‘অভিষেকের মা ছুটে এসে বলল দিদি..,’ লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে বড় কথা জানালেন মমতা

Published on:

Published on:

lakshmir bhandar(6)
Follow

বাংলা হান্ট ডেস্কঃ ভোটমুখী রাজ্যে ফের বেড়েছে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার (Lakshmir Bhandar)। সম্প্রতি রাজ্যের এই অন্যতম কল্যাণকর প্রকল্পে ভাতার পরিমাণ বাড়িয়েছে রাজ্য সরকার (Government Of West Bengal)। একধাক্কায় ৫০০ টাকা বেড়েছে। কিন্তু কোথা থেকে এই লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের ভাবনা মাথায় এসেছিল? সম্প্রতি বড়ঞার সভায় সেকথা খোলসা করলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

কেন লক্ষ্মীর ভাণ্ডার শুরু? জানালেন মমতা | Lakshmir Bhandar

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, “লক্ষ্মীর ভাণ্ডার কেন করেছিলাম জানেন মা-বোনেরা? নোটবন্দির সময় আমি দেখেছিলাম, যখন নোটবন্দি হল, আধঘণ্টার মধ্যে আমি প্রতিক্রিয়া দিয়েছিলাম। কেন জানেন? আমি বলেছিলাম, এতে মানুষের ক্ষতি হবে। আমার কাছে অভিষেকের মা ছুটে এল। আমার কাছে থাকে। বলল, দিদি দিদি আমাকে ৫০০ টাকা দেবে? আমি বললাম কেন? বলল সব টাকা তো জমা করে দিতে হবে। এই টাকা তো চলবে না, তাহলে আমি বাজার করব কী করে?”

মমতা আরও বলেন, “একটি মেয়ে সে বেঙ্গালুরুতে থাকে। সে আমাদের বাড়িতে আসে। আমাকে এসে বলল, আমাকে ২০০ টাকা দেবে? আমি বললাম, কী করবে? ও বলল, আমার কাছে তো এক টাকাও নেই। আপনাদের যতটুকু জমা পুঁজি মায়েরা লুকিয়ে রাখেন, দুঃসময়ে কাজে লাগবে বলে সব নিয়ে নিয়েছিল। তাই আমি সেদিন ঠিক করেছিলাম, যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডার মা-বোনদের উপহার। আমি লক্ষ্মীর ভাণ্ডার করে দেব।”

তৃণমূলনেত্রী জানান, “আমার নিজেরও একটা লক্ষ্মীর ভাণ্ডার আছে। সেটাতে ৫ টাকা, ১০ টাকা যা পাই জমাই। আমার বাড়িতে মা কালী পুজো হয়, ওই টাকা জমিয়ে আমি বছরে একটা না একটা কিছু মা-কে দিই।” উল্লেখ্য, ভোটমুখী রাজ্যে লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের অনুদান বাড়িয়েছে সরকার। বর্তমানে এই প্রকল্পের আওতায় তপশিলি জাতি ও উপজাতি সম্প্রদায়ের মহিলারা মাসে ১৭০০ এবং সাধারণ সম্প্রদায় অর্থাৎ জেনারেল ক্যাটাগরির মহিলারা ১৫০০ টাকা করে পাচ্ছেন।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপডেট | Lakshmir Bhandar

ইতিমধ্যেই নতুন আবেদনকারীদের লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে টাকা দেওয়ার কাজ শুরু করে দিয়েছে রাজ্য। তবে অনেকেরই টাকা পেতে সমস্যা হচ্ছে। কারণ কী?
জানা যাচ্ছে, অনেক আবেদনকারীর আবেদনপত্রে কিছু ত্রুটি থাকার কারণে হয়তো টাকা পেতে সমস্যা হচ্ছে। আবেদনপত্র এবং লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে প্রয়োজনীয় কোনও নথিতে সামান্য ত্রুটি থাকলেও টাকা আটকে যেতে পারে। কী কী কারণে সমস্যা হতে পারে? ভুল করে থাকলে শুধরে নিন।

আবেদনপত্রে উপভোক্তার নামের বানান যদি ভুল থাকে, অর্থাৎ আধার কার্ড বা অন্যান্য নথির সঙ্গে না মেলে, সেক্ষেত্রে আবেদনটি খারিজ হয়ে যেতে পারে অথবা স্থগিত হয়ে যেতে পারে। পাশাপাশি আবেদনকারীর আধার কার্ডে লেখা বাবা/স্বামীর নাম যদি আবেদনপত্রে উল্লেখ করা নামের বানানের সঙ্গে অমিল থাকে তাহলে সেক্ষেত্রেও সমস্যার সম্ভাবনা।

এই ভাতা পাওয়ার জন্য অবশ্যই আবেদনকারীর নিজস্ব ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। কোনওভাবেই জয়েন্ট অ্যাকাউন্ট থাকলে এই টাকা পাঠানো হবে না। এটিই ভাতার টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রধান শর্ত।এক্ষেত্রে আবেদন করার সময় সেখানে দেওয়া অ্যাকাউন্ট নম্বর কিংবা আইএফএসসি কোড যদি ভুল হয় তাহলেও আবেদন স্থগিত হয়ে যেতে পারে।

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারে আবেদনের সময় দেওয়া মোবাইল নম্বরে যদি কোনও সমস্যা হয়, তাহলেও কিন্তু সমস্যার সম্ভাবনা। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধার কার্ড এবং মোবাইল নম্বর লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক এ ক্ষেত্রে। আপনিও লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের জন্য আবেদন করলে আধার কার্ডের সঙ্গে প্যান কার্ডের সংযোগ অবশ্যই করে রাখবেন।

Lakshmir Bhandar

আরও পড়ুন: ০৩৩-২২৫৩৫৪১৭, বকেয়া DA, DR পেতে জেনে নিন সরকারি নম্বর

লক্ষ্মীর ভাণ্ডারের স্ট্যাটাস চেক করতে socialsecurity.wb.gov.in- এ গিয়ে অ্যাপ্লিকেশন আইডি, মোবাইল নম্বর, আধার কার্ড নম্বর এবং স্বাস্থ্যসাথী কার্ড নম্বরের অপশন দেখতে পাবেন। যে কোনও একটিতে ক্লিক করলেই স্ট্যাটাসের পেজটি খুলে যাবে। যদি দেখেন ভ্যালিডেশন এরর রয়েছে, তাহলে বুঝতে হবে আবেদন ত্রুটিপূর্ণ হয়েছে। ভ্যালিডেশন এরর আসলে আপনি যেখানে আবেদন করেছিলেন সেখানে যোগাযোগ করে যত দ্রুত সম্ভব ত্রুটি ঠিক করে নিন।