বিশ্বজুড়ে নতুন উদ্বেগ! একের পর এক মিসাইল ছুঁড়ছে উত্তর কোরিয়া, কী পরিকল্পনা কিম জং-উনের?

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ফের বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়াল কিম জং উনের নেতৃত্বাধীন উত্তর কোরিয়া (North Korea)। রবিবার সকালে দেশটির সেনাবাহিনী আরও একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ করেছে, যা পূর্ব এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতিকে নতুন করে উত্তপ্ত করে তুলেছে। চলতি বছরে এটি সপ্তম এবং শুধু এপ্রিল মাসেই চতুর্থ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা, যা পিয়ংইয়ংয়ের ক্রমবর্ধমান সামরিক আগ্রাসনের স্পষ্ট ইঙ্গিত বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। এই ঘটনার পরই জাপান ও দক্ষিণ কোরিয়া নিরাপত্তা জোরদার করে হাই অ্যালার্ট জারি করেছে।

উত্তর কোরিয়ার (North Korea) একের পর এক মিসাইল ছোঁড়া নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি জানিয়েছেন, তাঁর দেশ যে কোনও পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুত এবং প্রতিটি গতিবিধির উপর কড়া নজর রাখা হচ্ছে। সংবাদ সংস্থা ANI-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, উত্তর কোরিয়ার পূর্ব উপকূলীয় শহর সিনপো থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বলে মনে করছে টোকিও। ভোর প্রায় ৬টার সময় ছোঁড়া এই ক্ষেপণাস্ত্র জাপানের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের বাইরে গিয়ে পড়েছে। যদিও সরাসরি ক্ষয়ক্ষতি হয়নি, তবে উৎক্ষেপণের ধরণ ও প্রযুক্তি নিয়ে গভীর উদ্বেগ তৈরি হয়েছে নিরাপত্তা মহলে।

আরও পড়ুন:হরমুজের কাছে ভারতীয় ট্যাঙ্কারে কেন গুলি চালাল ইরান? কী জানালেন তেহরানের দূত?

রাষ্ট্রসংঘের কঠোর নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও উত্তর কোরিয়া তার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক নিয়মকে কার্যত উপেক্ষা করেই পিয়ংইয়ং আত্মরক্ষার যুক্তিতে এই পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ। এই পরিস্থিতি আরও তাৎপর্যপূর্ণ, কারণ আগামী মাসেই চিনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের মাধ্যমে উত্তর কোরিয়া নিজেদের সামরিক শক্তি প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে চাপ সৃষ্টি করতে চাইছে।

ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের খবর পাওয়ার পরই জাপান সরকার জরুরি বৈঠক ডেকে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর করেছে। প্রশাসনের তরফে বিভিন্ন দফতরকে দ্রুত তথ্য সংগ্রহের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং সাধারণ মানুষের কাছে সঠিক তথ্য পৌঁছে দিতে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজ এবং আকাশপথে উড়ন্ত বিমানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও কঠোর নির্দেশ জারি করা হয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়াও একইভাবে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।

Concern over multiple missile launches of North Korea

আরও পড়ুন:ছিলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট! ৫ বারের চেষ্টায় UPSC-তে ৩৭ তম স্থান অর্জন করে নজির সাক্ষীর

এই ঘটনার পর জাপান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং দক্ষিণ কোরিয়ার মধ্যে কূটনৈতিক স্তরে আলোচনা শুরু হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্রের ক্ষমতা, প্রযুক্তি এবং উত্তর কোরিয়ার (North Korea) প্রকৃত উদ্দেশ্য খতিয়ে দেখা হচ্ছে যৌথভাবে। আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার সতর্কবার্তায়ও বলা হয়েছে, উত্তর কোরিয়ার পরমাণু সক্ষমতা আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। সব মিলিয়ে, কিম জং উনের এই পদক্ষেপ বিশ্ব রাজনীতিতে নতুন করে অস্থিরতা বাড়িয়েছে এবং আগামী দিনে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, সেটাই এখন নজরে আন্তর্জাতিক মহলের।