বাংলা হান্ট ডেস্কঃ সিঙ্গুরে টাটাদের ন্যানো কারখানা নিয়ে বহুদিন ধরেই আদালতে মামলা চলছে। সেই মামলাতেই এবার কিছুটা স্বস্তি পেল রাজ্য সরকার। টাটাদের প্রায় ৭৬৬ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ দেওয়ার যে নির্দেশ আগে দেওয়া হয়েছিল, সেটায় আপাতত ৮ সপ্তাহের জন্য স্থগিতাদেশ দিল কলকাতা হাই কোর্ট (Calcutta High Court)। তবে এই সময়ের মধ্যে রাজ্য সরকারকে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা দিতে হবে বলেও জানিয়েছে আদালত।
কী রায় দিল হাই কোর্ট (Calcutta High Court)?
বৃহস্পতিবার হাই কোর্টের (Calcutta High Court) বিচারপতি অনিরুদ্ধ রায়ের বেঞ্চ জানায়, এখনই টাটাদের টাকা দিতে হবে না। আগামী আট সপ্তাহের মধ্যে রাজ্য সরকারকে ব্যাঙ্ক গ্যারান্টি জমা করতে হবে। তারপর এই মামলায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
মামলার সূত্রপাত
এই মামলার শুরু ২০২৩ সালে ট্রাইব্যুনালের এক নির্দেশকে ঘিরে। তখন বলা হয়েছিল, সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানা না হওয়ায় টাটা গোষ্ঠীকে ৭৬৫ কোটি ৭৮ লক্ষ টাকা দিতে হবে রাজ্য সরকারকে। সেই সঙ্গে ২০১৬ সালের ১ সেপ্টেম্বর থেকে ১১ শতাংশ হারে সুদও দেওয়ার কথা বলা হয়েছিল।
এরপরই হাই কোর্টে (Calcutta High Court) যায় মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার। রাজ্যের অভিযোগ ছিল, ট্রাইব্যুনালের বিচারকের সঙ্গে টাটা গোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। তাই রায় পক্ষপাতদুষ্ট হতে পারে।যদিও হাইকোর্ট সেই দাবি মানেনি। পরে রাজ্য সরকার সুপ্রিম কোর্টেও যায়। কিন্তু সেখানেও রাজ্যের আবেদন খারিজ হয়ে যায়। এরপর মামলা ফের কলকাতা হাই কোর্টে ফিরে আসে। এই মামলার শুনানি আগেই শেষ হয়েছিল। এর মধ্যেই রাজ্যে নির্বাচনের ফল প্রকাশ হয়েছে এবং সরকার বদলের পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বিজেপি সরকার গঠনের পথে। তার মধ্যেই বৃহস্পতিবার এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল হাই কোর্ট।
উল্লেখ্য, ২০০৬ সালে তৎকালীন মুখ্যমন্ত্রী বুদ্ধদেব ভট্টাচার্য সিঙ্গুরে টাটার ন্যানো কারখানা তৈরির ঘোষণা করেছিলেন। সেই প্রকল্পের জন্য প্রায় ১০০০ একর জমি দেওয়া হয়েছিল টাটাদের। কিন্তু আন্দোলন ও বিতর্কের জেরে শেষ পর্যন্ত সেখানে কারখানা তৈরি হয়নি।

আরও পড়ুনঃ কৌশলে পাতা হয়েছিল ফাঁদ! কীভাবে ‘টার্গেট’ হলেন চন্দ্রনাথ? তদন্তে নতুন তথ্য
পরে ক্ষমতায় এসে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার টাটাদের কাছ থেকে জমি ফেরত চায়। টাটা গোষ্ঠী জমি ফেরাতে রাজি হলেও, প্রকল্পে যে খরচ হয়েছিল সেই টাকা ফেরত দাবি করে। কিন্তু সেই দাবি মানতে রাজি হয়নি রাজ্য সরকার। তারপর থেকেই এই আইনি লড়াই শুরু হয় (Calcutta High Court)।













