বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোট মানেই শুধু রাজনৈতিক লড়াই নয়, বরং এক বিশাল সামাজিক আবহ। আর সেই আবহে এবার যেন বাড়তি রঙ লেগেছে। পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী ময়দান এখন শুধুই প্রতিশ্রুতি বা বক্তৃতার মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং প্রচারে দেখা যাচ্ছে অভিনবত্বের ছোঁয়া। কেউ বাড়ি বাড়ি গিয়ে রান্না করছেন, কেউ আবার চা বানিয়ে ভোট চাইছেন। তবে এই সবকিছুর মাঝেই আরও এক সংঘাত সামনে এসেছে। নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India) ও তৃণমূলের (Trinamool Congress) মধ্যে তীব্র টানাপোড়েন চলছে।
হিন্দি গানে বার্তা দিল কমিশন? (Election Commission of India)
এবারের বিধানসভা নির্বাচনের প্রচারে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর ইস্যুতে বহু ভোটারদের নাম বাদ পড়া নিয়ে অভিযোগ জানিয়েছেন। দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সরাসরি নির্বাচন কমিশনকে আক্রমণ করেছেন। যদিও কমিশনের তরফে সরাসরি রাজনৈতিক পাল্টা আক্রমণ না করে বারবার একটি বার্তাই সামনে আনা হয়েছে— রাজ্যে শান্তিপূর্ণ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করা হবে। কমিশনের বার্তা প্রচারের জন্য সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করা হয়েছে।
ভোটারদের বার্তা দিতে এবার বলিউড গানের উপরেই ভরসা করল কমিশন। সম্প্রতি দক্ষিণ কলকাতার ডিইও-র সোশ্যাল মিডিয়া পেজে একটি পোস্ট ঘিরে শুরু হয়েছে নতুন বিতর্ক। সেখানে একটি জনপ্রিয় বলিউড গানের লিঙ্ক শেয়ার করা হয়— “হাম প্যায়ার করনে ওয়ালে, দুনিয়া সে না ডরনে ওয়ালে/ ইয়ার জ্বলনে ওয়ালে কো জ্বালায়েঙ্গে…”।
এই গানের মাধ্যমে তৃণমূলের নাম না করে, ঘুরিয়ে রাজনৈতিক বার্তা দেওয়ার চেষ্টা হয়েছে বলেই মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
পোস্টের ক্যাপশনে লেখা হয়েছে, “সকল মা, বোন এবং ভাইদের নির্ভয়ে স্বাধীনভাবে ভোট দেওয়ার জন্য আহ্বান করা হচ্ছে। যদিও কিছু লোক এতে ক্ষুব্ধ হয়ে জ্বলতে পারে। গুণ্ডা, দাগী অপরাধীরা সাবধান। নিজেদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরিমাণে বার্নল এবং বোরোলিন মজুত রাখুন। নইলে উত্তাপ এতটাই তীব্র হবে যে আপনারা ভেতর থেকে পুড়ে যাবেন।”

আরও পড়ুন : ৪ টি গাড়ির মালিক, রয়েছে ৬ কোটির দেনা, কত সম্পত্তি সোহমের ?
ভোটারদের আশ্বস্ত করে বলা হয়েছে, “ছাপ্পাহীন, ভয়মুক্ত ও শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করা হবে। যে কেউ এই মিশনে বাধা দেবে, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। যেখানে বার্নল এবং বোরোলিনও কোনও কাজে আসবে না।” তৃণমূলকে নিশানা করেই, এই বার্তা বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে ভবানীপুর এলাকায় সাধারণ মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন সাধারণ পর্যবেক্ষক তাপস রায়। বোঝার চেষ্টা করেন, কোথাও কোনও ভয়ের পরিবেশ রয়েছে কি না। ভোটবঙ্গ এখন যেমন রঙিন প্রচারে সরগরম, তেমনই প্রশাসনিক কড়াকড়ি ও রাজনৈতিক বাকযুদ্ধে উত্তপ্ত।












