বাংলা হান্ট ডেস্ক : কলকাতার সঙ্গে এবার সরাসরি সড়কপথে যুক্ত হল জঙ্গলমহলের ঝিলিমিলি। বারিকুল এলাকার মানুষের, অপেক্ষার অবসান হল। ঝিলিমিলি থেকে কলকাতা পর্যন্ত SBSTC-র নতুন পরিষেবার (Bus Service) সূচনা হওয়ায় জেলার পরিবহণ ব্যবস্থায় একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ তৈরি হল। স্থানীয়দের আশা, এর প্রভাব শুধু যাতায়াতেই সীমাবদ্ধ থাকবে না, পর্যটনের ক্ষেত্রেও পড়বে।
বাঁকুড়ার ঝিলিমিলি থেকে সরাসরি কলকাতার বাস পরিষেবা (Bus Service)
ঝিলিমিলি ও মুকুটমণিপুরকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরেই পর্যটকদের আনাগোনা রয়েছে। কিন্তু কলকাতা থেকে এই অঞ্চলে সরাসরি সরকারি বাস না থাকায় যাত্রীদের একাধিক যানবাহনের উপর নির্ভর করতে হত। নতুন পরিষেবায় সেই সমস্যা অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন এলাকাবাসী। বিশেষ করে অল্প সময়ের জন্য বেড়াতে আসা পর্যটকদের কাছে সরাসরি বাস পরিষেবা বাড়তি সুবিধা তৈরি করতে পারে।
ঝিলিমিলি থেকে কলকাতাগামী সরকারি বাসের পরিষেবা আনুষ্ঠানিক ভাবে চালু করা হয়। প্রতিদিন ভোর ৪টা ২৫ মিনিটে ঝিলিমিলি থেকে বাসটি ছাড়বে। কলকাতা থেকে ফেরার সময় নির্ধারিত হয়েছে দুপুর ৩টা ১০ মিনিট। প্রায় ৩০০ কিলোমিটারের এই যাত্রাপথে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ এলাকা পড়ছে। ঝিলিমিলি থেকে রানিবাঁধ, মুকুটমণিপুর, খাতড়া, বাঁকুড়া, বিষ্ণুপুর এবং আরামবাগ হয়ে কলকাতায় পৌঁছবে বাসটি। তবে এই রুটই চূড়ান্ত নয়। পরবর্তী সময়ে পরিষেবার পথ পরিবর্তন করে দুর্গাপুর হয়ে কলকাতার সঙ্গে সংযোগ তৈরি করার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
যাত্রীদের জন্য ঝিলিমিলি থেকে কলকাতা পর্যন্ত ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে ২৪৫ টাকা। সরাসরি সরকারি বাসের কারণে যাতায়াতের ক্ষেত্রে স্থানীয়দের সুবিধা বাড়বে বলেই মনে করা হচ্ছে। একইসঙ্গে কলকাতার সঙ্গে বাঁকুড়ার জঙ্গলমহল এলাকার যোগাযোগও আরও সুগম হবে। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে গিয়ে মন্ত্রী ক্ষুদিরাম টুডু বলেন, “আজকে জঙ্গলমহল থেকে আমাদের বাস উদ্বোধন হলো। এই জঙ্গলমহলের মানুষ ভীষণ খুশি, বিশেষ করে মহিলারা। সরকারের উদ্যোগে পয়লা জুন থেকে মহিলারা SBSTC বাসে বিনা পয়সায় যাওয়া-আসা করতে পারছে। এটা মহিলাদের কাছে একটা বড় আনন্দের বিষয়।”

আরও পড়ুন : নিখোঁজ স্ত্রীকে খুঁজতে মরিয়া শুভ্রাংশু, এবার প্রধানমন্ত্রীর কাছে আবেদন
স্থানীয়দের মতে, ঝিলিমিলি ও মুকুটমণিপুরে এক-দুদিনের জন্য বেড়াতে আসা পর্যটকের সংখ্যা যথেষ্ট। সরাসরি কলকাতা ঝিলিমিলি সরকারি বাস চালু হওয়ায় পর্যটকদের কাছে এই গন্তব্যগুলি আরও সহজলভ্য হয়ে উঠতে পারে। ফলে নতুন পরিবহণ পরিষেবাকে ঘিরে পর্যটন ব্যবসার প্রসার এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়ার আশাও করছেন জঙ্গলমহলের মানুষ।













