বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যের রাজনীতিতে এমন কিছু মুখ আছেন, যাঁরা প্রশাসন, জনজীবন এবং ব্যক্তিগত সাফল্য—সব দিকেই সমানভাবে নজর কাড়েন। সেই তালিকায় অন্যতম হলেন ফিরহাদ হাকিম (Firhad Hakim)। একদিকে যেমন তিনি পুর প্রশাসনের শীর্ষ দায়িত্ব সামলাচ্ছেন, অন্যদিকে রাজ্য মন্ত্রীসভার গুরুত্বপূর্ণ সদস্য হিসেবেও কাজ করছেন। এর পাশাপাশি ব্যবসার জগতেও তাঁর সক্রিয় উপস্থিতি রয়েছে। বহুদিন ধরেই তিনি কোটিপতি, তবে গত পাঁচ বছরে তরতরিয়ে বেড়েছে তাঁর সম্পত্তি ও আয়। আশ্চর্যের বিষয়, কোটি টাকার সম্পত্তির মালিক হয়েও তাঁর নিজের নামে একটিও গাড়ি নেই।
ফিরহাদের (Firhad Hakim) সম্পত্তির পরিমাণ
কলকাতা বন্দর কেন্দ্রের পরপর তিনবারের বিধায়ক হয়েছেন ফিরহাদ হাকিম। এবারের বিধানসভা ভোটে তার অন্যথা হয়নি, ওই এলাকার তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী হিসেবে দাঁড়িয়েছেন তিনিই। বিধানসভা ভোটের দ্বিতীয় দফায় অর্থাৎ ২৯ এপ্রিল ওই কেন্দ্রের নির্বাচন। সময়ের মধ্যেই মনোনয়নপত্র জমা করেছেন তৃণমূল বিধায়ক। যথারীতি হলফনামা থেকে তার সম্পত্তির হিসেব মিলেছে। ফিরহাদের সম্পত্তির পরিমাণ এবং আয়ের বিস্তারিত তথ্য সামনে এসেছে।
প্রসঙ্গত, ফিরহাদ হাকিমের সম্পত্তি বরাবর আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থেকেছে বহু সময়। নির্বাচনের সময় হলফনামায় দেওয়া তথ্য থেকে জানা যায়,২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনের সময় তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ছিল ৪ কোটি ১২ লক্ষ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির বাজারমূল্য ছিল ১ কোটি ৮১ লক্ষ টাকা। গত পাঁচ বছরে তার সম্পত্তি ধারাবাহিকতার সাথে বৃদ্ধি পেয়েছে। এবারের নির্বাচনের সময় তার দাখিলকৃত হলফনামা অনুযায়ী, বর্তমানে তাঁর অস্থাবর সম্পত্তির পরিমাণ ৭ কোটি ২৭ লক্ষ টাকা এবং স্থাবর সম্পত্তির মূল্য বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২ কোটি ৫১ লক্ষ টাকা।
যেমন বেড়েছে তার সম্পত্তি, গত পাঁচ বছরে তেমনি তার আয়ও ধারাবাহিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০২০-২১ অর্থবর্ষে তাঁর বার্ষিক আয় ছিল ৭৬ লক্ষ টাকা। এরপরের চার বছরে তার আয় বেড়ে হয়েছে ৮৩ লক্ষ ৬০ হাজার, ১ কোটি ২২ লক্ষ, ১ কোটি ৪৯ লক্ষ এবং সর্বশেষ ১ কোটি ৭১ লক্ষ টাকা হয়েছে। মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার সময় তাঁর হাতে ১ লক্ষ ৫৩ হাজার টাকা নগদ ছিল। এছাড়া, তাঁর ৯টি ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মোট ৪ কোটি ২২ লক্ষ টাকা জমা রয়েছে। তৃণমূল বিধায়কের বিনিয়োগে রয়েছে ১ লক্ষ টাকার মিউচুয়াল ফান্ড।
মূল্যবান গয়নার মধ্যেও রয়েছে সোনা, রুপো এবং অন্যান্য পাথরের অলঙ্কার, যার মোট মূল্য প্রায় ১৭ লক্ষ ৯৭ হাজার টাকা। তৃণমূল বিধায়কের আয়ের বিস্তারিত আসে সরকারি বেতন, ব্যবসা ও ব্যাংকের সুদ থেকে। যদিও তাঁর নিজের নামে কোনও গাড়ি নেই, তবে তাঁর স্ত্রীর নামে প্রায় ২৭ লক্ষ টাকার একটি গাড়ি রয়েছে।

আরও পড়ুন : ৬ টি মামলা, বিলাসবহুল গাড়ি, লক্ষ টাকার ঋণের বোঝা মদন মিত্রের কাঁধে
শুধু সম্পত্তি নয়, ফিরহাদের বিরুদ্ধে রয়েছে দুটি এফআইআর। প্রথমটিই কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা সিবিআই এর এবং দ্বিতীয়টি ইডির। এই মামলাগুলি বিচারাধীন।











