সতর্ক থাকুন, কলকাতায় ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ আতঙ্কে ৩ কোটি টাকা যেভাবে খোয়ালেন দম্পতি…

Published on:

Published on:

Cyber ​​fraud worth crores of rupees in Kolkata
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক:খাস কলকাতায় (Kolkata) কোটি কোটি টাকার জালিয়াতি, তবে নতুন মডেল নয়, পুরনো ছোট বোতামের ফোন ব্যবহার করেই অভিনব কায়দায় জালিয়াতি। ধরা পড়েছে জালিয়াত চক্রের মূল পান্ডা। লালবাজারের সাইবার ক্রাইম (Cyber Crime) ব্রাঞ্চ সাফল্যের সাথে ঘটনার তদন্ত করে মূল অভিযুক্তকে গ্রেফতার করেছে।

খাস কলকাতায় (Kolkata) কোটি কোটি টাকার সাইবার জালিয়াতি

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে অক্টোবর মাস থেকে এই ঘটনার সূত্রপাত। শহরের প্রবীণ দম্পতির কাছে কুরিয়ার সংস্থার কর্মী সেজে এক ব্যক্তি প্রথমে ফোন করে জানায় যে, ওই দম্পতির নামে পার্সেল এসছে। কিন্তু পার্সেল এর ভিতর আছে বেআইনি সামগ্রী। তার জন্য সিবিআই ও ইডি তদন্ত শুরু করেছে। কিছুক্ষণ পর অমিত কুমার নামে এক ব্যক্তি নিজেকে সিবিআই আধিকারিক পরিচয় দিয়ে ভিডিও কল করে নিজের ভুয়ো আইডি কার্ড দেখিয়ে জানায় যে, ওই প্রবীণ দম্পতিকে ডিজিটাল অ্যারেস্ট করা হয়েছে। নির্দেশ দেওয়া হয় তারা যেন সবসময় নিজেদের মোবাইল এবং ল্যাপটপের ভিডিও অন রাখেন, কারণ তাদের উপর এর মাধ্যমে নজরদারি করা হবে।

আরও দুজন এর পর ওই প্রবীণ দম্পতিকে ফোন করেন এবং নিজেদের আইপিএস ও সাইবার ক্রাইম হেড বলে পরিচয় দেয় একজন। দ্বিতীয় ব্যক্তি পরিচয় দেয় ফিনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্সের কর্তা বলে। তারা হোয়াটসঅ্যাপে সিবিআই, ইডি, সুপ্রিম কোর্ট ও রিজার্ভ ব্যাংকের ভুয়ো লোগো ও নথি পাঠায় এবং জরিমানা হিসেবে টাকা দাবি করে। ওই প্রবীণ দম্পতি নিজেদের অ্যাকাউন্ট থেকে তিন কোটি এক লাখ টাকা পাঠায় ধাপে ধাপে। একটি অ্যাকাউন্টেই পাঠানো হয় সমস্ত টাকা। এরপর তারা বুঝতে পারেন যে, তারা সাইবার জালিয়াতির শিকার হয়েছেন। তারপরেই তারা লালবাজার সাইবার ক্রাইম ব্রাঞ্চ-এ অভিযোগ জানান।

আরও পড়ুন:‘আমাকে খুনের…’, প্রাক্তন বিধায়ক ভিক্টরের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ স্ত্রীর!

অভিযোগ পেয়ে ঘটনার তদন্তে নামে পুলিশ। প্রথমে কোনও সূত্র পাওয়া যাচ্ছিল না এই ঘটনার। কারণ জালিয়াতরা ছোট বোতামের মোবাইল ফোন ব্যবহার করছিল। ফলে অপরাধীদের ডেরা সনাক্ত করতে পুলিশের সমস্যা হয় প্রথমে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং ফোনের সূত্র ধরে সাইবার জালিয়াতদের আটক করে পুলিশ। জানা যাচ্ছে কলকাতায় বসে মার্কুইস স্ট্রিটের দোকানের আড়ালে চলছিল এই সাইবার জালিয়াতির কাজ। তাদের কাছ থেকে ১৭ টি মোবাইল পাওয়া যায়। তার মধ্যে ১৫ টি ছোট বোতামের মোবাইল, বাকি দুটি ছিল স্মার্টফোন, যেগুলোর মাধ্যমে তারা ধরা পড়ে।

আরও পড়ুন:মধ্যবিত্তের নাগালে নতুন গাড়ি! নজরকাড়া লুক আর সাশ্রয়ী মাইলেজ নিয়ে বাজারে এল বাজাজ কিউট ২০২৬

Cyber ​​fraud worth crores of rupees in Kolkata

শহরে বসে তারা সিমবক্স ব্যবহার করে জালিয়াতি করছিল। পেমেন্টাল স্ট্রীটে তাদের বাড়ি থেকে ছটি ৩২ স্লট সিমবক্স, পাঁচটি ১২৮ স্লট সিমবক্স, একটি ২৫৬ স্লট সিম, একটি ল্যাপটপ, নটি রাউটার, ওয়াইফাই চালিত সিসিটিভি ক্যামেরা, ২২৫০টি ভুয়ো সিম কার্ড এবং আরো কিছু বৈদ্যুতিক সামগ্রী উদ্ধার করেছে পুলিশ। জালিয়াত চক্রের মাথা মহম্মদ আমজাদকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আশা করা হচ্ছে বাকিরা পুলিশের জালে শীঘ্রই ধরা পড়বে। পুলিশ আমজাদকে জেরা করে বাকিদের সন্ধান চালাচ্ছে।