বাংলা হান্ট ডেস্কঃ অভিশপ্ত রবিবার। ছুটির দিনে বাংলার বুকে হাড়হিম করা ট্রেন দুর্ঘটনা (Kanchanjunga Express Accident)। সকাল পৌনে ৯টা নাগাদ নিউ জলপাইগুড়ি এনজেপি স্টেশনের আগে রাঙাপানির কাছে কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস (Kolkata Sealdah Kanchanjungha Express) এবং মালগাড়ির সংঘর্ষ। দুর্ঘটনার জেরে এখনও পর্যন্ত প্রাণ হারিয়েছেন ১৫ জন, আহতের সংখ্যা ৬০ এর বেশি। যা আরও বাড়তে পারে। ভয়াবহ এই দুর্ঘটনার পর তড়িঘড়ি রেলের তরফে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়, মালগাড়িটির চালকের সিগন্যাল অমান্য করাতেই এই বিপর্যয়।
তবে প্রশ্ন উঠছে, সত্যিই কী মালগাড়ির চালকের ভুলেই এত বড় দুর্ঘটনা? সংবাদসংস্থা PTI জানিয়েছে, গতকাল ভোর থেকেই স্বয়ংক্রিয় সিগন্যালিং ব্য়বস্থায় ত্রুটি ছিল। সোমবার ভোর ৫.৫০ থেকেই খারাপ ছিল অটোমেটিক সিগন্যাল সিস্টেম। যার ফলে ম্যানুয়াল পেপার দিয়ে হচ্ছিল কাজ। তাহলে কী একই পথে দুই ট্রেনকে যাওয়ার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছিল! উত্তর পাওয়া যায়নি এখনও।
গতকাল দুর্ঘটনার জেরে মৃত্যু হয়েছে একাধিক রেল আধিকারিকদের। ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে মালগাড়ির লোকো পাইলটেরও। মৃত চালকের ঘাড়েই দুর্ঘটনার সমস্ত দোষ চাপিয়ে দিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর চর্চাও। এই সবের মাঝেই এবার এই ইস্যুতে মুখ খুললেন রাজধানী এক্সপ্রেসের প্রাক্তন চালক বিজয় বাহাদুর সিং। লোকো পাইলট সহ মালগাড়ির চালকদের উপর কী প্রকার ‘অত্যাচার’ করা হয় সে বিষয়ও জানালেন বাহাদুর সিং।
এক সংবাদ মাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে রাজধানী এক্সপ্রেসের প্রাক্তন চালক বলেন, “লোকো পাইলটদের উপর অত্যাচার চলে। কোনো রকম ছুটি দেওয়া হয় না। এমনকি অসুস্থ হলেও না। লোকো পাইলটরা কখনও অসুস্থ হলে তাদের ধমক দিয়ে, চাপ দিয়ে কাজ করানো হয়।”
আরও পড়ুন: চুপিসারে বাড়ল DA, ফের রাজ্য সরকারি কর্মীদের ৪% হারে মহার্ঘ ভাতা বৃদ্ধি করল সরকার
তার কথায়, “মালগাড়ির লোকো পাইলটরা ১৬ থেকে ১৮ ঘণ্টা কাজ করেন। নিয়ম অনুযায়ী, লোকো পাইলটরা ১২ ঘণ্টার বেশি চালাতে পারবে না। কিন্তু ১৬ ঘণ্টা পর্যন্ত ওদের বসিয়ে রাখা হয়। এমন জায়গায় বসিয়ে রাখা হয় যেখানে না পাবে খাবার, না পাবে জল। বাধ্য হয়ে চালক এগিয়ে যাওয়ার অনুরোধ করে।”
বিগত সময় ঘটে যাওয়া একের পর এক ট্রেন দুর্ঘটনায় যখন চালকদের ভূমিকায় প্রশ্ন উঠেছে, সেই সময় রেল কর্তৃপক্ষের দিকে আঙুল তুললেন রাজধানী এক্সপ্রেসের প্রাক্তন চালক। কীভাবে লোকো পাইলটদের উপর দিনের পর দিন ‘অত্যাচার’ চলে তার সাফ বর্ণনাও দিলেন তিনি। অনেক সময়ই টানা নিদ্রাহীনতা, শরীরের ক্লান্তি নিয়ে তাদের বাধ্য করানো হয় নিজেদের ‘দায়িত্ব’ পালনে। যার জেরে ঝুঁকি বাড়ে বড়সড় অঘটনের।