, সাবঅর্ডিনেট বডি নিয়ম তৈরি করতে পারে। এসএসসি গেজেট নোটিফিকেশন মেনেই কমিশন কাজ করেছে।

calcutta high court(95)

আরও পড়ুন: এসআইআর আবহে পুরসভায় দুর্নীতির ছায়া! জন্ম–মৃত্যু শংসাপত্র নিয়ে তোলপাড় কলকাতা

ভোকেশনাল, পার্ট-টাইম এবং সেন্ট্রাল টিচারদের ১০ নম্বর পাওয়ার যোগ্যতা নিয়ে শুনানিতে প্রশ্ন উঠলে, এজি বলেন, পরবর্তী শুনানিতে তাঁর বক্তব্য পেশ করবেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি, এই মামলার পরবর্তী শুনানি রয়েছে। সেইদিন মামলা কোন মোড় নেয় সেদিকে তাকিয়ে সকলে।