লক্ষ্মীর ভান্ডারে ‘মালামাল’! মাসে মাসে ঢুকছে ৩০-৪০ হাজার টাকা? বিজেপি বিধায়কের মন্তব্যে তোলপাড় কাণ্ড

Published on:

Published on:

Lakshmir Bhandar Row Sparks Political Storm in Bengal
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) হল পশ্চিমবঙ্গ সরকারের একটি জনপ্রিয় সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। এই প্রকল্পের মাধ্যমে রাজ্যের পরিবারের প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের প্রতি মাসে নির্দিষ্ট অঙ্কের আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়। মূল উদ্দেশ্য হল মহিলাদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর করা এবং সংসারের দৈনন্দিন খরচে তাঁদের পাশে দাঁড়ানো। জাতি বা ধর্ম নয়, নির্দিষ্ট যোগ্যতার ভিত্তিতেই এই প্রকল্পের টাকা পান উপভোক্তারা। রাজ্যের লক্ষ লক্ষ মহিলা এই প্রকল্পের আওতায় আসায় লক্ষ্মীর ভান্ডার ধীরে ধীরে বাংলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ও আলোচিত সরকারি প্রকল্পে পরিণত হয়েছে।

শুরু থেকেই এই প্রকল্প (Lakshmir Bhandar) নিয়ে রয়েছে একাধিক বিতর্ক। সম্প্রতি এই লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পকে নিয়ে প্রকাশ্য মঞ্চ থেকে বিতর্কিত মন্তব্য করলেন বাঁকুড়ার ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা। তাঁর মন্তব্য ঘিরে রাজ্য রাজনীতিতে শুরু হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। তৃণমূল কংগ্রেস এই মন্তব্যের তীব্র নিন্দা করেছে।

লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) নিয়ে কী বলেছেন বিজেপি বিধায়ক?

সম্প্রতি বাঁকুড়ার ইন্দাস ব্লকের বামনিয়া হাটতলা ময়দানে আয়োজিত বিজেপির ‘পরিবর্তন সংকল্প সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় উপস্থিত ছিলেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা রাহুল সিনহা-সহ একাধিক বিজেপি নেতা। সেই সভার মঞ্চে বক্তব্য রাখতে উঠে ওন্দার বিজেপি বিধায়ক অমরনাথ শাখা লক্ষ্মীর ভান্ডার প্রকল্পকে কটাক্ষ করে বলেন, “মাসে মাসে বাড়ির মহিলারা যে এক হাজার টাকা হাতে পাচ্ছেন, সেটা লক্ষ্মীর ভান্ডার নয়, ওটা আসলে মুসলমান ভান্ডার।”

এই মন্তব্যের পিছনে নিজের যুক্তিও তুলে ধরেন বিধায়ক। তিনি বলেন, অধিকাংশ হিন্দু পরিবারে সাধারণত একজন মহিলা সদস্য থাকেন, ফলে সেই পরিবার মাসে এক হাজার টাকা পাচ্ছে। অন্যদিকে অধিকাংশ মুসলমান পরিবারে একাধিক মহিলা সদস্য থাকায়, ওই পরিবারগুলি লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পের মাধ্যমে মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত পাচ্ছে বলে দাবি করেন তিনি।

অমরনাথ শাখার আরও দাবি, এই প্রকল্পের (Lakshmir Bhandar) মাধ্যমে সমাজের একটি বিশেষ সম্প্রদায়কে তোষণ করা হচ্ছে। তিনি বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলির উদাহরণ টেনে বলেন, ভবিষ্যতে বাংলায় সরকার বদল হলে লক্ষ্মীর ভান্ডারের নাম বদলে ‘অন্নপূর্ণা ভান্ডার’ করা হবে এবং প্রকৃত উপভোক্তাদের হাতে এই সুবিধা তুলে দেওয়া হবে।

lakshmir bhandar(4)

আরও পড়ুনঃ মেট্রোর লাইনে দাঁড়ানোর দিন শেষ! এবার ঘরে বসেই মাত্র ২ মিনিটে টিকিট কাটুন, পদ্ধতি দেখে নিন

প্রকাশ্য সভামঞ্চে বিজেপি বিধায়কের এই মন্তব্যের পর তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। তৃণমূলের বক্তব্য, লক্ষ্মীর ভান্ডার (Lakshmir Bhandar) প্রকল্পের বিপুল জনপ্রিয়তা দেখে বিজেপি ভয় পাচ্ছে। তৃণমূলের দাবি, বাংলার নারীশক্তি এই প্রকল্পের মাধ্যমে উপকৃত হয়েছেন এবং আগামী বিধানসভা নির্বাচনে এই নারী ভোটব্যাঙ্কই বিজেপিকে রাজ্য ছাড়া করবে। লক্ষ্মীর ভান্ডারকে ঘিরে এই মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক মহলে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি করেছে এবং আগামী দিনে এই বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।