বাসচালকের ছেলে হওয়ায় শুনতে হয়েছে কটূক্তি! ক্যাফেতে কাজ করে কঠোর পরিশ্রমে IAS হলেন মইন

Published on:

Published on:

Success Story of Moin Ahamd Mansoori will amaze you.
Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: আজ বলব এক অদম্য জেদের বশে সাফল্য (Success Story) অর্জনের কাহিনি। বাসচালকের ছেলে বলে একসময় কটাক্ষ শুনতে হয়েছে। সংসারের অভাব মেটাতে পড়াশোনার পাশাপাশি সাইবার ক্যাফেতে কাজ করতে হয়েছে। তবু স্বপ্ন থেকে একচুলও সরেননি মইন আহমেদ মনসুরি। আর সেই অদম্য ইচ্ছাশক্তি, কঠোর পরিশ্রম এবং আত্মবিশ্বাসই তাঁকে পৌঁছে দিয়েছে দেশের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ প্রশাসনিক পরিষেবায়। ২০২২ সালের UPSC সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় সাফল্য অর্জন করে তিনি পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার হন। তাঁর জীবনসংগ্রামের গল্প আজ শুধু একটি সাফল্যের কাহিনি নয়, বরং হাজার হাজার স্বপ্ন দেখা তরুণ-তরুণীর কাছে এক বড় অনুপ্রেরণা।

মইন আহমেদ মনসুরির অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story):

মইনের বেড়ে ওঠা একটি সাধারণ নিম্নবিত্ত পরিবারে। তাঁর বাবা বাসচালক হিসেবে কাজ করে সংসার চালাতেন। সীমিত আয়ের কারণে পরিবারের প্রতিটি খরচই ছিল হিসেব কষে চলার মতো। তবুও ছেলের পড়াশোনার ক্ষেত্রে কোনও আপস করেননি তাঁর বাবা-মা। পরিবারের আর্থিক চাপ কমাতে মইন নিজেও এগিয়ে আসেন। পড়াশোনার পাশাপাশি একটি সাইবার ক্যাফেতে কাজ করে নিজের খরচের কিছুটা জোগাড় করতেন এবং সংসারেও সাহায্য করতেন। ছোট থেকেই তিনি বুঝে গিয়েছিলেন, জীবনে বড় কিছু করতে গেলে পরিস্থিতির সঙ্গে লড়াই করতেই হবে। সেই উপলব্ধিই তাঁকে আরও দৃঢ় করে তোলে (Success Story)।

আরও পড়ুন: ‘১০০ শতাংশ বিশুদ্ধ’, ক্রেতাদের ভুল বুঝিয়ে বিপাকে Dabur, ঘি-মধুসহ একাধিক পণ্যের ওপর নিষেধাজ্ঞা

স্নাতক স্তরের পড়াশোনা শেষ করার পর তিনি UPSC পরীক্ষার প্রস্তুতি শুরু করেন। কিন্তু এই সিদ্ধান্তকে ঘিরে চারপাশে উৎসাহের চেয়ে উপহাসই ছিল বেশি। অনেকেই বলতেন, একজন বাসচালকের ছেলে এত বড় স্বপ্ন দেখছে কেন! কেউ আবার ভবিষ্যদ্বাণী করতেন, শেষ পর্যন্ত বাবার মতোই সাধারণ পেশায় যোগ দিতে হবে। এসব মন্তব্য যে কোনও তরুণের আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে দিতে পারত। কিন্তু মইন সেগুলিকে অপমান হিসেবে নয়, নিজেকে প্রমাণ করার প্রেরণা হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, মানুষের পরিচয় তার পারিবারিক পেশায় নয়, নিজের যোগ্যতা ও পরিশ্রমে তৈরি হয়।

UPSC পরীক্ষায় সাফল্য প্রথমবারেই আসেনি। একাধিক প্রচেষ্টায় ব্যর্থ হতে হয়েছে তাঁকে। কিন্তু প্রতিটি ব্যর্থতার পর তিনি নতুন করে নিজের প্রস্তুতি বিশ্লেষণ করেছেন, ভুল শুধরে আরও কঠোর পরিশ্রম করেছেন। ধৈর্য এবং আত্মবিশ্বাস হারাননি কখনও। অবশেষে চতুর্থ প্রচেষ্টায় তিনি কাঙ্ক্ষিত সাফল্য অর্জন করেন। ২০২২ সালের ইউপিএসসি সিভিল সার্ভিস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পশ্চিমবঙ্গ ক্যাডারের আইএএস অফিসার হিসেবে নির্বাচিত হন। দীর্ঘ দিনের সংগ্রাম, পরিবারের ত্যাগ এবং নিজের অদম্য ইচ্ছাশক্তির ফল মিলেছিল সেই সাফল্যের মধ্য দিয়েই।

Success Story of Moin Ahamd Mansoori will amaze you.

আরও পড়ুন: WhatsApp-একী কাণ্ড! আন্ডার রিভিউর পর আচমকাই বন্ধ বহু অ্যাকাউন্ট, ক্ষুব্ধ ব্যবহারকারীরা

মইন আহমেদ মনসুরির জীবন আজ প্রমাণ করে, স্বপ্ন পূরণের পথে সবচেয়ে বড় বাধা অভাব নয়, বরং হাল ছেড়ে দেওয়া। সমাজ কী বলছে, মানুষ কী ভাবছে বা আপনার পারিবারিক পরিচয় কী, এসব কোনও কিছুই শেষ কথা নয়। গুরুত্বপূর্ণ হলো নিজের লক্ষ্যকে কতটা নিষ্ঠার সঙ্গে অনুসরণ করা যায়। বাসচালকের ছেলে থেকে IAS অফিসার হয়ে ওঠার এই যাত্রা দেখিয়ে দিয়েছে, কঠোর পরিশ্রম, অধ্যবসায় এবং আত্মবিশ্বাস থাকলে অসম্ভব বলেও কিছু থাকে না। তাই আজ তাঁর গল্প শুধুই ব্যক্তিগত সাফল্যের (Success Story) নয়, বরং প্রতিটি স্বপ্নবাজ মানুষের জন্য আশার আলো এবং এগিয়ে চলার অনুপ্রেরণা।