কপাল! ‘দু’পয়সার সাংবাদিক’ বিতর্কের এক বছর পর একই দিনে সাংসদ পদ খোয়ালেন মহুয়া

বাংলা হান্ট ডেস্ক : গত বছর এরকমই সময়ে সাংবাদিকদের সম্বন্ধে বেঁফাস মন্তব্য করে বিতর্কে জড়িয়েছিলেন মহুয়া মৈত্র (Mahua Moitra)। সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তার মন্তব্য ‘দু পয়সার প্রেস’ নিয়ে উত্তাল হয়ে উঠেছিল রাজ্যের রাজনৈতিক মহল। সেই সাথে মহুয়ার বিরুদ্ধে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে রাজ্যের প্রেস ক্লাবও। আর এবার সেই মহুয়াকেই সাংসদ পদ থেকে বহিষ্কার করা হল।

   

গতবছর একটি কর্মীসভায় গিয়ে মহুয়া সবাইকে বলেন মোবাইল রেকর্ডিং না করতে। তবে আচমকা এক সাংবাদিককে দেখে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেছিলেন তিনি। সেই সময় মহুয়া বলে ওঠেন ‘কে এই দু’পয়সার প্রেসকে ভেতরে ডাকে? কর্মী বৈঠক হচ্ছে। আর সবাই টিভিতে মুখ দেখাতে ব্যস্ত। আমি নির্দেশ দিচ্ছি, প্রেসকে সরান’। তারপর থেকেই প্রতিবাদমুখর হয়ে ওঠে রাজ্যের সাংবাদিকরা।

তার ঠিক এক বছর পরেই ঘুষের বিনিময়ে সংসদে প্রশ্ন করার (Cash For Query) অভিযোগে এথিক্স কমিটির (Ethics Committee) সুপারিশে লোকসভা থেকে বহিষ্কৃত হতে হল মহুয়া মৈত্রকে। যদিও সাংসদ পদ খোয়ানোর পরেও মহুয়ার মেজাজে কোনও পরিবর্তন আসেনি। সংসদ থেকে বেরিয়ে সাফ জানিয়েদিলেন, ফের সংসদে ফিরে আসবেন তিনি।

আরও পড়ুন : বিয়ের মরশুমে বড় খবর! সোনার দামে বিরাট পতন, সস্তা হল রুপো! জানুন আজ কততে বিক্রি হচ্ছে হলুদ ধাতু

সেই সাথে তিনি এটাও জানিয়ে দেন, ‘বিজেপির শেষের শুরু হল এখান থেকেই’। সেই সাথে আগামী ৩০ বছর লোকসভার ভিতরে এবং বাইরে লড়াই করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তৃণমূলের বহিষ্কৃত সাংসদ। তারপর থেকেই দেশের বিভিন্ন স্তরের মানুষ মহুয়ার সমালোচনায় মুখর হয়ে উঠেছেন। নেটিজনদের মতে, মহুয়ার এই কথাবার্তায় কেবল অহং এবং ঔদ্ধত্য প্রকাশ পায়। তবে ইতিহাস সাক্ষী আছে, ঔদ্ধত্যই মানুষের পতন ডেকে আনে।

আরও পড়ুন : বাংলা হান্টের খবরে সিলমোহর! খারিজ মহুয়া মৈত্রর সাংসদ পদ, বড় ধাক্কা তৃণমূলে

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, আজ ৮ ডিসেম্বর বেলা ১২ টা নাগাদ লোকসভা কক্ষে একটি ৪৯৫ পৃষ্টার রিপোর্ট জমা দিয়েছিল এথিক্স কমিটি। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই মহুয়ার সাংসদ পদ খারিজ করার দাবি ওঠে। যদিও রিপোর্ট পেশ হওয়া মাত্রই হইচই শুরু হয়ে যায় সংসদ ভবনে। তৃণমূলের তরফ থেকে রিপোর্ট পড়ার জন্য সময়ও চাওয়া হয়। তবে স্পিকার সেই আর্জি খারিজ করে দেন। এমনকি এইদিন সংসদ ভবনে মহুয়াকেও আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনও সুযোগ তিনি দেননি। অতীতের দৃষ্টান্ত টেনে তিনি জানান, আগেও এই ধরনের ঘটনায় অভিযুক্ত সদস্য কিছু বলার সুযোগ পাননি। যদিও মহুয়ার এই দুঃসময়ে পাশে দাঁড়িয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।