বাংলাহান্ট ডেস্ক: সৌদি আরবের (Saudi Arabia) দুই পবিত্র শহর মক্কা ও মদিনাকে (Mecca and Medina) লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টা হয়েছে বলে দাবি করল সে দেশের প্রতিরক্ষা সংস্থা। শনিবার সৌদি কর্তৃপক্ষের তরফে এই দাবি সামনে আসার পর পশ্চিম এশিয়ার নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সৌদির দাবি, আকাশপথেই ক্ষেপণাস্ত্রগুলিকে ধ্বংস করা হয়েছে। তবে এই অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করেছে ইরান-সমর্থিত ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হাউথিরা (Houthi Attack)। তাদের বক্তব্য, সৌদির এই দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। ফলে মক্কা ও মদিনাকে ঘিরে হামলার চেষ্টার অভিযোগ নিয়ে সৌদি আরব ও হাউথিদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দাবি ঘিরে তৈরি হয়েছে বিতর্ক।
মক্কা-মদিনায় (Mecca and Medina) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার জেরে সৌদিতে থাকা ভারতীয়দের সতর্ক করল দিল্লি:
এই পরিস্থিতিতে সৌদি আরবে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিকদের জন্য বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেছে নয়াদিল্লি। সৌদির ভারতীয় দূতাবাসের তরফে একটি বিবৃতি দিয়ে প্রবাসী ভারতীয়দের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ এবং দেশের আইনকানুন মেনে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন প্রতিহত করার ঘটনা কিংবা কোনও হামলার দৃশ্য নিজের মোবাইলে রেকর্ড করা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। শুধু ভিডিও তোলাই নয়, এ ধরনের কোনও ছবি বা ভিডিয়ো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট না করারও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস স্পষ্ট জানিয়েছে, সৌদি আরবে এই ধরনের কাজ আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ হতে পারে (Mecca and Medina)।
আরও পড়ুন: জ্ঞানেশ কুমারের বিরুদ্ধে এবার ‘পাবলিক ইমপিচমেন্ট’, ৩০ অক্টোবর নজিরবিহীন কর্মসূচি ইন্ডিয়া জোটের
সাধারণত ক্ষেপণাস্ত্র বা ড্রোন হামলার ঘটনা সামনে এলে ঘটনাস্থলের ছবি ও ভিডিয়ো দ্রুত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কিন্তু চলতি পরিস্থিতিতে এ ধরনের দৃশ্য রেকর্ড করা বা প্রকাশ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বনের কথা বলেছে ভারতীয় দূতাবাস। হামলা প্রতিহত করার পদ্ধতি, নিরাপত্তাব্যবস্থা কিংবা ক্ষেপণাস্ত্রের গতিপথ সংক্রান্ত দৃশ্য প্রকাশ্যে চলে এলে তা নিরাপত্তার ক্ষেত্রে সমস্যা তৈরি করতে পারে। সেই কারণেই সৌদিতে থাকা ভারতীয়দের কোনও ধরনের ঝুঁকি না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে দূতাবাসের এই সতর্কবার্তা থেকেই হামলার দাবির সত্যতা নিশ্চিত করা যায় না। সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি এবং হাউথিদের পাল্টা বক্তব্য—দু’টিই এই ঘটনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ।
অন্যদিকে, মক্কা ও মদিনার মতো ধর্মীয় দিক থেকে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ দুই শহরকে লক্ষ্য করে হামলার অভিযোগ সামনে আসায় বিষয়টি বিশেষ তাৎপর্য পেয়েছে। প্রতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে লক্ষ লক্ষ মুসলিম এই দুই শহরে হজ, ওমরাহ এবং ধর্মীয় অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যান। ফলে এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিয়ে কোনও আশঙ্কার খবর সামনে এলেই আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ তৈরি হওয়া স্বাভাবিক। যদিও সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি অনুযায়ী, ক্ষেপণাস্ত্রগুলি লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানার আগেই ধ্বংস করা হয়েছে। অন্যদিকে, হাউথিরা এই অভিযোগ অস্বীকার করায় ঘটনার প্রকৃত পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আরও পড়ুন: নৈহাটির বড়মার পুজোয় VIP কালচার বন্ধ! খুঁটিপুজোর দিনই বড় ঘোষণা পরিবহণমন্ত্রীর
সব মিলিয়ে, সৌদি আরবের দাবি এবং হাউথিদের অস্বীকারের মধ্যে মক্কা-মদিনায় (Mecca and Medina) ক্ষেপণাস্ত্র হামলার চেষ্টার অভিযোগ ঘিরে পরিস্থিতি এখনও স্পষ্ট নয়। এই আবহে সৌদিতে থাকা ভারতীয় নাগরিকদের নিরাপত্তা এবং স্থানীয় আইন মেনে চলার বিষয়টিকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে নয়াদিল্লি। দূতাবাসের নির্দেশ, কোনও হামলা বা ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করার দৃশ্য রেকর্ড কিংবা অনলাইনে প্রকাশ করে যেন কেউ আইনি জটিলতায় না জড়ান। একই সঙ্গে প্রবাসী ভারতীয়দের স্থানীয় প্রশাসনের নির্দেশ মেনে চলা এবং দায়িত্বশীল আচরণ করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। তবে হামলার অভিযোগের স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া তথ্য সামনে না আসা পর্যন্ত বিষয়টিকে সৌদি কর্তৃপক্ষের দাবি হিসেবেই দেখা প্রয়োজন।














