বিশ্বের বৃহত্তম তেলভাণ্ডারে নজর ওয়াশিংটনের, ভেনেজ়ুয়েলা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা ঘিরে বিতর্ক

Published on:

Published on:

Follow

বাংলাহান্ট ডেস্ক: ট্রাম্প (Donald Trump) প্রশাসন এবার ভেনেজুয়েলা থেকে সরাসরি ও বিশাল পরিমাণে অপরিশোধিত তেল আমদানির ঘোষণা দিয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একটি পোস্টে দাবি করেছেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার আমেরিকাকে তিন থেকে পাঁচ কোটি ব্যারেল উচ্চমানের অপরিশোধিত তেল সরবরাহ করবে, যা আন্তর্জাতিক বাজারমূল্যে ক্রয় করা হবে। তিনি আরও জানিয়েছেন, এই তেল বিক্রয় থেকে প্রাপ্ত সম্পূর্ণ অর্থ তাঁর প্রশাসনের তত্ত্বাবধানেই থাকবে এবং তা দ্রুত কার্যকর করতে জ্বালানিসচিবকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ভেনেজুয়েলা থেকে বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করতে চলেছেন ট্রাম্প (Donald Trump)

এই চুক্তি বাস্তবায়নের জন্য মার্কিন প্রশাসনের তরফে বিশেষ পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, বিশেষায়িত স্টোরেজ জাহাজের মাধ্যমে ভেনেজুয়েলার তেল সরাসরি মার্কিন বন্দরে পৌঁছে দেওয়া হবে। এই পদক্ষেপের লক্ষ্য হিসেবে আমেরিকার জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করা এবং বৈশ্বিক তেল বাজারে মূল্যের স্থিতিশীলতা আনার কথা বলা হয়েছে। প্রশাসন মনে করছে, এই চুক্তি কার্যকর হলে দেশের শক্তি খাতের একটি বড় চাহিদা পূরণ হবে।

আরও পড়ুন নতুন বছরেই ধাক্কা! ২২ ও ২৪ ক্যারেট সোনার দাম বাড়ায় কপালে ভাঁজ মধ্যবিত্তের, জানুন আজকের রেট?

ভেনেজুয়েলার বিশাল তেল ভাণ্ডারই এই মনোযোগের কেন্দ্রবিন্দু বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। দেশটির মাটির নিচে প্রায় ত্রিশ হাজার কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের মজুদ রয়েছে, যা বিশ্বের বৃহত্তম ভাণ্ডারগুলির একটি। বিশেষজ্ঞদের একাংশের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে ভেনেজুয়েলায় মার্কিন হস্তক্ষেপ এবং নিকোলাস মাদুরো সরকারের পতনের পিছনে এই বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ লাভের ইচ্ছাই প্রধান কারণ হতে পারে।

যদিও হোয়াইট হাউস এই অভিযোগগুলি অস্বীকার করে আসছে। ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, আমেরিকার উদ্দেশ্য ভেনেজুয়েলা দখল করা নয়, বরং দেশটিকে সহায়তা করা। তবে তিনি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, অন্তর্বর্তী সরকারের ওপর ওয়াশিংটনের প্রভাব ও নজরদারি বজায় থাকবে। তেল বিক্রয়লব্ধ অর্থ কীভাবে ব্যয় হবে, সেই সিদ্ধান্তেও মার্কিন প্রশাসনের সরাসরি ভূমিকা থাকবে বলে তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট।

Donald Trump is importing a huge amount of oil from Venezuela.

আরও পড়ুন:পেনশন-গ্র্যাচুয়িটির নিয়মে বিরাট পরিবর্তন আনছে রাজ্য, লাভ হবে না ক্ষতি? ক্ষুব্ধ শিক্ষকরা

এই ঘোষণার পটভূমিতে ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল। প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে তাঁর বাসভবন থেকে গ্রেপ্তার করে আমেরিকায় নিয়ে যাওয়া হয়েছে, যেখানে তাঁর বিরুদ্ধে চলছে আইনি প্রক্রিয়া। তাঁর অনুপস্থিতিতে ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রোড্রিগেস অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন। ট্রাম্প স্পষ্ট করে দিয়েছেন, আপাতত ভেনেজুয়েলায় কোনো নির্বাচন হবে না এবং নতুন সরকারের প্রতিটি পদক্ষেপ মার্কিন তত্ত্বাবধানেই পরিচালিত হবে। এই পরিস্থিতি ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্ব ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন বিতর্কের সৃষ্টি করেছে।