বাংলা হান্ট ডেস্ক : চোরবাগানের মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর কলকাতার দুর্গাপুজোয় দর্শনার্থীদের প্রবেশব্যবস্থা থেকে শুরু করে সরকারি অনুষ্ঠান—একাধিক ক্ষেত্রে পরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলল। ভিড় সামলাতে বিশেষ অতিথিদের জন্য আলাদা প্রবেশপথ রাখার বদলে সকলকে একই লাইনে মণ্ডপে ঢোকানোর সিদ্ধান্তের কথা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী (Suvendu Adhikari)।
পুজোয় নিরাপত্তা নিয়ে কী ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর(Suvendu Adhikari)?
রবিবার ভবানীভবনে প্রশাসনের শীর্ষ কর্তাদের নিয়ে বৈঠক করেন মুখ্যমন্ত্রী। বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মুখ্যসচিব মনোজ আগরওয়াল, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্ত-সহ একাধিক উচ্চপদস্থ আধিকারিক। চোরবাগানের ঘটনার পর শহরের বড় পুজোগুলিতে কীভাবে নিরাপত্তা বাড়ানো যায়, কোথায় নজরদারির ঘাটতি রয়েছে এবং ভিড় নিয়ন্ত্রণে কী ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন—সেই বিষয়গুলিই আলোচনায় উঠে আসে।
বৈঠক শেষ হওয়ার পর মুখ্যমন্ত্রী জানান, বড় পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখতে একটি বিশেষ পরিদর্শক দল তৈরি করা হয়েছে। রাজ্যের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের সচিব, দমকলের ডিজি অনুজ শর্মা এবং স্পেশাল টাস্ক ফোর্সের এডিজি জাভেদ শামিমের নেতৃত্বে ওই দল কাজ করবে। মণ্ডপের পরিকাঠামো, নিরাপত্তার বন্দোবস্ত এবং দর্শনার্থীদের প্রবেশ ও বেরোনোর ব্যবস্থা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। কোথাও সমস্যা চোখে পড়লে ঘটনাস্থল থেকেই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করার ক্ষমতাও দেওয়া হয়েছে বলে জানান মুখ্যমন্ত্রী।
দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিয়ে নতুন নির্দেশের কথাও স্পষ্ট করেন তিনি। মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, “মিটিংয়ে কিছুটা থেকেই এই টিম কাজ শুরু করে দিয়েছে। শহরের সমস্ত পুজো মণ্ডপগুলির নিরাপত্তা খতিয়ে দেখবেন তাঁরা। অনস্পট সিদ্ধান্ত নেবেন। প্রয়োজনে নিয়ন্ত্রিত দর্শনার্থী হবে। ভিআইপি-এলআইপির জন্য আলাদা লাইন নয়।”
মুখ্যমন্ত্রীর কথায়, “আমি জনগণকে বলব, মনের মধ্যে সহানুভূতি রেখেই মা দুর্গা দর্শন করুন। শাস্ত্র-পঞ্জিকা মতে যে কাজগুলি আছে তা করুন। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী হিসাবে আগামী দু-তিনদিন এই শোকার্ত পরিবারগুলির পাশে থাকব।” এদিকে, আগামী ২৬ তারিখের বিজয়া সম্মিলনীও এবার অন্য আবহে পালিত হবে। রাজ্য সরকারের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে আড়ম্বর এড়িয়ে শোক ও সহমর্মিতার উপর গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সব পুজো কমিটিকে আমন্ত্রণ জানানো হবে ওই অনুষ্ঠানে।

আরও পড়ুন :পুজোর মাঝেই বিষাদের সুর! বিজয়া সম্মেলনী নিয়ে বড় ঘোষণা করলেন মুখ্যমন্ত্রী
দুর্ঘটনার নেপথ্যে কী কারণ ছিল, তা জানতে ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং টিমও গঠন করা হয়েছে। মণ্ডপের কাঠামো, ভিড় নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনও ত্রুটি ছিল কি না, তা তদন্তে খতিয়ে দেখা হবে। তবে তদন্তের পাশাপাশি জরুরি হয়ে উঠেছে ভবিষ্যতে একই ধরনের দুর্ঘটনা ঠেকানোর জন্য কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া।













