বাংলাহান্ট ডেস্ক: পাকিস্তানের (Pakistan) রাজনীতিতে আবারও সেনা অভ্যুত্থানের জল্পনা মাথাচাড়া দিতে শুরু করেছে। এর নেপথ্যে রয়েছে সে দেশের অভ্যন্তরীণ মন্ত্রী মহসিন নকভির সাম্প্রতিক কয়েকটি মন্তব্য, যা রাজনৈতিক মহলে ব্যাপক আলোচনা তৈরি করেছে। সম্প্রতি তিনি দাবি করেন, পাকিস্তানের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় দুর্নীতির ঘটনা ঘটেছে এবং সেই দুর্নীতির সঙ্গে প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরের প্রভাবশালী ব্যক্তিরা জড়িত। তাঁর বক্তব্যে বিচারপতি, আমলা, রাজনীতিবিদ এবং ব্যাঙ্কারদের নাম উঠে এলেও সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটি কথাও শোনা যায়নি। এই বিষয়টিকেই বিশেষভাবে গুরুত্ব দিচ্ছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। তাঁদের মতে, নকভির বক্তব্য পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষমতার সমীকরণে নতুন ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে উল্লেখযোগ্যভাবে, সেনা অভ্যুত্থান বা সরকার পরিবর্তনের বিষয়ে এখনও কোনও সরকারি ঘোষণা বা নিশ্চিত তথ্য সামনে আসেনি; বিষয়টি মূলত রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের বিশ্লেষণ ও জল্পনার উপর ভিত্তি করে আলোচনা হচ্ছে।
পাকিস্তানে (Pakistan) শরিফ সরকারের পরিবর্তে এবার ফের সেনা অভ্যুত্থানের ইঙ্গিত
এর আগেও মহসিন নকভি পাকিস্তানের প্রশাসনিক ব্যবস্থাকে কার্যত ভেঙে পড়া বলে মন্তব্য করেছিলেন। এবার আরও এক ধাপ এগিয়ে তিনি বলেছেন, দেশের ইতিহাসে এত বড় দুর্নীতি আগে কখনও হয়নি। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন ধরে ঘুষ ও দুর্নীতির সংস্কৃতি প্রশাসনের বিভিন্ন স্তরে ছড়িয়ে পড়েছে এবং সাধারণ মানুষও সেই বাস্তবতার কথা জানেন। নকভির বক্তব্য অনুযায়ী, দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে তাঁর এই অভিযোগে সেনাবাহিনীর কোনও কর্মকর্তার নাম না থাকায় রাজনৈতিক মহলে নানা ব্যাখ্যা উঠে আসছে। অনেকের মতে, এই অবস্থান সেনাবাহিনীর প্রতি তাঁর আস্থার ইঙ্গিত হতে পারে, আবার অন্যদের মতে, এটি পাকিস্তানের বর্তমান ক্ষমতার ভারসাম্যকে মাথায় রেখেই করা রাজনৈতিক কৌশল।
আরও পড়ুন: বিরাট সাফল্য, ৭ বছরে ভারতে ফেরানো হয়েছে ২৭৪ জন ফেরার অভিযুক্তকে! কী জানাল কেন্দ্র?
পাকিস্তানের ইতিহাসে সেনা হস্তক্ষেপ নতুন নয়। ১৯৫৮ সালে ফিল্ড মার্শাল আইয়ুব খান, ১৯৭৭ সালে জেনারেল মহম্মদ জিয়া-উল-হক এবং ১৯৯৯ সালে জেনারেল পারভেজ মোশাররফ সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের ক্ষমতা দখল করেছিলেন। সেই ইতিহাসের কারণেই বর্তমান পরিস্থিতিকে অনেকেই গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, রাজনৈতিক অস্থিরতা, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং দুর্নীতির অভিযোগ যদি আরও তীব্র হয়, তাহলে সেনাবাহিনীর ভূমিকা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হতে পারে। যদিও এখনও পর্যন্ত পাকিস্তানের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে সরকার দখল বা রাজনৈতিক হস্তক্ষেপের কোনও আনুষ্ঠানিক ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
মহসিন নকভি এবং পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনিরের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক নিয়েও দীর্ঘদিন ধরেই আলোচনা রয়েছে। বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক ও কূটনৈতিক উদ্যোগে তাঁদের একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগগুলিতেও নকভির উপস্থিতি রাজনৈতিক মহলের নজর কেড়েছে। এই প্রেক্ষাপটে অনেক রাজনৈতিক বিশ্লেষকের ধারণা, ভবিষ্যতের ক্ষমতার সমীকরণে নকভি নিজের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন। এমনও মত রয়েছে যে, দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি আরও জটিল হলে তিনি সেনাবাহিনীর সমর্থনকে গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে চাইতে পারেন। তবে এসবই রাজনৈতিক বিশ্লেষণ; এ বিষয়ে কোনও সরকারি বা স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য এখনও প্রকাশ্যে আসেনি।

আরও পড়ুন: বাসচালকের ছেলে হওয়ায় শুনতে হয়েছে কটূক্তি! ক্যাফেতে কাজ করে কঠোর পরিশ্রমে IAS হলেন মইন
বর্তমানে পাকিস্তানে (Pakistan) প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের সরকার ক্ষমতায় থাকলেও, অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক টানাপোড়েন, দুর্নীতির অভিযোগ এবং প্রশাসনিক সংকট নিয়ে বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে। মহসিন নকভির সাম্প্রতিক মন্তব্য সেই বিতর্ককে আরও উসকে দিয়েছে এবং সেনা অভ্যুত্থানের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বাস্তবে পাকিস্তানে আবার সামরিক শাসন ফিরবে কি না, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দিনে সরকার, বিরোধী শিবির এবং সেনাবাহিনীর অবস্থানের উপরই নির্ভর করবে পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়। তাই আপাতত এই জল্পনার দিকে নজর থাকলেও, ভবিষ্যতের ঘটনাপ্রবাহই শেষ পর্যন্ত প্রকৃত চিত্র স্পষ্ট করবে।

















