বাংলা হান্ট ডেস্ক : জমিতে জল তোলার খরচই অনেক সময় চাষিদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে। বিশেষ করে সেচের জন্য সাবমার্সিবল কিংবা স্যালো পাম্পের উপর নির্ভরশীল কৃষকদের বিদ্যুতের বিল ব্যয়সাপেক্ষ। সেই খরচে এবার কিছুটা সুরাহার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। রাজ্য সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কৃষিকাজে ব্যবহৃত এই পাম্পগুলির বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ভর্তুকি (Electric Subsidy) দেওয়া হবে।
চাষিদের বিদ্যুৎ ব্যবহারে প্রতি ইউনিটে ২ টাকা করে ভর্তুকি (Electric Subsidy)
এই সুবিধা চালু হলে রাজ্যের চার লক্ষেরও বেশি কৃষক উপকৃত হবেন বলে জানানো হয়েছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে। ভর্তুকির অর্থ কোনও মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে নয়, সরাসরি কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পাঠানোর কথা ঘোষণা করা হয়েছে।
চলতি বছরেই এই নতুন সুবিধা কার্যকর করার কথা জানিয়েছেন রাজ্যের জলপথ ও সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মু। তিনি বলেন, “চলতি বছরেই এই সুবিধা কার্যকর হবে। এর জন্য সরকারের অতিরিক্ত প্রায় ৩০০ কোটি টাকা খরচ হবে। ভর্তুকির টাকা কৃষকদের অ্যাকাউন্টে দেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।” সরকারি ঘোষণার বাস্তব প্রভাব কতটা পড়তে পারে, তার একটা ধারণা মিলেছে কৃষকদের বক্তব্যেও।
হবিবপুরের কৃষক আলতাব মোমিন জানাচ্ছেন, বিদ্যুতের খরচে ছাড় মিললে চাষের সামগ্রিক ব্যয় সামলানো কিছুটা সহজ হবে। তবে তাঁর দাবি, শুধু বিদ্যুৎ বিল কমালেই হবে না—এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ হয়ে থাকা সেচের পাম্পগুলিও সচল করা প্রয়োজন। তাতে আরও বেশি জমি সেচের আওতায় আনা সম্ভব হবে বলে তাঁর মত। আলতাব মোমিন নামে এক কৃষক বলেন, “সরকারের এই উদ্যোগে খুব ভাল লাগছে। তবে এলাকায় অচল হয়ে পড়ে থাকা সাবমার্সিবল পাম্পগুলিও চালু করা দরকার। পাম্পগুলি চালু হলে সেচের সুবিধা বাড়বে।”
সেচের ব্যয়ের চাপ কতটা, তা তুলে ধরেছেন মহিলা কৃষক নদী মণ্ডলও। তার কথায়, “জল নেওয়ার জন্য ঘণ্টায় প্রায় ২০০ টাকা খরচ হয়। বিদ্যুৎ বিলে ছাড় মিললে সেচের খরচ কিছুটা কমবে এবং বছরে অতিরিক্ত চাষ করতে পারবো।”কৃষকদের জন্য এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয় পূর্ব বর্ধমানে মুখ্যমন্ত্রীর সভা থেকে। স্থানীয় কৃষকদের পাশাপাশি সেখানে ছিলেন প্রশাসনের আধিকারিক এবং বিদ্যুৎ দফতরের প্রতিনিধিরাও। রাজ্যের জলপথ ও সেচ প্রতিমন্ত্রী জোয়েল মুর্মুও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন : মৃত্যুর পর ডেথ সার্টিফিকেটে আর গড়িমসি নয়! ১ অক্টোবর থেকে কড়া হচ্ছে নিয়ম
কৃষকদের মতে, চাষের ক্ষেত্রে জল সরবরাহ নিশ্চিত করা যেমন জরুরি, তেমনই সেই সেচের খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখাও গুরুত্বপূর্ণ। ফলে প্রতি ইউনিট বিদ্যুতে ২ টাকা ভর্তুকির সিদ্ধান্ত কার্যকরভাবে পৌঁছলে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয়ের উপর তার প্রভাব পড়তে পারে। এখন দেখার, ১ অগাস্ট থেকে এই সুবিধা কীভাবে বাস্তবে কার্যকর হয় এবং ঘোষিত ভর্তুকি কত দ্রুত কৃষকদের অ্যাকাউন্টে পৌঁছয়।













