বাংলা হান্ট ডেস্কঃ চোরবাগান সর্বজনীনে (Chorbagan Stampede) সপ্তমীর রাত্রিতে ঠাকুর দেখতে যাওয়া যে বিভীষিকায় পরিণত হবে ভাবেননি কেউ। গতকাল সন্ধ্যে রাত্রে, পদপৃষ্ঠী হয়ে মৃত্যু হল একাধিক পুরুষ, মহিলা থেকে এক শিশুর। পরিসংখ্যান বা লক্ষ্যে মোট ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাঁদের সকলেরই ময়নাতদন্ত (Chorbagan Stampede death Postmortem Report) হয়েছে নিয়ম অনুযায়ী, আর তাতেই উঠে আসছে ভয়ঙ্কর তথ্য।
প্রকাশ্যে চোরবাগানে মৃত ১৯জনের ময়নাতদন্তের রিপোর্ট
রবিবার মৃত্য ১৯ জনের মধ্যে ১৮ জনের ময়নাতদন্ত হয়েছে কলকাতা মেডিকেল কলেজে। আর বাকি একজনের হয়েছে NRS হাসপাতালে। এরপর যে রিপোর্ট সামনে আসছে তা একদিকে যেমন হৃদয়বিদারক তেমনি ভয়ঙ্কর। অন্তত ৭ জনের পাঁজরের হাড় ভেঙে গিয়েছে। এরপর সেই হাড় গেঁথে গিয়েছে ফুসফুসে। ফলে ফুসফুস ফেটে গিয়ে মৃত্যু হয়েছে তাদের।
এছাড়া বেশ ক একজনের মাথায় গুরুতর ছোট লেগেছে। মস্তিস্তের ভিতরে রক্তক্ষরণ হয়েছে, যেটা মৃত্যুর কারণ হয়েছে ৫ জনের। এছাড়া নিঃশ্বাস নিতে না পেরে বা দমবঙ্গ হ যে গিয়ে মারা পড়েছেন অন্তত ৬ জন। শিশুদের ক্ষেত্রে মৃত্যুর কারণ ‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’।
আরও পড়ুনঃ ‘আবর্জনা বইছি, আর নয়!’ চোরবাগানকাণ্ডে অস্থায়ী হোমগার্ডদের নিয়ে ক্ষুব্ধ মুখ্যমন্ত্রী
এই ‘ট্রমাটিক অ্যাসফিক্সিয়া’ এর মানে হল বুকের উপর পাহাড় সমান চাপ তৈরী হওয়া। যার ফলে নিঃশ্বাস প্রশ্বাস থেকে শুরু করে রক্তসঞ্চালন সবটাই ব্যাহত হয়ে যায়। যার ফলে মস্তিষ্কে ও দেহের গুরুত্বপূর্ণ অংশে অক্সিজেনের অভাব ঘটে ও মারা যায়। এই কারণে মৃত্যু হওয়া শিশুদের শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্নও নেই বলে জানা গিয়েছে।
ফুসফুস ফেটে, দমবন্ধ হয়ে লিভার থেঁতলে গিয়ে মৃত্যু
চিকিৎসকদের মতে, কিছু মানুষ দমবন্ধ হয়ে মারা গিয়েছেন। ক্যিছু মানুষ মাথায় ছোট লাগা ও রক্তক্ষরণ আর কিছু মানুষ ফুসফুস ফেটে যাওয়র কারণে মারা গিয়েছেন। তবে শুধুমাত্র এগুলোই কারণ নয়, অনেকের গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ যেমন কিডনি তো কারোর লিভার থেঁতলে গিয়েছিল। তবে মূলত তিনটি কারণ – দমবন্ধ হয়ে যাওয়া, ফুসফুস ফেটে যাওয়া ও মাথায় লেগে রক্তক্ষরণের ফলেই মৃত্যু হয়েছে।
এদিন ১৯ জনের ময়নাতদন্ত করার জন্য SSKM হাসপাতাল থেকে কিছু চিকিৎসককে মেডিকেল কলেজে আনা হয়েছিল। মোট ৫ জন ডাক্তারের টিম ময়নাতদন্তেদর কাজ সম্পন্ন করেছেন, তবে মৃত্যুর কারণ নিয়ে সকলেরই মন্তব্যই একইরকম।
প্রসঙ্গত, ইতিমধ্যেই চোরবাগানের দুর্ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মুখ্যমন্রী শুভেন্দু অধিকারী। দুর্ঘটনার সময় সেখানে ভিড় সামলানোর দায়িত্বে থাকা হোমগার্ডদের ভূমিকা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি। এছাড়াও এই ঘটনার পূরণ তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি দেওয়া হবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। একইসাথে মৃত্যদের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ ও একজনকে সরকরি চাকরি দেওয়ার ঘোষণাও করা হয়েছে।














