বাংলা হান্ট ডেস্ক : ভোটের দিন (Assembly Election) মানেই এতদিন ছিল এক উৎসবের আবহ—বুথের আশপাশে জমে উঠত আড্ডা, চট পেতে বসে চলত মুড়ি-চানাচুর খাওয়া, বিড়ির ধোঁয়ার সঙ্গে রাজনীতি নিয়ে তর্ক-বিতর্ক। কোথাও কোথাও আবার ভোটারদের জন্য থাকত বিরিয়ানির ব্যবস্থাও। কিন্তু এবারের নির্বাচন সেই চেনা ছবিকে একেবারে পাল্টে দিতে চলেছে। নির্বাচন কমিশনের (Election Commission of India) কড়া নির্দেশে এবার আর খাবার বিলি নয়, এমনকি বুথের বাইরে অকারণ ভিড় বা গল্পগুজবও সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
কী নির্দেশ দিয়েছে নির্বাচন কমিশন (Election Commission of India)?
আগের মতো বুথের কাছে বসে দলীয় নেতাদের ভোটারদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার ছবিও আর দেখা যাবে না। শাসক-বিরোধী উভয় পক্ষেরই সেই ব্যবস্থা তুলে দেওয়া হয়েছে। এবার এক জায়গায় পাঁচজনের বেশি একত্রে দাঁড়ানো বা বসা যাবে না। ভোটার স্লিপ দেওয়া বা তালিকার নম্বর মিলিয়ে দেওয়ার মতো কাজ আর করা যাবে না। ভাঙড়ে দীর্ঘদিনের অশান্তির ইতিহাস মাথায় রেখেই এই কঠোর নিয়ম জারি করেছে কমিশন। ফলে ভাঙড় এলাকার ৩০২টি বুথে এবার একেবারেই অন্যরকম পরিবেশ তৈরি হতে চলেছে।
উল্লেখ্য, পঞ্চায়েত ভোটের সময় ব্যাপক সংঘর্ষে প্রাণ হারিয়েছিলেন সাতজন। যদিও লোকসভা ভোট তুলনামূলকভাবে শান্ত ছিল, তবুও প্রশাসন কোনও ঝুঁকি নিতে চাইছে না। সেই কারণে গত কয়েক মাস ধরে কলকাতা পুলিশের উচ্চপদস্থ আধিকারিকরা বিস্তারিত পরিকল্পনা তৈরি করেছেন যাতে ভোট প্রক্রিয়া নির্বিঘ্নে সম্পন্ন হয়। এলাকার চিহ্নিত দুষ্কৃতীদের উপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে এবং যাঁদের বিরুদ্ধে অপরাধের পুরনো রেকর্ড রয়েছে, তাঁদের অনেককেই আটক করা হয়েছে।
এমনকি বিভিন্ন জায়গা থেকে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ও বোমা উদ্ধার হয়েছে। পোলেরহাট, উত্তর কাশীপুর এবং বিজয়গঞ্জ বাজার এলাকায় গত তিন মাসে প্রায় পাঁচশো বোমা উদ্ধার হওয়ার খবর মিলেছে। শান্তিপূর্ণ ভোট নিশ্চিত করতে ১৩টি অঞ্চলে প্রায় ৩০ কোম্পানি কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন হয়েছে । এরই মধ্যে ১০ কোম্পানি বাহিনী স্পর্শকাতর এলাকা ও সীমান্তে টহল শুরু করে দিয়েছে।

আরও পড়ুন :হার মানবে সিনেমাও! ৬৬-তে স্বপ্নপূরণের লড়াই শুরু করে যা করে দেখাচ্ছেন দীনেশ, জানলে অবাক হবেন
এই প্রসঙ্গে, লালবাজারের এক কর্তা বলেন, “নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে ভয়মুক্ত অবাধ নির্বাচনের জন্য ইতিমধ্যেই প্রচুর গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। গলি, মেঠো রাস্তার জন্য প্রচুর বাইকের টহলদারি বাড়ানো হয়েছে। কোথাও পাঁচ জনের বেশি জমায়েত হলেই গ্রেপ্তার করা হবে।” এই কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থায় রাজনৈতিক মহলে কিছুটা অস্বস্তি থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি দেখা যাচ্ছে। তাঁদের প্রত্যাশা, এবারের ভোট অন্তত শান্তিপূর্ণ ও নির্ভয়ে সম্পন্ন হবে, আর ভাঙড়ের নাম আর অশান্তির সঙ্গে জড়াবে না।












