বাংলাহান্ট ডেস্ক: কেন্দ্রের তরফে পাইরেসি রুখতে বড় পদক্ষেপ টেলিগ্রামের (Telegram) বিরুদ্ধে। সিনেমা হল বা ওটিটি প্ল্যাটফর্মে নতুন ছবি বা ওয়েব সিরিজ মুক্তি পাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই অনেক সময় তা বিনামূল্যে মোবাইলে পৌঁছে যাচ্ছে। এই বেআইনি কনটেন্ট ছড়ানোর অন্যতম বড় মাধ্যম হয়ে উঠেছে মেসেজিং অ্যাপ টেলিগ্রামের বিভিন্ন চ্যানেল। এই পরিস্থিতিতে অনলাইন পাইরেসি রুখতে কড়া পদক্ষেপ নিল ভারত সরকার। কপিরাইট লঙ্ঘনের অভিযোগে টেলিগ্রামকে ৩,১০০টিরও বেশি চ্যানেল সরিয়ে ফেলতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকার জানিয়েছে, নির্দেশ পাওয়ার তিন ঘণ্টার মধ্যেই সংশ্লিষ্ট চ্যানেলগুলি বন্ধ করতে হবে।
পাইরেসি রুখতে টেলিগ্রামের (Telegram) বিরুদ্ধে কড়া পদক্ষেপ নিল কেন্দ্র:
সরকারি সূত্রে জানা গিয়েছে, বিভিন্ন ওটিটি প্ল্যাটফর্মের তরফে অভিযোগ জমা পড়ার পরেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়। বিশেষ করে জিও সিনেমা এবং আমাজন প্রাইম ভিডিও অভিযোগ জানায় যে তাদের কপিরাইট সুরক্ষিত সিনেমা ও ওয়েব সিরিজ বহু টেলিগ্রাম চ্যানেলে অবৈধভাবে আপলোড এবং শেয়ার করা হচ্ছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হলে দেখা যায়, বিপুল সংখ্যক চ্যানেলে অনুমতি ছাড়াই নতুন ছবি, টিভি সিরিজ এবং বিভিন্ন OTT কনটেন্ট নিয়মিতভাবে ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছিল।
আরও পড়ুন:যুদ্ধের আবহে সবকিছুরই বাড়ছে দাম! অথচ হু হু করে সস্তা হচ্ছে ডিম, চিন্তায় ব্যবসায়ীরা
এর পরেই কেন্দ্রীয় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক আইনগত ব্যবস্থা নেয়। তথ্য প্রযুক্তি আইন ২০০০ এবং কপি রাইট অ্যাক্ট, ১৯৫৭-এর আওতায় টেলিগ্রামকে নোটিস পাঠানো হয়। ওই নোটিসে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট চ্যানেলগুলিতে কপিরাইট সুরক্ষিত কনটেন্ট বেআইনি ভাবে হোস্ট, শেয়ার এবং বিতরণ করা হয়েছে। তাই দ্রুত ওই চ্যানেলগুলিকে বন্ধ করে তাদের সমস্ত অবৈধ কনটেন্ট সরিয়ে ফেলতে হবে।
তদন্তে মোট ৩,১৪২টি টেলিগ্রাম চ্যানেলকে চিহ্নিত করা হয়েছে, যেখানে পাইরেটেড সিনেমা, টিভি সিরিজ এবং বিভিন্ন OTT প্ল্যাটফর্মের কনটেন্ট অবৈধভাবে ছড়ানো হচ্ছিল। সরকারের মতে, এই ধরনের অনলাইন পাইরেসি চলচ্চিত্র নির্মাতা, প্রযোজনা সংস্থা এবং ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলির আর্থিক ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। তাই বৌদ্ধিক সম্পত্তির অধিকার রক্ষা করতেই এই কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন: পরিশ্রম ও অদম্য জেদেই বাজিমাত! সর্বভারতীয় CA পরীক্ষায় দ্বিতীয় স্থান অর্জন মেদিনীপুরের খুশির
সরকারি মহলের মতে, টেলিগ্রামে বড় ফাইল শেয়ার করার সুবিধা এবং ব্যবহারকারীদের পরিচয় গোপন রাখার সুযোগ অনেক সময় অপব্যবহার করা হয়। ফলে পাইরেটেড কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এই কারণেই ভবিষ্যতে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে আরও দায়বদ্ধ করার দিকে জোর দিচ্ছে কেন্দ্র। অনলাইন জগতে কপিরাইট সুরক্ষা এবং পাইরেসি রোধে এ ধরনের অভিযান আরও বাড়ানো হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছে সরকার।












