বাংলাহান্ট ডেস্ক: মুড অফ দ্য নেশন সমীক্ষায় দেশের সামনে উঠে এসেছে নরেন্দ্র মোদি (Narendra Modi) বিজেপি সরকারের প্রতি জনমতের এক বিস্তৃত চিত্র। ইন্ডিয়া টুডে-সি ভোটারের যৌথ উদ্যোগে পরিচালিত এই সমীক্ষা ২০২৫ সালের ১ জুলাই থেকে ১৪ অগাস্টের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। দেশের সমস্ত রাজ্য ও লোকসভা কেন্দ্র মিলিয়ে ৫৪ হাজার ৭৮৮ জন প্রাপ্তবয়স্কের মতামত নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গত ২৪ সপ্তাহে সংগৃহীত ১ লক্ষ ৫২ হাজার ৩৮ জনের মতামতও বিশ্লেষণে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই ফলাফল দেশজুড়ে রাজনৈতিক আবহ বুঝতে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
মোদির কাজে কত শতাংশ মানুষ সন্তুষ্ট! (Narendra Modi)
সমীক্ষায় দেখা গিয়েছে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জনপ্রিয়তায় খানিকটা হলেও ভাটা পড়েছে। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ৬২ শতাংশ মানুষ তাঁর কর্মক্ষমতার প্রশংসা করেছিলেন, অগাস্টে সেই হার নেমে দাঁড়িয়েছে ৫৮ শতাংশে। প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তাঁর তৃতীয় মেয়াদের কর্মক্ষমতা ‘অসামান্য’ বলে মনে করছেন ৩৪.২ শতাংশ উত্তরদাতা। ২৩.৮ শতাংশ একে ‘ভালো’ বলেছেন। তবে একই প্রশ্নে ফেব্রুয়ারির জরিপে ‘অসামান্য’ বলেছিলেন ৩৬.১ শতাংশ মানুষ, যা স্পষ্টতই এবার কিছুটা কমেছে। এদিকে ১২.৭ শতাংশ মানুষ মোদির কাজকে ‘গড়পড়তা’ বলেছেন। পাশাপাশি ১২.৬ শতাংশ মানুষ এটিকে ‘খারাপ’ এবং ১৩.৮ শতাংশ মানুষ একে ‘খুব খারাপ’ হিসেবে মূল্যায়ন করেছেন।
আরও পড়ুন:-সিটি অফ “ভয়”! মহিলাদের জন্য অসুরক্ষিত শহর হিসেবে চিহ্নিত কলকাতা, কী জানাচ্ছে রিপোর্ট?
শুধু প্রধানমন্ত্রী নয়, বিজেপির মধ্যে ভবিষ্যতে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার যোগ্য মুখ নিয়েও সমীক্ষায় প্রশ্ন করা হয়েছিল। সেখানে দেখা গেছে, বর্তমান প্রধানমন্ত্রী মোদির পরে দ্বিতীয় জনপ্রিয় মুখ হলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। প্রায় ২৮ শতাংশ মানুষ তাঁকেই পছন্দ করেছেন সম্ভাব্য বিকল্প হিসেবে। এই ফলাফল বিজেপির অভ্যন্তরীণ নেতৃত্বের চিত্র নিয়েও এক ধরনের ইঙ্গিত দিয়েছে।
এনডিএ সরকারের সামগ্রিক কার্যকারিতা নিয়েও মানুষ মত প্রকাশ করেছেন। ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে যেখানে ৬২.১ শতাংশ উত্তরদাতা সরকারের কাজকে ভালো বলেছিলেন, এবার সেই সংখ্যা কমে হয়েছে ৫২.৪ শতাংশ। ১৫.৩ শতাংশ মানুষ জানিয়েছেন তাঁরা না সন্তুষ্ট, না অসন্তুষ্ট, যা আগের ৮.৬ শতাংশের তুলনায় অনেকটাই বেশি। পাশাপাশি ২.৭ শতাংশ মানুষ সোজাসুজি সরকারের প্রতি অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।
আরও পড়ুন:- দেশের শীর্ষ আদালতের সর্বোচ্চ পদে বাঙালি বিচারপতি! তালিকায় পরবর্তী সম্ভাব্য নাম আর কারা?
সমীক্ষার তথ্য বলছে, মোদির জনপ্রিয়তা এখনও দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে সর্বাধিক হলেও সাম্প্রতিক মাসগুলোতে কিছুটা হলেও এর ভাটার টান দেখা যাচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ, বেকারত্ব এবং মুদ্রাস্ফীতি এই জনমতের পরিবর্তনে বড় ভূমিকা রেখেছে। তবে এখনও অধিকাংশ মানুষ তাঁকে দেশের নেতৃত্বের যোগ্য ব্যক্তি হিসেবেই দেখছেন। অন্যদিকে, সরকারের কার্যকারিতায় জনগণের আস্থার হার কিছুটা হলেও কমেছে, যা আসন্ন রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।এই সমীক্ষা স্পষ্ট করে দিয়েছে, নরেন্দ্র মোদি ও বিজেপি সরকারকে ঘিরে দেশের মানুষের মনোভাব জটিল আকার নিচ্ছে। প্রশংসা ও সমালোচনা দুই-ই মিলেমিশে বর্তমান রাজনৈতিক আবহকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলছে।