বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন বা SIR-এ বড় স্বস্তি। নথি দেখানো নিয়ে যাঁরা সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়েছিলেন, অর্থাৎ যৌনকর্মী, রূপান্তরকামী এবং জনজাতিদের জন্য বড় ছাড় ঘোষণা করল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। এই সিদ্ধান্তে বহু মানুষের ভোটাধিকার রক্ষার পথ আরও সহজ হল।
SIR শুনানির নিয়মে বড় ছাড় দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)
ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জনের সময় নথি দেখানো নিয়ে কড়াকড়ি ছিল। সেই নিয়মেই বড় ছাড় দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সূত্রের খবর, যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে নথি দেখালেও চলবে, না দেখালেও কোনও অসুবিধা হবে না বলে জানিয়েছে কমিশন। এই সিদ্ধান্তে অনেকটাই স্বস্তি পেয়েছেন যৌনকর্মীরা।
সোনাগাছিতে তৈরি হয়েছিল আতঙ্ক
প্রসঙ্গত, SIR শুরু হওয়ার পর এশিয়ার বৃহত্তম যৌনপল্লি সোনাগাছিতে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল। অনেক যৌনকর্মীরই আশঙ্কা ছিল, নথি না থাকলে ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়তে পারে। এই পরিস্থিতিতে বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ আগরওয়ালকে চিঠি লিখেছিল যৌনকর্মী এবং তাঁদের সন্তানদের নিয়ে কাজ করা তিনটি সংগঠন।
চিঠিতে উঠে আসে তিনটি মূল সমস্যা
চিঠিতে স্পষ্ট করে কয়েকটি সমস্যার কথা জানানো হয়।
- প্রথমত, বহু যৌনকর্মী গ্রামাঞ্চল বা ভিনরাজ্য থেকে আসেন। সামাজিক নানা কারণে পরিবারের সঙ্গে তাঁদের আর যোগাযোগ নেই। ফলে প্রয়োজনীয় নথি জোগাড় করা তাঁদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব।
- দ্বিতীয়ত, অনেকেই পারিবারিক বা সামাজিক চাপে ঘরছাড়া হয়েছেন। সেই সময় নথি সঙ্গে আনা সম্ভব হয়নি।
- তৃতীয়ত, অনেকেই নিজেদের পেশা গোপন রেখেছেন। সামাজিক বেড়াজালের কারণে নথি দেখানো তাঁদের কাছে অত্যন্ত কঠিন।
রূপান্তরকামীদেরও একই দাবি
এই একই ধরনের দাবি তুলেছিলেন রূপান্তরকামীরাও। তাঁরা বাংলার সিইও-র দপ্তরে গিয়ে ডেপুটেশন জমা দেন। সেই সংগঠনের এক প্রতিনিধি জানান, তাঁদের মধ্যে অনেকেই পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন। অনেকের নাম ২০০২ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় রয়েছে। কিন্তু যাঁদের নাম নেই, তাঁদের ক্ষেত্রে ‘গুরু মা’-র নাম ব্যবহারের অনুমতির আবেদন জানানো হয়।
খসড়া তালিকা প্রকাশের পরেই সিদ্ধান্ত
ইতিমধ্যেই খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হয়েছে এবং রাজ্যজুড়ে শুনানি চলছে। এই আবহেই যৌনকর্মী ও রূপান্তরকামীদের দাবিতে সিলমোহর দিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, যৌনকর্মীদের ক্ষেত্রে নথি বাধ্যতামূলক নয়। রূপান্তরকামীদের ক্ষেত্রে ‘গুরু মা’-দের গুরুত্ব দেওয়া হবে।
এই পর্বে জনজাতিদের ক্ষেত্রেও নথি সংক্রান্ত বিশেষ ছাড় দেওয়া হয়েছে। বলা হয়েছে নথি ছাড়াই তাঁরা শুনানিতে আসতে পারবেন। পাশাপাশি ERO-দের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, স্থানীয় স্তরে যাঁরা নথি দেখাতে পারছেন না, তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর নিতে হবে।

আরও পড়ুনঃ ‘অভয়া ফান্ড’ বিতর্কে জুনিয়র ডক্টরস ফ্রন্টে ভাঙন! সভাপতি পদ ছাড়লেন অনিকেত মাহাতো
এছাড়াও বাংলার মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের তরফে মাধ্যমিকের অ্যাডমিট কার্ডকে গ্রহণযোগ্য নথি হিসেবে মান্য করার আবেদন জানানো হয়েছে। সব মিলিয়ে SIR পর্বে ভোটাধিকার রক্ষায় এক মানবিক ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিল নির্বাচন কমিশন (Election Commission)।












