‘আমি দুশ্চরিত্র, মহিলাবাজ’, সুস্থ হয়ে ফিরতেই শুরু বিতর্ক, স্বমহিমায় কবীর সুমন

বাংলা হান্ট ডেস্ক : কিছুদিন আগেই ফুসফুসের সংক্রমণ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন গানওয়ালা কবীর সুমন (Kabir Suman)। যমে মানুষে টানাটানি অবস্থা কাটিয়ে অবশেষে জীবনে ফিরেছেন শিল্পী। হাসপাতাল থেকে ছাড়াও পেয়েছেন। আর ফিরেই স্বভাবসুলভ ভঙ্গিতে বোমা ফাটিয়েছেন তিনি। সোশ্যাল মিডিয়ায় (Social Media) এমন এক পোষ্ট করেছিলেন যা নিয়ে শুরু হয়েছে ফের বিতর্ক।

   

এইদিন সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায়ের (Sandhya Mukherjee) একটি ছবি পোস্ট করে তিনি লিখেছেন, “এই কন্ঠশিল্পীকে চেনেন কি? যে তাকে পরিচালনা করছে তাকে চেনেন বিলক্ষণ – ‘দুশ্চরিত্র, মহিলাবাজ’, ইত্যাদি ইত্যাদি। ঐ কন্ঠশিল্পী বাংলার, উপমহাদেশের, বিশ্বের গর্ব। তাঁকে ভারতরত্ন না দিয়ে পদ্মশ্রী দিয়ে অপমান করা হয়েছিল। কলকেতার এক পদ্মপণ্ডিত ‘শিল্পী’ তখন বলেছিল ‘একটা পদ্মভূষণ দেওয়া যেত।’ সেই প্রাণীটাও ঐ খেতাব পেয়েছে যে!”

নাম না করেই কটাক্ষ শানিয়ে তিনি আরও লিখেছেন, “ভারতরত্ন কথাটা তার মুখ দিয়ে বেরোতে চায়নি। এইচ এম ভি স্টুডিয়োয় রেকর্ডিংরতা এই মহাশিল্পী সেই পদ্মশ্রী প্রত্যাখ্যান করায় ভারতের এক চ্যানেল তাঁকে “দেশদ্রোহী” বলেছিল। তাদেরই এক খোকা রিপোর্টার আমায় সমানে উত্যক্ত করায় তাকে আমি খিস্তি করেছিলাম। বেশ করেছিলাম।”

আরও পড়ুন : ‘ভারত মাতার জয়’, কাতার থেকে ফিরেই মোদীকে ধন্যবাদ জানালেন মৃত্যুদণ্ড থেকে রেহাই পাওয়া ৮ নৌসেনিক

এখানেই থেমে থাকেননি তিনি। সেই পড়শিদেশ যারা অহরহ ভারতের বদনামে মত্ত থাকে সেই বাংলাদেশ বন্দনায় মুখর হয়েছেন তিনি। কবীর সুমনের কথায়, ‘এই মহাশিল্পীকে দিয়ে আমি গাইয়েছিলাম আমার রচনা, “রংধনুটানা সেতু/ চলে গান স্বপ্নের মতো”। “রংধনু” কথাটি আমার জীবনে বাংলাদেশের দান। ভাগ্যিস বাংলাদেশ হয়েছিল, ভাগ্যিস বাহান্নয় ঘটেছিল একুশ, ভাগ্যিস একদিন শুনেছিলাম বাংলার বজ্রকন্ঠ। এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম! ভাগ্যিস আমার মাভাষা বাংলাদেশের রাষ্ট্রভাষা!’

আরও পড়ুন : ‘জাতির জনক, নারীদের ত্রাতা’, সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল TMC নেতা শাহজাহানের অনুগামীদের গান

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, পৃথিবীতে হাজার হাজার ভাষা আছে। তবে মাতৃভাষার প্রতি ভালোবাসাটা সম্পূর্ণ ভিন্ন। আর এই মাতৃভাষার জন্যই প্রাণ দিয়েছিলেন বাংলার শত শত বিপ্লবী। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি হয়েছিল মহা বিপ্লব। তবে কেবল বাংলাদেশই নয়, প্রচ্ছন্নভাবে ভূমিকা নিয়েছিল কলকাতাও। তারপর থেকেই মানুষের ভাষা এবং কৃষ্টির অধিকারের প্রতি সম্মান জানিয়ে ২১শে ফেব্রুয়ারিকে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ঘোষণা করা হয়। এই দিনটি বৈশ্বিক পর্যায়ে সাংবার্ষিকভাবে গভীর শ্রদ্ধা ও যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে উদযাপন করা হয়।