বাংলা হান্ট ডেস্ক: সামনেই বিধানসভা নির্বাচন, তার আগেই অস্বস্তিতে পড়ল কংগ্রেস (Congress) শিবির। কংগ্রেস নেতা আলি ইমরান রামজ (Ali Imran Ramz) ওরফে ভিক্টরের বিরুদ্ধে উঠলো বধূ নির্যাতনের অভিযোগ। ভিক্টরের স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি এই অভিযোগ সামনে এনেছেন। ভিক্টর উত্তর দিনাজপুরের চাকুলিয়ার প্রাক্তন বিধায়ক।
কংগ্রেস (Congress) নেতার বিরুদ্ধে উঠলো বধূ নির্যাতনের অভিযোগ
ফরওয়ার্ড ব্লকের টিকিটে ২০১১ থেকে ২১ সাল পর্যন্ত চাকুলিয়ার বিধায়ক ছিলেন ভিক্টর। কিন্তু তারপরে বিধানসভা নির্বাচনে হেরে যান তিনি একুশে। ২২ সালে তিনি কংগ্রেসে যোগ দেন। স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলির সঙ্গে তার বিবাহ বিচ্ছেদের মামলা চলছে।
ভিক্টরের স্ত্রী প্রিয়াঞ্জলি শুধু ভিক্টর নয় তার মায়ের বিরুদ্ধেও থানায় অভিযোগ করেছেন। প্রিয়াঞ্জলি ভিক্টরের বিরুদ্ধে গার্হস্থ্য হিংসার অভিযোগ এনেছেন। তিনি বলেন ‘এখন যাতে ওকে পার্টি থেকে বহিষ্কার করে, সেটা চাই। আমি রাহুল গান্ধী, মল্লিকার্জুন খার্গেকে মেইল করে জানিয়েছি।’ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও মেইল করেছেন বলে তিনি জানান।
আরও পড়ুন:শুনানি শেষ হতেই কড়া পদক্ষেপ! ২৪ ঘণ্টার মধ্যে রাজ্যের ৭ এইআরও-র বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিল নির্বাচন কমিশন
প্রিয়াঞ্জলি আরও বলেন, ‘পরিবারের অমতে ১৯ বছরে রেজিস্ট্রি করে আমাদের বিয়ে হয়। ভোট ব্যাংক হারানোর ভয়ে গর্ভবতী হওয়ার পর নিকাহ করে। আমার নাম পরিবর্তন করে। এই নিয়ে কথা বলতে গেলে আমার পেটে ঘুসি মারে ও গর্ভপাত হয়। পরে ফের বাচ্চা হলেও এই অত্যাচার চলতে থাকে’। তিনি অভিযোগ করেছেন যৌতুকের জন্য চাপ দেওয়া হয়। তাঁর দিদার কাছ থেকে ৫০-৬০ লাখ টাকার গয়না ও টাকা নেয় ভিক্টর। তারপরেও তার মা অত্যাচার করতে থাকে, মারধর করে। তিনি এটাও জানিয়েছেন যে তার নামে ফ্ল্যাট হওয়া সত্ত্বেও তাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়েছে ভিক্টর।
আরও পড়ুন:প্রতিদিন ৮.৫০ টাকা জমালেই ৭.৭০ লক্ষ আয়? বিস্তারিত জানুন এই সরকারি স্কিম সম্পর্কে

একইসঙ্গে তার অভিযোগ যে, ভিক্টরের কালো টাকা রয়েছে, অনেক বেআইনি কাজের সঙ্গে যুক্ত সে। তিনি মারধরের সিসিটিভি ফুটেজ দেখান। তার বক্তব্য ‘ যে নিজের বউকে বাড়িতে অত্যাচার করে, সে সমাজকে কিভাবে বাঁচাবে? আমায় খুনের হুমকি দিচ্ছে, আমায় বাঁচান’। অন্যদিকে স্ত্রীর অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে ভিক্টর বলেন ‘এসব কিছু হয়নি’। তিন বছর ধরে বিচ্ছেদের মামলা চলছে তাই কোর্টের ব্যাপারে এখন কিছু বলতে চান না বলেও জানালেন ওই কংগ্রেস নেতা। একইসঙ্গে তার বক্তব্য ভোটের আগে এই প্রেস কনফারেন্স করছেন তার স্ত্রী, এর পিছনে অন্য দলের ইন্ধন দেখতে পাচ্ছেন তিনি। অন্যদিকে তাকে কালো টাকা এবং বেআইনি কাজকর্মের অভিযোগ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা হলে, এই বিষয়ে তার বক্তব্য, অভিযোগ প্রমাণিত হলে প্রশাসন ব্যবস্থা নেবে। এখন দেখা যাক এ ব্যাপারে কংগ্রেস নেতৃত্ব কী ব্যবস্থা নেয়। তবে বিধানসভা ভোটের আগে এই ধরনের অভিযোগ সামনে আসায় দল যে অস্বস্তিতে থাকবে তা বলা বাহুল্য।












