বাংলা হান্ট ডেস্কঃ আর কিছু দিনের মধ্যেই রাজ্যে বর্ষা ঢুকতে পারে। কিন্তু তার আগেই কলকাতা পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) প্রস্তুতি নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। প্রতি বছর এই সময়ে বর্ষা মোকাবিলার জন্য একাধিক বৈঠক হলেও এ বার এখনও পর্যন্ত কোনও বড় বৈঠকই হয়নি বলে খবর। পুরসভার অন্দরেই আলোচনা, মেয়র ফিরহাদ হাকিম ও পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডের মধ্যে দূরত্ব বাড়ার জেরেই এই দেরি হচ্ছে। ফলে শহরের বিভিন্ন এলাকায় ফের জল জমার আশঙ্কা বাড়ছে।
বর্ষার আগে চিন্তায় কলকাতা পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation)
সাধারণত মে মাসের শুরু থেকেই কলকাতা পুরসভায় (Kolkata Municipal Corporation) বর্ষার প্রস্তুতি শুরু হয়ে যায়। নিকাশি ব্যবস্থা ঠিক করা, ম্যানহোল পরিষ্কার করা এবং কোথায় জল জমতে পারে, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়। বিভিন্ন বিভাগের আধিকারিকদের নিয়ে একাধিক বৈঠকও করা হয়। কিন্তু এ বার এখনও পর্যন্ত সেই বৈঠক হয়নি বলেই খবর।
পুরসভা (Kolkata Municipal Corporation) সূত্রে জানা গিয়েছে, মেয়র ফিরহাদ হাকিম পুর কমিশনার স্মিতা পাণ্ডেকে বৈঠক করার কথা জানালেও এখনও কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। এর ফলে নিকাশি বিভাগেও উদ্বেগ বাড়ছে। কারণ বর্ষার সময় শহরের বিভিন্ন জায়গায় ম্যানহোল বা গালিপিট জঞ্জালে বন্ধ হয়ে গেলে দ্রুত জল নামানো কঠিন হয়ে পড়ে।
বিশেষ করে উত্তর ও মধ্য কলকাতার অনেক এলাকাতেই প্রতি বছর জল জমার সমস্যা দেখা যায়। এ বারও একই পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ১০ জুনের মধ্যে পশ্চিমবঙ্গে বর্ষা ঢুকতে পারে। কিন্তু এখনও পর্যন্ত বড় কোনও প্রস্তুতির ছবি সামনে আসেনি।
পুরসভার (Kolkata Municipal Corporation) একাংশের দাবি, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর প্রশাসনিক স্তরে সমন্বয়ের অভাব আরও বেড়েছে। মেয়র ও পুর কমিশনারের মধ্যে দূরত্ব তৈরি হওয়াতেই সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হচ্ছে বলে মনে করা হচ্ছে। সোমবার রাজনৈতিক পালাবদলের পর প্রথমবার মুখোমুখি হন ফিরহাদ হাকিম ও স্মিতা পাণ্ডে। সূত্রের খবর, প্রায় ১০ থেকে ১২ মিনিটের সেই বৈঠকে বর্ষা প্রস্তুতির বিষয়টি উঠেছিল। তবে কী সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
গত বছরও এক রাতের ভারী বৃষ্টিতে কলকাতার বহু এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়েছিল। বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে কয়েক জনের মৃত্যুর ঘটনাও ঘটেছিল। সেই সময় কলকাতা পুরসভার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল বিভিন্ন মহলে। যদিও আগে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছিল, তবুও পরিস্থিতি সামলাতে সমস্যায় পড়তে হয়েছিল প্রশাসনকে।

আরও পড়ুনঃ বাড়ছে বিতর্ক! অভিষেক ও সায়নীর ঘোষের যৌথ মালিকানায় ফ্ল্যাট? রিপোর্টে সামনে আসতেই তোলপাড়
শুধু কলকাতা নয়, হাওড়া, বিধাননগর, আসানসোল, শিলিগুড়ি এবং চন্দননগর পুরসভাতেও একই ধরনের সমস্যা তৈরি হয়েছে বলে খবর। প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মধ্যে দূরত্ব বাড়ায় বর্ষার প্রস্তুতি নিয়েও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ (Kolkata Municipal Corporation)।













