বাংলা হান্ট ডেস্কঃ শহরের রুফটপ রেস্তরাঁগুলিতে অগ্নি-নিরাপত্তা ও পরিকাঠামোগত নিয়ম মানা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে ফের কড়া অবস্থান নিল কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)। সরকার নির্ধারিত SOP মেনে পরিকাঠামো তৈরি না করা রুফটপ রেস্তরাঁগুলিকে ফের নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে নিয়ম মানতে না পারলে লাইসেন্স বাতিলের মতো কড়া সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে বলে জানাচ্ছে প্রশাসন।
রুফটপ রেস্তরাঁগুলির লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত নিতে চলেছে পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)
কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) সূত্রে জানা যাচ্ছে, কোথাও ফায়ার লাইসেন্স থাকলেও ছাদের ৫০ শতাংশ অংশ খোলা রেখে রেস্তরাঁ চালানোর নিয়ম মানা হয়নি। কোথাও আবার ফায়ার লাইসেন্স ছাড়াই চলছে রুফটপ রেস্তরাঁ। আবার কিছু জায়গায় অগ্নি নির্বাপক যন্ত্র থাকলেও ফায়ার লাইসেন্স পুনর্নবীকরণ করানো হয়নি। এমনকি কয়েকটি ক্ষেত্রে দেখা গিয়েছে, নিয়ম মেনে পরিকাঠামো তৈরির কাজ সবে শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি শহরের বিভিন্ন এলাকার মোট ৮৩টি রুফটপ রেস্তরাঁ ও পানশালায় অভিযান চালায় কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation), দমকল ও পুলিশের যৌথ দল। সেই অভিযানে একাধিক গলদ ধরা পড়ে। সংশ্লিষ্ট রেস্তরাঁ কর্তৃপক্ষকে দ্রুত সমস্ত নিয়ম মেনে চলার জন্য ফের সতর্ক করা হয়েছে। তবে আধিকারিকদের মতে, কিছু রেস্তরাঁর ক্ষেত্রে নিয়ম মানার সদিচ্ছা এবং উদ্যোগ স্পষ্ট। তাদের বাকি বিধিগুলি কার্যকর করতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) বিল্ডিং বিভাগ সূত্রে জানা যাচ্ছে, যেসব রুফটপ রেস্তরাঁ পুজোর আগে অন্তর্বর্তীকালীন বন্ড দিয়ে রেস্তরাঁ চালু করেছিল, কিন্তু তিন মাসের মধ্যে পরিকাঠামোগত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেয়নি, তাদের ফের নোটিস পাঠানো শুরু হয়েছে। ইতিমধ্যেই ১৭টি রেস্তরাঁকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। আগামী দিনে আরও কয়েকটি রেস্তরাঁ ও পানশালাকেও নোটিস পাঠানো হবে।
যৌথ অভিযানে দু’পাতার প্রশ্নপত্র নিয়ে ময়দানে নামে প্রশাসন। পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) বিল্ডিং বিভাগ মোট ৩১টি প্রশ্ন তৈরি করে। কোন ওয়ার্ড ও বরোর অন্তর্গত রুফটপ, ঠিকানা, ছাদের ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া হয়েছে কি না, ফায়ার লাইসেন্স, মিউটেশন, পুরসভার ট্রেড লাইসেন্স রয়েছে কি না, সবই খতিয়ে দেখা হয়। পাশাপাশি আপৎকালীন পরিস্থিতিতে বেরোনোর জন্য কতগুলি সিঁড়ি রয়েছে, ছাদের দরজা খোলা থাকে কি না, সেই বিষয়গুলিও যাচাই করা হয়। সব তথ্য রিপোর্ট আকারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হয়। সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই বর্তমান পদক্ষেপ।

আরও পড়ুনঃ অবসর না নিয়েই PF-এর ১০০% টাকা তোলা সম্ভব? জানুন নতুন নিয়ম কী বলছে
প্রসঙ্গত, গত ২৯ এপ্রিল বড়বাজারের একটি হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে শিশু-সহ ১৪ জনের মৃত্যু হয়। তার পরই নবান্নের নির্দেশে অগ্নিবিধি মেনে কীভাবে বহুতল বা রুফটপে রেস্তরাঁ চালানো যাবে, তা নিয়ে অভিন্ন বিধি প্রণয়ন করে মেয়র তথা পুর ও নগরোন্নয়নমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের নেতৃত্বাধীন মন্ত্রিগোষ্ঠী। পুজোর আগে জানানো হয়েছিল, বিধিগুলি কার্যকর করার লিখিত প্রতিশ্রুতি দিলে রুফটপ রেস্তরাঁ চালু করা যাবে। তবে তিন মাসের মধ্যে সমস্ত বিধি কার্যকর করতেই হবে এই শর্ত মানেনি অনেক রেস্তরাঁ। পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) বিল্ডিং বিভাগের এক কর্তা স্পষ্ট জানিয়েছেন, ‘নোটিস পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে প্রয়োজনীয় নিয়ম না মানলে লাইসেন্স বাতিল করা হতে পারে।’












