অনলাইন গেমিংয়ে কড়া নজর কেন্দ্রের, ১ মে থেকে নতুন নিয়মে আসছে বড় বদল!

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: দেশে অনলাইন গেমিংয়ের (Online Gaming) জনপ্রিয়তা গত কয়েক বছরে বিস্ফোরক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। কিশোর-কিশোরী থেকে শুরু করে তরুণ প্রজন্ম সবাই এখন স্মার্টফোনের মাধ্যমে বিভিন্ন গেমে মগ্ন। বিশেষত কোভিড-পরবর্তী সময়ে ঘরে বসে বিনোদনের মাধ্যম হিসেবে অনলাইন গেমিংয়ের চাহিদা দ্রুত বেড়েছে। তবে এই প্রবণতার সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে আসক্তি এবং আর্থিক ঝুঁকির মতো সমস্যাও।

অনলাইন গেমিং (Online Gaming) নিয়ে কড়া নজর কেন্দ্রের

অনেক ক্ষেত্রেই এই গেমগুলি বিনোদনের সীমা ছাড়িয়ে জুয়ার রূপ নিয়েছে। বহু ব্যবহারকারী টাকা বাজি রেখে গেম খেলতে শুরু করেন, যার ফলে লক্ষ লক্ষ টাকা খোয়া যাওয়ার অভিযোগ সামনে এসেছে। উদ্বেগের বিষয়, নাবালক-নাবালিকাদের মধ্যেও এই প্রবণতা বাড়তে দেখা গিয়েছে। অভিভাবকদের অজান্তেই তারা অনলাইন প্ল্যাটফর্মে টাকা খরচ করছিল, ফলে পারিবারিক সঞ্চয়েও প্রভাব পড়ছিল।

আরও পড়ুন: পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধের ধাক্কা, তেল আমদানিতে তিনগুণ খরচে ধুঁকছে পাকিস্তান!

এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার অতীতে বেশ কিছু জনপ্রিয় গেম যেমন PUBG Mobile এবং Free Fire-এর উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিল। যদিও পরে এই গেমগুলির কিছু সংস্করণ ভারতীয় বাজারের জন্য নতুনভাবে চালু করা হয়, তবুও নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা থেকেই যায়। সেই প্রেক্ষিতে চলতি বছর নতুন গেমিং নীতির ঘোষণা করেছে সরকার।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ১ মে থেকে দেশে অনলাইন গেমিংয়ে একাধিক পরিবর্তন কার্যকর হবে। এর মধ্যে রয়েছে বয়সভিত্তিক সীমাবদ্ধতা, নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দেওয়া এবং অভিভাবকদের নজরদারির সুযোগ বৃদ্ধি। পাশাপাশি ব্যবহারকারীদের অভিযোগ জানানোর ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে। এই নীতির অধীনে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘অনলাইন গেমিং অথরিটি অফ ইন্ডিয়া’ গঠনের কথাও বলা হয়েছে, যা গেমিং প্ল্যাটফর্মগুলির উপর নজরদারি চালাবে।

Central govt Keeps a Strict Watch on Online Gaming

আরও পড়ুন: নেপাল এয়ারলাইন্সের মানচিত্র বিতর্ক! জম্মু-কাশ্মীরকে পাকিস্তানের দেখানোয় তীব্র ক্ষোভ

নতুন ব্যবস্থায় গেমগুলিকে সোশ্যাল গেমিং (Online Gaming), মানি গেম বা ই-স্পোর্টস হিসেবে শ্রেণিবিন্যাস করা হবে। যেসব প্ল্যাটফর্মে টাকা লেনদেন বা প্রতিযোগিতা হয়, তাদের জন্য নথিভুক্তি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। পাশাপাশি গেমিং সংস্থাগুলির সার্টিফিকেটের মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করা হয়েছে। ব্যাঙ্ক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলিকেও সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে, যাতে অবৈধ বা জুয়ার সঙ্গে যুক্ত গেমিং প্ল্যাটফর্মে অর্থ লেনদেন না হয়। সব মিলিয়ে, ব্যবহারকারীর সুরক্ষা ও স্বচ্ছতা বাড়াতে এই নতুন নীতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেবে বলেই মনে করা হচ্ছে।