‘আপনার দেওয়া ভোট আপনিই জানবেন’, বুথে ওয়েব কাস্টিং নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করে কী জানাল কমিশন?

Published on:

Published on:

Commission cleared up confusion about web casting on West Bengal assembly election.
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক : এবারের বিধানসভা নির্বাচনকে (West Bengal Assembly Election) কেন্দ্র করে জোর প্রস্তুতি শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন। লক্ষ্য একটাই—রাজ্যের প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে যেন নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্পন্ন হয়। সেই উদ্দেশ্যেই এবার নজিরবিহীন সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রতিটি বুথে ওয়েব কাস্টিং চালু করার ঘোষণা করা হয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্ত ঘিরে সাধারণ মানুষের মনে তৈরি হওয়া নানা সংশয় দূর করতে কমিশনের তরফে স্পষ্ট বার্তা দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনে (West Bengal Assembly Election)ওয়েব কাস্টিং নিয়ে বিভ্রান্তি দূর করে কী জানাল কমিশন?

বিধানসভা নির্বাচন যাতে নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়, তা নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশন বড় পদক্ষেপ নিয়েছে। কমিশনের তরফে বার্তা দিয়ে জানানো হয়েছে, এবারের নির্বাচনে রাজ্যের সমস্ত বুথে ১০০% ওয়েব কাস্টিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। কিন্তু এই প্রযুক্তি নিয়ে কিছু বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে বলেই অভিযোগ। এই অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক অরিন্দম নিয়োগী বুধবার একটি বিস্তারিত বিবৃতি দিয়ে বিভ্রান্তি দূর করার চেষ্টা করেন।

কমিশনের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কিছু ব্যক্তি ও গোষ্ঠী ইচ্ছাকৃতভাবে ওয়েবকাস্টিং নিয়ে ভুল তথ্য প্রচার করছেন যার ফলে আতঙ্কিত হচ্ছেন ভোটাররা। এমন ব্যক্তিদের মন্তব্য নজরে এসেছে কমিশনের। অনেকেই আশঙ্কা করছেন ক্যামেরার উপস্থিতিতে তাদের ভোটদানের গোপনীয়তা বিঘ্নিত হতে পারে। কমিশন জনসাধারণকে আশ্বস্ত করে বলেন,”আপনার দেওয়া ভোট শুধুমাত্র আপনিই জানবেন।”এই প্রসঙ্গে কমিশনের কথায় কোন ভোটারের ভোটদানের গোপনীয়তা নষ্ট হবে না।

নির্বাচনী আবহে কমিশনের নজরদারিতে যেমন জোরদার হয়েছে তেমনই প্রশ্ন উঠছে এই নজরদারির আসল উদ্দেশ্য কি? নির্বাচন কমিশনের পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে দুই থেকে তিনটি করে ক্যামেরা স্থাপন করা হবে। এই ক্যামেরাগুলি বুথের ভিতর ও আশপাশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উপর নজরদারি রাখবে। কোনো অশান্তি বা অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটলে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া যায় সেটাই আসল লক্ষ্য। এই নজরদারির ফলে প্রতিটি বুথকে সরাসরি কমিশনের তত্ত্বাবধানে নিয়ে আসা যাবে।

কমিশন আরও জানিয়েছে, এই ক্যামেরাগুলি কখনোই ভোটদানের নির্দিষ্ট প্রক্রিয়ার দিকে ফোকাস করবে না। এগুলি শুধুমাত্র নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখার কাজে ব্যবহৃত হবে। স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে কমিশন ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি গ্রহণ করেছে, যাতে প্রত্যেক ভোটার চিন্তামুক্ত হয়ে তাদের গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করতে পারেন।

Commission cleared up confusion about web casting on west bengal assembly election

আরও পড়ুন : পাঁচ বছরে কমেছে সম্পত্তি, নেই গাড়ি-বাড়ি, কত টাকার মালিক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়‌?

প্রযুক্তির ব্যবহার করে ভোট প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ ও নিরাপদ করার দিকেই এগোচ্ছে নির্বাচন কমিশন। তাই অযথা বিভ্রান্তিতে কান না দিয়ে ভোটারদের নির্ভয়ে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। গণতন্ত্রের এই উৎসবে অংশ নেওয়ার সময় গোপনীয়তা সম্পূর্ণ সুরক্ষিত থাকবে—এই আশ্বাসই দিচ্ছে কমিশন।