রক্তে রাঙা সবুজ ঘাস! ইন্দোনেশিয়ার ফুটবল মাঠের দাঙ্গায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে হল ১৭৪

বাংলাহান্ট ডেস্ক : নিরাপত্তা কঠোর করা হয়েছিল। তারপরও আটকানো গেল না অশান্তি। মধ্যপ্রদেশের (Madhyapradesh) উজ্জয়িনী (Ujjain) জেলায় গরবা নাচের অনুষ্টানকে ঘিরে সৃষ্টি হল তুমুল উত্তেজনা। নির্দেশ উপেক্ষা করে গরবা দেখতে হাজির হয় তিন মুসলিম যুবক। বজরং দলের (Bajrang Dal) হাতে ধরা পরে খেতে হল মার। ছিঁড়ে দেওয়া হল পোশাকও। উজ্জয়িনী শহরের ভিআইপি কোঠি রোডে গরবা অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ঘটল এমনই ঘটনা।

   

গরবা নাচের অনুষ্ঠানে অহিন্দুরা ঢুকতে পারবে না। এবছর এমনই নির্দেশিকা জারি করা হয় বিজেপি শাসিত মধ্যপ্রদেশে। শিবরাজ সিং চৌহান সরকার স্পষ্ট জানিয়ে দেন, পরিচয়পত্র দেখে তারপর এই ধরনের অনুষ্ঠান চত্বরে ঢুকতে দেওয়া হবে। গত সোমবার থেকেই শুরু হয় নবরাত্রি। ঐতিহ্যবাহী গরবা নাচের আসরও বসে। উজ্জয়িনী জেলায় তেমনই একটি অনুষ্ঠানের বাইরে পোস্টার দিয়ে উল্লেখ করা হয়, গরবা অনুষ্ঠানের চত্বরে অহিন্দুদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। আয়োজক সংস্থা সংস্কৃতি সমিতির পক্ষ থেকে পরিচয়পত্রও দেখা হয়।

ওই সংস্থার সভাপতি বাহাদুর সিং রাঠোরের দাবি, অনেক সময়ই গণ্ডগোল পাকানোর জন্য অহিন্দুরা গরবা নাচের জায়গায় চলে আসেন। একটা নিরাপদ পরিবেশ তৈরির জন্য় আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি তাদের প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

এদিকে সমর্পণ ওয়েলফেয়ার সোসাইটি জানায় তাঁদের অনুষ্ঠানস্থলে ড্রেস কোড দেখা হচ্ছে। পরিচয়পত্রও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। আয়োজক স্বদেশ সাইনি জানিয়েছেন, ভারতীয় পোশাক পরেই আসতে হবে। ধর্মীয় লোকজনই কেবলমাত্র প্রবেশ করতে পারবেন।

এত নিরাপত্তার মধ্যেও তিন মুসলিম যুবক ঢুকে যান ওই অনুষ্ঠানে। ভিড়ে মিশে গেলেও এই খবর পৌঁছে যায় বজরং দলের আধিকারিকদের কাছে। দলবল নিয়ে ওই গরবা অনুষ্ঠানে হাজির হন তাঁরা। খোঁজ শুরু করেন তিন মুসলিম যুবকের। স্টেজ থেকে ঘোষণা করা হয় তারা যেন সসম্মানে বেরিয়ে আসে। অবশেষে খুঁজে পাওয়া যায় তাদের। তারপরই শুরু হয় গণধোলাই। তাদের পোশাকও ছিঁড়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ।

বজরং দলের জেলা সংযোজক অঙ্কিত চৌবে বলেন, ‘বিগত তিন দিন ধরে আমাদের কাছে খবর ছিল গরবা অনুষ্ঠানে ৩ মুসলিম যুবক বান্ধবীদের নিয়ে হাজির হচ্ছিল। আজ আমাদের দল তৈরিই ছিল। আমরা প্রথমে মঞ্চ থেকে ঘোষণা করি তারা যেন নিজের থেকে বেরিয়ে আসে। এরপরই একজনকে খুঁজে পাওয়া যায়। বাকি দুজন পালিয়ে যাচ্ছিল। তাদেরকেও ধরা হয়। তিনজনকেই পুলিসের হাতে তুলে দেওয়া হয়।