বাংলাহান্ট ডেস্ক: অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর ধৈর্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন রাজস্থানের টঙ্কের বাসিন্দা সাক্ষী জৈন। পাঁচবার UPSC পরীক্ষা দেওয়ার পর অবশেষে পঞ্চম প্রচেষ্টায় তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য (Success Story) অর্জন করেছেন। চারবার প্রিলিমিনারি ও মেইনস পেরিয়ে ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছেও শেষ সাফল্য হাতছাড়া হয়েছিল। কিন্তু হাল না ছেড়ে নিজের লক্ষ্যেই স্থির থেকেছেন তিনি, আর সেই জেদই তাঁকে এনে দিয়েছে ৩৭ তম স্থান।
সাক্ষী জৈনের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):
একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সাক্ষী পেশায় একজন চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্ট ছিলেন এবং Barclays-এর মতো প্রতিষ্ঠানে আর্থিক বিশ্লেষক হিসেবে কাজ করতেন। স্থিতিশীল ও সফল কর্পোরেট কেরিয়ার থাকা সত্ত্বেও তাঁর মনে হয়েছিল, সমাজের মানুষের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত হয়ে কাজ করার মধ্যেই প্রকৃত তৃপ্তি রয়েছে। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি সিভিল সার্ভিসে যোগ দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
আরও পড়ুন: হরমুজের কাছে ভারতীয় ট্যাঙ্কারে কেন গুলি চালাল ইরান? কী জানালেন তেহরানের দূত?
কোভিড মহামারির সময় থেকেই তিনি ইউপিএসসি পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। অনলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে নিয়মিত পড়াশোনা চালিয়ে যান এবং ঐচ্ছিক বিষয় হিসেবে কমার্স অ্যান্ড অ্যাকাউন্টেন্সি বেছে নেন। ২০২১ সালে প্রথমবার পরীক্ষায় বসেন, যদিও সেই বছর সাফল্য আসেনি। তবে ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রতিবারই তিনি প্রিলিমিনারি ও মেইনস উত্তীর্ণ হয়ে ইন্টারভিউ পর্যন্ত পৌঁছান, যা তাঁর ধারাবাহিক পরিশ্রমেরই প্রমাণ।
পঞ্চম প্রচেষ্টায় তিনি শুধু সফলই হননি, বরং মেধাতালিকায় ৩৭তম স্থান অর্জন করেছেন। উল্লেখযোগ্য বিষয়, ওই বছরে ইন্টারভিউ বোর্ডে তিনি শেষ প্রার্থী ছিলেন। তবুও আত্মবিশ্বাস হারাননি এবং নিজের সেরাটা তুলে ধরেই কাঙ্ক্ষিত ফল পান। তাঁর এই সাফল্য প্রমাণ করে যে অধ্যবসায় ও আত্মবিশ্বাস থাকলে কোনও লক্ষ্যই অধরা থাকে না।

আরও পড়ুন: ‘থানায় আত্মসমর্পণ করুন’, বাঁকুড়ার সভা থেকে কাকে হুঁশিয়ারি মোদীর?
তবে এই সাফল্যের (Success Story) দীর্ঘ যাত্রা একেবারেই সহজ ছিল না। প্রস্তুতির সময় তাঁকে নানা ব্যক্তিগত ও শারীরিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হয়েছে। সেই কঠিন সময়ে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতা বজায় রাখতে নিয়মিত যোগব্যায়াম ও হাঁটাহাঁটি করতেন তিনি। ভবিষ্যতে তিনি বিশেষ করে মহিলাদের মধ্যে আর্থিক স্বাক্ষরতা বাড়ানোর জন্য কাজ করতে চান। তাঁর মতে, সমাজে এখনও আর্থিক শিক্ষার অভাব রয়েছে, আর সেই ক্ষেত্রেই পরিবর্তন আনার লক্ষ্য নিয়েই তিনি এগোতে চান।












