‘হ্যাঁ আমি টাকা নিয়েছি, সব অন রেকর্ড আছে’! এবার বোমা ফাটালেন কল্যাণ

Published on:

Published on:

Kalyan Banerjee attacked Ritabrata Banerjee over his fee comment
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শনিবার তৃণমূলের (Trinamool Congress) দুই শিবিরের সঙ্গে বৈঠক করেছে নির্বাচন কমিশন। এদিন প্রথমে নতুন তৃণমূল ও পরবর্তীতে কালীঘাট তৃণমূলের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক হয়। এরপর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে ঋতব্রত শিবিরকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন কালীঘাট তৃণমূল সাংসদ কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় (Kalyan Banerjee)। মামলা লড়ার ফি নিয়ে ঋতব্রতর করা মন্তব্যেরও পাল্টা দেন তিনি।

‘যা টাকা পেয়েছি, পরিশ্রম করে পেয়েছি’: কল্যাণ | (Kalyan Banerjee)

এদিন দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক সেরে বেরিয়ে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হন শ্রীরামপুরের সাংসদ। তিনি জানান, তাঁরা নিজেদের বক্তব্য কমিশনের সামনে রেখেছেন। কী কী বলা হয়েছে সেটা সামনে না আনলেও প্রবীণ সাংসদ-আইনজীবী বলেন, অন্তর্বর্তী সিদ্ধান্ত নিতে পারে কমিশন।

আরও পড়ুনঃ মোবাইল-ট্যাবের টাকা অতীত! পড়ুয়াদের দেওয়া হবে পড়াশোনার অন্য আধুনিক সরঞ্জাম, ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

নির্বাচন কমিশনের তরফে কী কী নথি চাওয়া হয়েছে এই বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে কল্যাণ বলেন, “আমরা একটা ডকুমেন্ট জমা করেছি। বাকি কোনও নতুন তথ্য জানতে চাওয়া হয়নি। আমরা এটাও বলেছি যে ঋতব্রতদের পক্ষ থেকে আর কোনও নতুন তথ্য পাইনি। কমিশনকে অন্য কোনও তথ্য দিয়ে থাকলেও সেটা আমরা জানি না।“

এদিন মামলা লড়ার ফি নিয়ে ঋতব্রতর মন্তব্যেরও পাল্টা দিয়েছেন কল্যাণ। মামলার ফি নিয়ে কল্যাণ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে চিঠি লেখার কথা বলেছেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা। সেই বিষয়ে তৃণমূল সাংসদ বলেন, “লিখুন না। আমায় ও আমার পরিবার নিয়ে যা ইচ্ছা লিখুক। আমি যে টাকা পেয়েছি সেটা পরিশ্রম করে পেয়েছি। বিনা পরিশ্রমে আমি কোনও টাকা পাইনি। আমার যা রয়েছে সব অন রেকর্ড।“

প্রবীণ সাংসদ-আইনজীবী বলেন, তিনি মামলা লড়েছেন এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। সেই মামলা লড়ার ফিজই নেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, “যেখানে যেখানে ফিজ নেওয়ার সেটা নেবই। সরকার থেকে দিয়েছে, সেটা জমাও পড়েছে। সেটার ট্যাক্সও দেওয়া হয়েছে। এটা তো অন্যায় নয়। আমার ব্যক্তিগত স্বার্থ নয়, সরকারের স্বার্থ, স্কুল সার্ভিস কমিশনের স্বার্থে করেছি। আমি তো আগে কেন্দ্রের হয়েও লড়েছি। কেন্দ্রীয় সরকার কি আমায় টাকা দেয়নি? পেশা তো পেশার জায়গায়। সেটা তো কলঙ্কিত করা যায় না।“

এরপর সরাসরি ঋতব্রতর নাম নিয়ে কল্যাণ বলেন, “আমার পিছনে লেগে তোমার কোনও লাভ হবে না। বাংলার মানুষ যা মারবে না পরে বুঝতে পারবে।“ তৃণমূলের অন্দরে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ওঠা প্রশ্নেও রাজ্যের বিরোধী দলনেতাকে চরম আক্রমণ করেছেন তিনি।

শ্রীরামপুরের তৃণমূল সাংসদ বলেন, “২০২৬ সালের ভোটে দাঁড়ালে কেন? সিপিএম থেকে এসে তো তৃণমূলকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না বা মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না। আমার প্রশ্ন হল, ভোটে কেন দাঁড়ালে? মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়ারপার্সন না থাকলে, উনি তো ২০২৫-এর ফেব্রুয়ারি মাস থেকে নেই। তাহলে ওনার দেওয়া প্রতীক নিয়ে ভোটে কেন দাঁড়ালে?”

Kalyan Banerjee

কল্যাণ দাবি করেন, ঋতব্রত দলকে নিজের সম্পত্তি মনে করেন। তিনি বলেন, “তৃণমূলকে নিজের সম্পত্তি বলে মনে করে ঋতব্রত। সেটাকে বেচে দিয়েছে। ও তো একটা দালাল। ওর চেয়ে বড় দালাল আর কেউ আছে? বাংলা সবচেয়ে লজ্জাকর একটা মানুষের জন্ম দিয়েছে, তিনি হলেন ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়।“

২০২৬ বিধানসভা ভোটের ফলপ্রকাশের পরেই তৃণমূল দুই ভাগে বিভক্ত হয়ে গিয়েছে। মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়দের হাত ছেড়ে গঠিত হয়েছে ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়দের ‘নতুন তৃণমূল’। তবে এই কঠিন সময়েও মমতার পাশে যে ক’জন নেতা, বিধায়ক, সাংসদ রয়েছেন, তাঁদের মধ্যে অন্যতম কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এবার তিনিই নানা ইস্যুতে ঋতব্রতকে চরম আক্রমণ করলেন।