বাংলাহান্ট ডেস্ক: ইরান-আমেরিকার চলমান সংঘাতের প্রভাব এবার স্পষ্টভাবে পড়তে শুরু করেছে বিশ্ব অর্থনীতিতে, যার ধাক্কা থেকে রেহাই পাচ্ছে না ভারতও। ভারতে ইতিমধ্যেই এলপিজি গ্যাসের সঙ্কট দেখা দিয়েছে এবং যার ফলে খাদ্য দ্রব্যের মূল্যবৃদ্ধিও (Food Price) কম ভাবাচ্ছে না সাধারণ মানুষদের। বহু ব্যবসায়ী পর্যাপ্ত কমার্শিয়াল সিলিন্ডার পাচ্ছেন না, ফলে বেশি দামে গ্যাস কিনে তাঁদের কার্যত নাজেহাল হতে হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের অস্থিরতা দেশের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে চাপ বাড়াচ্ছে।
যুদ্ধের প্রভাবে ভারতে বাড়ছে খাদ্যপণ্যের দাম (Food Price)!
এই পরিস্থিতির মধ্যেই উদ্বেগ বাড়াচ্ছে বিশ্বব্যাপী মুদ্রাস্ফীতির ঊর্ধ্বগতি। সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী, গত ছয় মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছেছে বিশ্ব মুদ্রাস্ফীতি। ফুড এন্ড অ্যাগ্রিকালচার অর্গানাইজেসান-এর খাদ্য মূল্য সূচক অনুযায়ী, মার্চ মাসে এই সূচক দাঁড়িয়েছে ১২৮.৫ পয়েন্টে, যা ফেব্রুয়ারির তুলনায় ২.৪ শতাংশ বেশি। টানা দ্বিতীয় মাস খাদ্যপণ্যের দাম বৃদ্ধির এই প্রবণতা বিশ্ব অর্থনীতিতে চাপের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধের আবহে ফের টান পড়বে পকেটে! লাফিয়ে বাড়ল প্যাকেজড পানীয় জলের দাম
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই মূল্যবৃদ্ধির মূল কারণ জ্বালানির দাম বৃদ্ধি। পশ্চিম এশিয়ার ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার ফলে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় উৎপাদন ও পরিবহণ খরচও বেড়েছে। এফএও-র প্রধান অর্থনীতিবিদ মাক্সিমো টরেরোর দাবি, এই সংঘাত দীর্ঘস্থায়ী হলে খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, যার ফল ভুগতে হবে বিশ্বজুড়ে।
অপরিশোধিত তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে শুধু পরিবহণ নয়, কৃষিক্ষেত্রেও প্রভাব পড়ছে। সারের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, যা ভবিষ্যতে ফলনের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। পাশাপাশি জৈব জ্বালানির চাহিদা বাড়ায় ভোজ্য তেলের মতো পণ্যের দামও ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে, যা সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন খরচ আরও বাড়িয়ে তুলছে।

আরও পড়ুন: হাজার হাজার ফুট উচ্চতায় ভারতীয় সেনাবাহিনীকে সাহায্য করছে এই ‘যোদ্ধা’, জানলে চমকে যাবেন
বিশ্ববাজারে গমের দাম ৪.৩ শতাংশ এবং ভুট্টার দামও বেড়েছে বলে জানা গেছে। ভোজ্য তেলের দাম মাসিক ভিত্তিতে ৫.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, আর চিনির দাম বেড়েছে ৭.২ শতাংশ। এফএও আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, যদি এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে কৃষকরা কম খরচের ফসলের দিকে ঝুঁকতে পারেন, যার ফলে ভবিষ্যতে খাদ্য সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিতে পারে। ফলে আগামী মাসগুলিতে বিশ্বজুড়ে খাদ্যদ্রব্যের দাম (Food Price) আরও বাড়ার সম্ভাবনা কোনওভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।












