বাংলা হান্ট ডেস্ক: উড়ন্ত গাড়ি কি আর কেবল কল্পবিজ্ঞানের গল্পেই সীমাবদ্ধ থাকবে না? এলন মাস্কের (Elon Musk) সংস্থা টেসলার নতুন রোডস্টারকে (Tesla Rodsters) ঘিরে এমনই জল্পনা শুরু হয়েছে। সম্প্রতি সংস্থার শেয়ার করা একটি ভিডিওতে গাড়িটিকে শূন্যে ভেসে থাকা, হাওয়ায় পাল্টি খাওয়া এবং শেষ পর্যন্ত চার চাকার উপর রাস্তায় নেমে আসতে দেখা গিয়েছে। আর সেই দৃশ্য ঘিরেই প্রযুক্তিপ্রেমীদের মধ্যে শুরু হয়েছে আলোচনা। টেসলার দাবি, অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও রকেটের মতো শক্তির সমন্বয়ে তৈরি এই ইলেকট্রিক স্পোর্টস কার (Electric Sports Car) গাড়ির দুনিয়ায় নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে। তবে ভিডিওতে দেখানো উড়ানের দৃশ্য বাস্তবে গাড়িটির কার্যকর উড়ন্ত ক্ষমতার প্রমাণ কি না, তা নিয়ে নিশ্চিত হওয়ার মতো তথ্য এখনও স্পষ্ট নয়।
ভারতে টেসলা রোডস্টার (Tesla Rodsters) কিনতে করতে হবে কত খরচ?
টেসলার প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, নতুন রোডস্টার (Tesla Rodsters) মোট তিনটি ভ্যারিয়েন্টে পাওয়া যেতে পারে—পারফরম্যান্স, থ্রাস্ট এবং রকেট। প্রতিটি মডেলেই আলাদা ধরনের প্রযুক্তি ও পারফরম্যান্সের সুবিধা থাকবে। বেস মডেল পারফরম্যান্স ভ্যারিয়েন্টে কোনও রকেট থ্রাস্টার থাকছে না। তার পরের ধাপে রয়েছে থ্রাস্ট সংস্করণ, যেখানে পিছনের দিকে অ্যাক্সিলারেশন বাড়ানোর জন্য বিশেষ বুস্টার থাকার কথা জানানো হয়েছে। সবচেয়ে উন্নত এবং এক্সক্লুসিভ রকেট ভ্যারিয়েন্টে থাকবে ১০টি থ্রাস্টার। সংস্থার দাবি, এই মডেলে এমন একটি প্রযুক্তি ব্যবহার করা হবে, যা গাড়িটিকে প্রচলিত স্পোর্টস কারের ধারণার বাইরে নিয়ে যেতে পারে। তবে এই প্রযুক্তির বাস্তব প্রয়োগ, নিরাপত্তা এবং কার্যকারিতা সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে।
আরও পড়ুন: কেন বাড়ানো হল সৌরভ-আশুতোষদের জেল হেফাজতের মেয়াদ? লিখিত নির্দেশে জানাল আদালত
গাড়িটির গতি নিয়েও বড় দাবি করেছে সংস্থা। বলা হচ্ছে, টেসলা রোডস্টার মাত্র ০.৮১ সেকেন্ডে শূন্য থেকে ঘণ্টায় ১০০ কিলোমিটার গতিতে পৌঁছতে পারবে। যদিও এই দাবি বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা স্বাধীন পরীক্ষার মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন। শুধু গতি নয়, গাড়িটির স্থিতিশীলতা বাড়ানোর জন্যও বিশেষ ব্যবস্থা রাখার কথা জানিয়েছে টেসলা। সংস্থার দাবি, তিনটি ভ্যারিয়েন্টেই থাকবে ফ্যানচালিত একটি সাকশন সিস্টেম। এই প্রযুক্তির সাহায্যে গাড়িটিকে রাস্তার দিকে টেনে সর্বোচ্চ ২জি পর্যন্ত ডাউনফোর্স তৈরি করা সম্ভব হতে পারে। সহজ কথায়, বেশি গতিতে চলার সময় গাড়ির চাকার সঙ্গে রাস্তার সংযোগ এবং নিয়ন্ত্রণ আরও উন্নত করাই এই ব্যবস্থার উদ্দেশ্য। তবে এই প্রযুক্তি সম্পর্কে সংস্থার দাবির পাশাপাশি বাস্তব পরীক্ষার ফলাফলও গুরুত্বপূর্ণ।
এবার আসা যাক দাম ও বুকিংয়ের কথায়। টেসলার রিজার্ভেশন ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ভারতীয় মুদ্রায় পারফরম্যান্স ভ্যারিয়েন্টের বুকিংয়ের জন্য প্রাথমিকভাবে ৫ লক্ষ ১ হাজার টাকা জমা দিতে হবে। এরপর ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪৫ লক্ষ ৫ হাজার টাকা দেওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অন্যদিকে, থ্রাস্ট ভ্যারিয়েন্টের ক্ষেত্রেও প্রাথমিক বুকিংয়ের অঙ্ক ৫ লক্ষ ১ হাজার টাকা। তবে পরবর্তী ১০ দিনের মধ্যে দিতে হবে ২ কোটি ৪৫ লক্ষ ২৪ হাজার টাকা। অর্থাৎ, শুধু বুকিংয়ের অঙ্ক দেখেই গাড়িটির মোট দাম সম্পর্কে সিদ্ধান্তে পৌঁছনো যাবে না। পাশাপাশি, রকেট ভ্যারিয়েন্টের সম্পূর্ণ মূল্য এবং ভারতে গাড়িটি কেনার ক্ষেত্রে কী কী শর্ত প্রযোজ্য হবে, সে বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য প্রয়োজন। সংস্থার তরফে বিশেষ অনুমোদনের প্রয়োজনীয়তার কথাও জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন: ভারতে আসবে ২০ বিলিয়ন ডলারের বিনিয়োগ! আজ থেকেই লাগু নিউজিল্যান্ডের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি
সব মিলিয়ে, টেসলা রোডস্টারকে (Tesla Rodsters) ঘিরে আগ্রহের অন্যতম কারণ তার অস্বাভাবিক গতি, রকেট প্রযুক্তির দাবি এবং উড়ন্ত গাড়ির মতো চমকপ্রদ উপস্থাপনা। সংস্থার পরিকল্পনা অনুযায়ী, গাড়িটি ২০২৮ সাল নাগাদ বাজারে আসতে পারে। তবে এখনও পর্যন্ত সরবরাহের নির্দিষ্ট সময়সূচি প্রকাশ করা হয়নি। ফলে নির্ধারিত সময়েই গাড়িটি ক্রেতাদের হাতে পৌঁছবে কি না, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। একই সঙ্গে, ভিডিওতে দেখানো দৃশ্যের সঙ্গে বাস্তবে গাড়িটির প্রযুক্তিগত সক্ষমতার কতটা মিল থাকবে, সেটিও ভবিষ্যতের পরীক্ষার উপর নির্ভর করবে। ভারতীয় ক্রেতাদের জন্য বুকিংয়ের অঙ্ক সামনে এলেও গাড়িটির চূড়ান্ত মূল্য, ভারতে সরবরাহের ব্যবস্থা এবং উড়ানের দাবির বাস্তব ভিত্তি সম্পর্কে আরও তথ্য না পাওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করাই যুক্তিযুক্ত।














