বাংলাহান্ট ডেস্ক: ২০১৯ থেকে ২০২৬—মাত্র সাত বছরের ব্যবধানে বিশ্বের ৩৬টি দেশ থেকে মোট ২৭৪ জন পলাতক অভিযুক্তকে ভারতে (India) ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে দাবি করেছে কেন্দ্রীয় সরকার। মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় সরকারের শীর্ষ সূত্রের বক্তব্য উদ্ধৃত করে PIB-তে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এই তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। সরকারের দাবি, কড়া আইন, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং বিভিন্ন তদন্তকারী সংস্থার মধ্যে সমন্বয় জোরদার হওয়ায় প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য সাফল্য মিলেছে। পাশাপাশি, পলাতক অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে আর্থিক পদক্ষেপও জোরদার করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সরকারের মতে, গত কয়েক বছরে যে পরিবর্তন এসেছে, তা দেশের অপরাধ দমন ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করে তুলেছে।
৭ বছরে ভারতে (India) ফেরানো হয়েছে ২৭৪ জন ফেরার অভিযুক্তকে! কী জানাল কেন্দ্র?
কেন্দ্রের দাবি অনুযায়ী, একসময় পরিস্থিতি সম্পূর্ণ ভিন্ন ছিল। ২০০৪ থেকে ২০১৩ সালের মধ্যে গড়ে বছরে মাত্র চারজন পলাতক অভিযুক্তকে দেশে ফিরিয়ে আনা সম্ভব হয়েছিল। তখন মাত্র ৩৭টি দেশের সঙ্গে ভারতের (India) প্রত্যর্পণ চুক্তি কার্যকর ছিল এবং বিদেশে পালিয়ে যাওয়া অর্থনৈতিক অপরাধীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য নির্দিষ্ট কোনও আইনও ছিল না। ২০১৮ সালে ফিউজিটিভ ইকোনমিক অফেন্ডার্স আইন কার্যকর হওয়ার পর পরিস্থিতির বদল শুরু হয়। এরপর ২০১৯ সালে সংশোধিত এনআইএ আইন এবং ইউএপিএ কার্যকর হওয়ায় তদন্তকারী সংস্থাগুলির ক্ষমতা আরও বৃদ্ধি পায়। সরকারের বক্তব্য, এই ধারাবাহিক আইনি সংস্কারের ফলেই আন্তর্জাতিক স্তরে পলাতক অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়েছে।
আরও পড়ুন: বাসচালকের ছেলে হওয়ায় শুনতে হয়েছে কটূক্তি! ক্যাফেতে কাজ করে কঠোর পরিশ্রমে IAS হলেন মইন
শুধু আইনি কাঠামো নয়, প্রযুক্তির ব্যবহারও এই সাফল্যের অন্যতম কারণ বলে দাবি করেছে কেন্দ্র। সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে চালু হওয়া ‘ভারতপোল’ (BHARATPOL) প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সিবিআই, বিভিন্ন রাজ্যের পুলিশ এবং কেন্দ্র ও রাজ্যের ১,৪০০-রও বেশি সংস্থা একই প্ল্যাটফর্মে যুক্ত হয়েছে। ফলে তথ্য আদান-প্রদানের গতি বেড়েছে এবং তদন্ত ও প্রত্যর্পণের প্রক্রিয়া অনেক দ্রুত হয়েছে। পাশাপাশি ‘অপারেশন ত্রিশূল’-এর আওতায় স্যাটেলাইট তথ্য, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য বিশ্লেষণ করে বিদেশে নাম-পরিচয় বদলে আত্মগোপন করে থাকা একাধিক পলাতকের সন্ধান পাওয়া গেছে বলেও সরকারের দাবি। একই সঙ্গে গত তিন বছরে ৪০১ জন পলাতক অপরাধীর বিরুদ্ধে ইন্টারপোলের রেড কর্নার নোটিস জারি হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বৃদ্ধিরই ইঙ্গিত বলে মনে করছে কেন্দ্র।
আর্থিক অপরাধ দমনের ক্ষেত্রেও উল্লেখযোগ্য সাফল্যের দাবি করেছে সরকার। মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন (PMLA)-এর আওতায় ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে মোট ১৭ হাজার ৮৭৪ কোটি টাকার সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। একই সময়ে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ১৮ হাজার ৭৬২ কোটি টাকার অর্থ ও সম্পদ উদ্ধার করে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে। সরকারের মতে, শুধুমাত্র পলাতকদের দেশে ফিরিয়ে আনা নয়, অপরাধের মাধ্যমে অর্জিত সম্পত্তির উপরও কঠোর নজরদারি চালানো হচ্ছে, যাতে অর্থনৈতিক অপরাধীদের আর্থিক সুবিধা পুরোপুরি নষ্ট করা যায়।

আরও পড়ুন: Old Monk থেকে শুরু করে Bagpiper! একাধিক জনপ্রিয় সুরা বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা, বড় পদক্ষেপ FSSAI-র
তবে এই সমস্ত পরিসংখ্যান ও সাফল্যের খতিয়ান কেন্দ্রীয় সরকারের দাবি এবং সরকারি তথ্যের ভিত্তিতেই প্রকাশ করা হয়েছে। কেন্দ্রের বক্তব্য, আইনগত সংস্কার, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, প্রযুক্তিনির্ভর তদন্ত এবং বিভিন্ন সংস্থার সমন্বিত উদ্যোগের ফলেই গত সাত বছরে প্রত্যর্পণ এবং অর্থনৈতিক অপরাধ দমনে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। সরকারের মতে, ভবিষ্যতেও বিদেশে আত্মগোপন করে থাকা পলাতক অভিযুক্তদের দেশে ফিরিয়ে আনা এবং তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা আরও জোরদার করার কাজ একইভাবে চলবে (India)।

















