বাংলা হান্ট ডেস্ক : দীর্ঘ দিন ধরে নির্বাচিত পুরবোর্ড ছাড়াই চলছে হাওড়া পুরনিগমের (Howrah Municipal Corporation) কাজকর্ম। নাগরিক পরিষেবা থেকে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা— নানা বিষয় নিয়ে বারবার প্রশ্ন উঠেছে। অবশেষে সেই পরিস্থিতির বদল ঘটতে চলেছে বলেই ইঙ্গিত দিল রাজ্য সরকার। বৃহস্পতিবার হাওড়া সফরে গিয়ে চলতি বছরের মধ্যেই হাওড়া ও বালি পুরসভায় নির্বাচন আয়োজনের আশ্বাস দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
হাওড়া পুরনিগমের (Howrah Municipal Corporation) ভোট:
হাওড়া পুরনিগমে শেষবার নির্বাচন হয়েছিল ২০১৩ সালে। ২০১৮ সালে পুরবোর্ডের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আর ভোট হয়নি। এরপর থেকে প্রশাসকমণ্ডলীর হাতেই পুরসভার দায়িত্ব ছিল। এই দীর্ঘ সময়ের মধ্যে নাগরিক পরিষেবা নিয়ে অসন্তোষ যেমন বেড়েছে, তেমনই দুর্নীতির অভিযোগও সামনে এসেছে একাধিক বার।
এই প্রেক্ষাপটে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “আমরা রাজনৈতিক দল। গণতন্ত্রে বিশ্বাস করি। মনে করি পুরসভায় জনগণের অংশগ্রহণের মাধ্যমে নির্বাচন ছাড়া সুষ্ঠু পরিষেবার স্বাদ মানুুষ পেতে পারেন না। সব কিছু ঠিক থাকলে ডিসেম্বরের মধ্যে হাওড়া ও বালিতে ভোট হবে।”
শুধু নির্বাচন নয়, ভোটের আগে ওয়ার্ড ডিলিমিটেশনও করা হবে বলে জানিয়েছেন তিনি। শুভেন্দুর কথায়, “আমরা ডিলিমিটেশন ও অন্যান্য প্রক্রিয়া শুরু করতে বলেছি। পুরমন্ত্রী দুর্গাপুরে আছেন সেখানে আমি যাব কথা বলব। সব কিছু ঠিক থাকলে আগামী ডিসেম্বরে ভোট হবে হাওড়া ও বালিতে।”
পুরভোট প্রসঙ্গের পাশাপাশি দুর্নীতির অভিযোগ নিয়েও কড়া রাজ্য সরকার। বেআইনি নির্মাণ, জলাশয় ভরাট এবং অন্যান্য অনিয়মের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে একটি ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি হাওড়া পুরনিগমের অস্থায়ী কর্মীদের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।

আরও পড়ুন : তালাবন্ধ অফিস! নিস্তব্ধ জাহাঙ্গিরের বাড়ি, ফলতায় সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হচ্ছে ভোট
এদিন শুভেন্দু বলেন, “হাওড়া পুরসভায় ১৭০০ অস্থায়ী কর্মী কাজ করেন। তাঁদের মধ্যে ৫০০ জন কোনও কাজ না করে বেতন নেন। সেই তদন্তও হবে।” দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পর হাওড়া ও বালির বাসিন্দারা ফের নির্বাচিত পুরবোর্ড পেতে চলেছেন কি না, এখন সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ নাগরিকদের।













