বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারত। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারত কিছু রাসায়নিক এবং লোহা ও ইস্পাত পণ্যসহ ৪ টি পণ্যের ওপর গত জুলাই মাস থেকে আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের (Anti-dumping Duty) মেয়াদ বাড়িয়েছে। এই প্রসঙ্গে অর্থ মন্ত্রকের পৃথক বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, সরকার আরও একটি পণ্যের ওপর নতুন অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। মূলত, অস্ট্রেলিয়া থেকে শুরু করে চিন, কলম্বিয়া, ইন্দোনেশিয়া, জাপান ও রাশিয়া থেকে আমদানিকারীরা ‘লো অ্যাশ মেটালার্জিক্যাল কোক’ (তাপের উৎস হিসাবে ব্যবহৃত কোক)-এর ওপর ৫ বছরের জন্য অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে ভারত (India)। জানিয়ে রাখি যে, বাণিজ্য মন্ত্রকের তদন্তকারী শাখা, ডিরেক্টরেট জেনারেল অফ ট্রেড রেমেডিস তথা DGTR-এর সুপারিশের ভিত্তিতে অর্থ মন্ত্রক এই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। এই সংক্রান্ত বিজ্ঞপ্তি সেন্ট্রাল বোর্ড অফ ইনডাইরেক্ট ট্যাক্সেস অ্যান্ড কাস্টমস তথা CBIC (Central Board of Indirect Taxes and Customs) দ্বারা জারি করা হয়। অ্যারাইলাইড, লোহা, অপরিশোধিত ফিউমড সিলিকা, সংকর বা অ-সংকর ইস্পাত দ্বারা নির্মিত সিমলেস টিউব, পাইপ ও ফাঁপা প্রোফাইল এবং নরমাল বিউটানলের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে।
বাড়ানো হল অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্কের (Anti-dumping Duty) মেয়াদ:
ডাম্পিং অব্যাহত ছিল: উল্লেখ্য যে, রঙ, প্রসাধনী এবং ঔষধ শিল্পে ব্যবহৃত সিলিকা, রঞ্জক ও প্রিন্টিং কালিতে ব্যবহৃত অ্যারাইলাইড এবং নির্দিষ্ট কিছু লোহা ও অ-সংকর ইস্পাত পণ্য কয়েকটি চিনা কোম্পানি দ্বারা ক্রমাগত ডাম্পিং করা হচ্ছিল। এদিকে, প্রসাধনী এবং সুগন্ধি শিল্পে ব্যবহৃত নরমাল বিউটানল মালয়েশিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা এবং আমেরিকা থেকে কম দামে আমদানি করা হচ্ছিল। একটি বিজ্ঞপ্তি অনুসারে, ‘অপরিশোধিত ফিউমড সিলিকা’ আমদানির ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক ১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৭ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এছাড়াও, অ্যারিলাইডের ওপর এই শুল্ক আগামী বছরের ১৩ জানুয়ারি পর্যন্ত এবং লোহা ও ইস্পাত পণ্যের ওপর ২০২৭ সালের ২৭ জানুয়ারি পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। মেটালার্জিক্যাল কোকের ওপর আরোপিত অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক প্রতি টনে ৪২.৯৫ ডলার থেকে ১২৮.৮৩ ডলার পর্যন্ত হয়ে থাকে।

এর পাশাপাশি সাধারণ বিউটানলের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক ৫ বছরের জন্য বাড়ানো হয়েছে। মূলত, সস্তা আমদানির আকস্মিক বৃদ্ধি দেশীয় শিল্পের ক্ষতি করছে কিনা, তা নির্ধারণ করতে দেশগুলি অ্যান্টি-ডাম্পিং তদন্ত পরিচালনা করে। এর জবাবে তারা জেনেভায় স্থিত বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা তথা WTO-র বহুপাক্ষিক কাঠামোর অধীনে অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করে।
আরও পড়ুন: HDFC ব্যাঙ্কের বড় উপহার! মহিলা এবং প্রবীণদের জন্য লঞ্চ হল বিশেষ অ্যাকাউন্ট, মিলবে দুর্দান্ত সুবিধা
ইতিমধ্যেই অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করা হয়েছে: চিনসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা সস্তা আমদানি মোকাবিলায় ভারত এর আগেও বেশ কিছু পণ্যের ওপর অ্যান্টি-ডাম্পিং শুল্ক আরোপ করেছে। DGTR-এর উদ্দেশ্য হল, কাস্টমস আইন এবং WTO-র বিধান অনুযায়ী স্বচ্ছ ও সময়োপযোগী তদন্তের মাধ্যমে ডাম্পিং ও ভর্তুকির মতো বাণিজ্য-বিকৃতকারী প্রভাব থেকে দেশীয় শিল্পকে রক্ষা করা এবং সরকারকে প্রয়োজনীয় শুল্ক আরোপের সুপারিশ করা।
আরও পড়ুন: ভারতের অটোমোবাইল সেক্টর পাবে আরও গতি! ৪,০০০ কোটির পরিকল্পনা প্রস্তুত কেন্দ্রের
মূলত, এই শুল্কের উদ্দেশ্য হল ন্যায্য বাণিজ্য ব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং দেশীয় উৎপাদক ও বিদেশি উৎপাদক এবং রফতানিকারীদের মধ্যে একটি সমান প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা। ভারতসহ এই সব দেশই বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার সদস্য।

















