বাংলাহান্ট ডেস্ক:- দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটতে চলেছে। অবশেষে ভারতীয় বায়ুসেনার (Indian Air Force) হাতে আসতে চলেছে দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি হালকা ওজনের যুদ্ধবিমান তেজস এমকে ওয়ান এ (Tejas MK-1A)। প্রতিরক্ষা সচিব আরকে সিংহ (Rajesh Kumar Singh) আনুষ্ঠানিকভাবে জানিয়েছেন, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা হিন্দুস্থান অ্যারোনটিকস লিমিটেড (HAL) সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে প্রথম দফায় দু’টি যুদ্ধবিমান সরবরাহ করবে। এই ঘোষণা কার্যত বায়ুসেনার জন্য বড় স্বস্তি বয়ে এনেছে।
ভারতীয় বায়ুসেনার হাতে তেজস (Indian Air Force)
এর আগে বহুবার প্রতিশ্রুতি দেওয়া সত্ত্বেও সময়মতো যুদ্ধবিমান হাতে না আসায় হ্যালকে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছিল। বিশেষত বায়ুসেনার প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল এপি সিংহ প্রকাশ্যে ক্ষোভ প্রকাশ করেছিলেন। তিনি সাফ জানিয়েছিলেন, নির্ধারিত সময়সীমা রক্ষা না করায় হ্যালের প্রতি আস্থা হারাচ্ছেন তিনি। সরবরাহে কেন এমন দেরি হচ্ছে, তা ব্যাখ্যা করেছিল হ্যাল। তাদের বক্তব্য, যুদ্ধবিমানের জন্য প্রয়োজনীয় এফ৪০৪ ইঞ্জিন সরবরাহে দেরি করেছে মার্কিন সংস্থা জিই অ্যারোস্পেস। এই সমস্যার কারণে বিমান নির্দিষ্ট সময়ে হস্তান্তর করা সম্ভব হয়নি। তবে সব জটিলতা কাটিয়ে এবার নির্ধারিত সময়েই তেজস পৌঁছোবে বলে আশ্বাস দিয়েছে হ্যাল।
আরও পড়ুন:- লাগাতার বৃষ্টিতে ফের ধস উত্তরাখণ্ডে, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আটকে ১৯ কর্মী, জারি উদ্ধারকাজ
শুধু দুটি যুদ্ধবিমান সরবরাহেই সীমাবদ্ধ থাকছে না খবর। প্রতিরক্ষা সচিব আরকে সিংহ আরও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, ভবিষ্যতে ৯৭টি নতুন তেজস যুদ্ধবিমানের জন্যও একটি বড় চুক্তি স্বাক্ষরিত হতে পারে। যদি তা কার্যকর হয়, তবে ভারতীয় প্রতিরক্ষা বাহিনীর শক্তি অনেকটাই বৃদ্ধি পাবে।
প্রসঙ্গত, তেজস সম্পূর্ণ দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি একটি মাল্টি রোল সুপারসনিক যুদ্ধবিমান। এটি বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে সক্ষম। ৬৫ শতাংশেরও বেশি যন্ত্রাংশ ও সরঞ্জাম ভারতীয় সংস্থার তৈরি হওয়ায় এই বিমান ভারতের প্রতিরক্ষা শিল্পে আত্মনির্ভরতার প্রতীক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশেষজ্ঞ মহলের দাবি, চিনের জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমানের তুলনায় তেজস প্রযুক্তিগত উৎকর্ষের দিক থেকে অনেকটাই এগিয়ে। আন্তর্জাতিক প্রতিরক্ষা বিষয়ক বিভিন্ন রিপোর্টেও এই মতামত প্রতিফলিত হয়েছে।
আরও পড়ুন:-‘মেয়ে জামাই দেখুক’, কন্যার নাম দেখেই মন্তব্য TMC বিধায়কের, কারা রয়েছেন অযোগ্যদের তালিকায়?
ভারতীয় বায়ুসেনা প্রাথমিকভাবে ৪০টি তেজস মার্ক-১ যুদ্ধবিমানের জন্য হ্যালকে বরাত দিয়েছিল। কিন্তু এতদিনেও বিমান হাতে না পাওয়ায় অসন্তোষ বাড়ছিল। এমনকি বায়ুসেনার প্রধান ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছিলেন, “আমরা জানি কোনও দিনই বিমান হাতে আসবে না, অথচ চুক্তি করতে বাধ্য হই।” তাঁর সেই মন্তব্যই হ্যালকে আরও চাপে ফেলে দিয়েছিল।
তবে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন ঘোষণা পরিস্থিতি বদলে দিয়েছে। সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে দুটি তেজস যুদ্ধবিমান ভারতীয় বায়ুসেনার ভান্ডারে যুক্ত হলে তা কেবল প্রতিরক্ষা শক্তিকেই নয়, দেশীয় প্রযুক্তির সাফল্যকেও নতুন মাত্রা দেবে। দীর্ঘ টালবাহানার পর অবশেষে এই সুখবরেই উচ্ছ্বসিত প্রতিরক্ষা মহল।