তৃণমূলের বাদের খাতায় ৯০ বিধায়ক! অভিষেক মডেল লাগু হলেই বাদ মদন, ফিরহাদরা

বাংলা হান্ট ডেস্ক : বিগত কয়েকদিন ধরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Abhishek Banerjee) বয়েস মডেল নিয়ে তোলপাড় বাংলার (West Bengal) রাজ্য রাজনীতি। রাজনৈতিক কারবারিদের মতে, এই নয়া মডেল কার্যকর হলে কমকরে হলেও ১০ জন হেভিওয়েট সাংসদ টিকিট পাবেননা। সেই সাথে আগামী বিধানসভা নির্বাচনের জন্য প্রায় ৮৮ জন বিধায়কের নাম বদলাতে হবে। কারণ এদের প্রত্যেকেরই বয়স ৬৫ এর কোঠায়। সেই সাথে পদ হারাবেন মন্ত্রীসভার ১৪ জন সদস্য।

   

এখন প্রশ্ন হল, অভিষেকের এই নয়া বয়স বিধিতে কি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের (Mamata Banerjee) নামও আসবে? এই প্রসঙ্গে কুণাল ঘোষ স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই বিষয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ব্যতিক্রম। তবে দিদি বাদ দিয়ে বাকি সমস্ত নেতা মন্ত্রীদের উপরেই লাগু হবে প্রণীত বয়স মডেল নিয়ম। যদিও মেয়র ফিরহাদ হাকিম‌ আবার রাজনৈতিক মহলে বয়সের সীমারেখা মানতে রাজি নন। তার কথায়, ‘মানুষ যাদের চাইবেন, তাদেরই টিকিট পাওয়া উচিত।’

জানিয়ে রাখি এই নয়া নীতি লাগু হলে ২০২৬ এর বিধানসভা নির্বাচন থেকে ফিরহাদ হাকিমও (৬৪) বাদ পড়বেন‌। সেই সাথে বাদ পড়বেন বিধানসভার স্পিকার বিমান বন্দ্যোপাধ্যায় (৭৪) এবং ডেপুটি স্পিকার আশিস বন্দ্যোপাধ্যায়ও (৭২)। এই তালিকায় নাম রয়েছে জেলবন্দী চার বিধায়কেরও। জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক (৬৫) যদিও এখনও মন্ত্রী পদেই রয়েছেন তবে বয়সবিধিতে তিনিও বাদ পড়বেন। ওদিকে পার্থ চট্টোপাধ্যায়, মানিক ভট্টাচার্য এই দুজন বহু আগেই ৬৫-র গণ্ডি অতিক্রম করে গেছেন। তাই তারা নির্দোষ প্রমাণিত হলেও বয়সবিধি লাগু হলে তারাও টিকিট পাবেননা।

আরও পড়ুন : ‘নিজে আসতে না পারলেও চলে এল বার্তা’! ‘লক্ষ কন্ঠে গীতাপাঠ’র আগে কী বললেন নরেন্দ্র মোদী?

তালিকায় রয়েছে কালারফুল বয় মদন মিত্রের নাম। তার বয়স এখন ৬৯। যদিও তাকে দেখে তা বোঝা মুশকিল। এইদিন কথা প্রসঙ্গে বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমাদের উপর দলের নির্দেশ রয়েছে, এই সমস্ত ব্যাপারে যা বলার দলের মুখপাত্রেরা বলবেন। তাই আমার কিছু বলার নেই। দলের সিদ্ধান্তই আমার কাছে শিরোধার্য।’ আবার বিপ্লব মিত্রের গলায় বেশ আত্মবিশ্বাসের সুর। তিনি বলেন, ‘আমাদের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তো বলেই দিয়েছেন, বয়স কোনও বিষয় নয়। মনের বয়সটাই আসল।’

আরও পড়ুন : বৃষ্টিতে ভিজবে বাংলার এই ৫ জেলা! চোখের পলকে বদলে গেল দক্ষিণবঙ্গের আবহাওয়া, IMD-র ভয়ঙ্কর রিপোর্ট

যদিও বিধায়ক সাবিত্রী মিত্র আবার অন্য সুরে গাইলেন। তিনি বেশ স্পষ্ট ভাষাতেই বললেন, ‘আমার ৬২ চলছে। যদি ৬৫ ঊর্ধ্বসীমা হয়, তা হলে তো অনেককেই ছাড়তে হবে! আর কে বলেছে সারা জীবন রাজনীতি করতে হবে? এ বার তো পরিবার, নাতি-নাতনিদেরও সময় দিতে হবে।’ তবে যে যাই বলুক, ২০২৬ এর আগেই যদি বয়সবিধি লাগু করতে হয় তাহলে কোপ পড়বে বহু হেভিওয়েট নেতার উপর। এমন গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতিতে সেকেন্ড ইন কমান্ড অভিষেক ঠিক কী সিদ্ধান্ত নেবেন? সেই দিকেই তাকিয়ে গোটা রাজ্য।

সম্পর্কিত খবর