বাংলাহান্ট ডেস্ক: কোনও মানুষের মৃত্যুর পর তাঁর মৃত্যুর ঘটনা সরকারি নথিতে নথিভুক্ত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ ডেথ সার্টিফিকেট (Death Certificate)না থাকলে বিমার টাকা দাবি করা থেকে শুরু করে ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট, পেনশন, সম্পত্তি হস্তান্তর কিংবা একাধিক আইনি ও আর্থিক কাজেই পরিবারের সদস্যদের সমস্যায় পড়তে হতে পারে। এবার সেই মৃত্যুর নথিভুক্তি নিয়েই নিয়ম আরও কড়া হচ্ছে। ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে রেজিস্ট্রেশন অফ বার্থস অ্যান্ড ডেথস (সংশোধন) আইন ২০২৬ (Registration of Birth and Death Amendment Act 2026), কার্যকর হওয়ার পর নির্দিষ্ট সময়ের পরে মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করতে গেলে অতিরিক্ত অনুমতি, যাচাই এবং নির্দিষ্ট ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেটের (Magistrate) নির্দেশ প্রয়োজন হবে।
১ অক্টোবর থেকে ডেথ সার্টিফিকেট (Death Certificate) নিয়ে আসছে বড় নিয়ম:
বর্তমান ব্যবস্থায় সাধারণভাবে কোনও মৃত্যু (Death Certificate) ঘটার ২১ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রারের কাছে তথ্য জমা দিতে হয়। হাসপাতাল, নার্সিংহোম বা অন্য কোনও স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে মৃত্যু হলে সংশ্লিষ্ট মেডিক্যাল নথির ভিত্তিতে রেজিস্ট্রেশন করা হয়। আর বাড়িতে মৃত্যু হলে স্থানীয় পুরসভা, পঞ্চায়েত বা সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের কাছে তথ্য জানাতে হয়। সরকারি Civil Registration System-এর মাধ্যমে বিভিন্ন রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে অনলাইন পরিষেবার ব্যবস্থাও রয়েছে। ফলে পরিবারের পক্ষে সবচেয়ে নিরাপদ হল মৃত্যুর পর অযথা দেরি না করে দ্রুত নথিভুক্তির প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করা।
আরও পড়ুন :বিশ্বকাপ জিততে হলে এই দুই তারকাকে সুযোগ দিন! গম্ভীরকে পরামর্শ প্রাক্তন এই ভারতীয় ক্রিকেটারের
তবে নির্ধারিত সময়সীমা পেরিয়ে গেলে কী হবে, সেটিই নতুন নিয়মের গুরুত্বপূর্ণ দিক। মৃত্যুর ঘটনা এক বছরের বেশি সময় পরে, কিন্তু দুই বছরের মধ্যে নথিভুক্ত করতে চাইলে সংশ্লিষ্ট জেলা শাসক বা DM, মহকুমাশাসক বা SDM অথবা DM-এর অনুমোদিত Executive Magistrate-এর নির্দেশ প্রয়োজন হবে। আবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর ঘটনা এবং দেওয়া তথ্যের সত্যতা যাচাই করা হবে। পাশাপাশি নির্ধারিত ফিও দিতে হবে। অর্থাৎ এক বছরের বেশি দেরি হলে বিষয়টি আর সাধারণ রেজিস্ট্রেশনের পর্যায়ে থাকবে না, প্রশাসনিক অনুমোদনের প্রয়োজন হবে।
আরও বেশি দেরি হলে প্রক্রিয়াটি আরও কঠোর হবে। মৃত্যুর ঘটনা ঘটার দুই বছরেরও বেশি সময় পরে রেজিস্ট্রেশনের আবেদন করা হলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ফার্স্ট ক্লাস বা JMFC-এর নির্দেশ প্রয়োজন হবে। সেই ক্ষেত্রেও ঘটনার সত্যতা যাচাইয়ের পরই রেজিস্ট্রেশনের অনুমতি দেওয়া হবে এবং নির্ধারিত ফি জমা দিতে হবে। অর্থাৎ দীর্ঘদিন ধরে কোনও মৃত্যুর ঘটনা সরকারি নথিতে নথিভুক্ত না থাকলে এবার প্রশাসনিক স্তরের পাশাপাশি বিচারবিভাগীয় প্রক্রিয়াও যুক্ত হবে। নতুন ব্যবস্থার লক্ষ্য দেরিতে করা রেজিস্ট্রেশনকে আরও নিয়মবদ্ধ করা এবং সরকারি মৃত্যুর নথির নির্ভুলতা নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: পুজোয় হবে ভারী বৃষ্টি! দক্ষিণবঙ্গের কোন জেলায় কেমন থাকবে আবহাওয়া? আগাম পূর্বাভাস
মৃত্যু (Death Certificate)নথিভুক্তির সময় সাধারণত মৃত ব্যক্তির নাম, বয়স বা জন্মতারিখ, মৃত্যুর তারিখ ও স্থান, চিকিৎসক বা হাসপাতালের দেওয়া মৃত্যুর কারণ সংক্রান্ত শংসাপত্র এবং আবেদনকারীর প্রয়োজনীয় পরিচয়পত্র-সহ প্রাসঙ্গিক নথি লাগতে পারে। তবে নির্দিষ্ট কাগজপত্র ও প্রক্রিয়া রাজ্য এবং স্থানীয় প্রশাসনের নিয়ম অনুযায়ী কিছুটা আলাদা হতে পারে। তাই পরিবারের কোনও সদস্যের মৃত্যু হলে ডেথ সার্টিফিকেটের কাজ ফেলে না রেখে যত দ্রুত সম্ভব সংশ্লিষ্ট রেজিস্ট্রেশন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করাই গুরুত্বপূর্ণ। ১ অক্টোবরের পর বিশেষ করে দীর্ঘদিনের পুরনো মৃত্যুর ঘটনা নথিভুক্ত করতে গেলে বাড়তি যাচাই ও অনুমোদনের প্রয়োজন হওয়ায় দেরি আরও জটিলতা তৈরি করতে পারে।













