বাংলা হান্ট ডেস্ক : পানিহাটি কেন্দ্রকে ঘিরে ক্রমশ তীব্র হচ্ছে নির্বাচনী লড়াই। শাসক-বিরোধী দুই শিবিরই নিজেদের শক্তি প্রদর্শনে মরিয়া। এই আবহেই পানিহাটির তৃণমূল প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষের সমর্থনে প্রচারে হাজির হন দলের তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়(Mamata Banerjee)। সভামঞ্চ থেকে স্বভাবসিদ্ধ ভঙ্গিতে বিজেপিকে (Bharatiya Janata Party) আক্রমণ করার পাশাপাশি তিনি এই কেন্দ্রের বিশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি নিয়েও ইঙ্গিতপূর্ণ বার্তা দেন।
রত্নাকে আক্রমণ মমতার (Mamata Banerjee)
এই কেন্দ্রের রাজনৈতিক সমীকরণ কিছুটা আলাদা। বিজেপি প্রার্থী রত্না দেবনাথ আর জি করের নিগৃহীতা চিকিৎসকের মা হিসেবে পরিচিত। তিনি গেরুয়া শিবিরে যোগ দিয়ে বিজেপি প্রার্থী হন। প্রচারে নেমে মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন বিজেপি প্রার্থী রত্না। তবে এদিন সেই আক্রমণের জবাব দিতে গিয়ে তুলনামূলক সংযত সুরেই কথা বলেন মমতা।
মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কথায়, “ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভোট রাজনীতির অঙ্গ। এক রাজনীতির লোক অন্য রাজনীতির লোককে কিছু বলতেই পারে। কিন্তু আমি কাউকে কটূক্তি করব না। আপনারাও সৌজন্যের সীমারেখা রাখবেন।”
এদিন সভায় বিজেপিকে আক্রমণের ভঙ্গিতে অভয়ার মায়ের নাম না করে মমতা বলেন, “সন্তানদের শিক্ষা, ইতিহাস, খাবার, সংস্কৃতি, অধিকার যদি বাঁচাতে হয়, তাহলে মনে রাখবেন আপনাদের দরকার তৃণমূল সরকার। যে যতই নাটক, ছলনা করুক, একটা কথা বলবেন। ভোটে কেউ প্রার্থী হলে তাঁর নিজের কথা বলার অধিকার রয়েছে। কিন্তু ভোট রাজনীতির অঙ্গ। এক রাজনীতির লোক অন্য রাজনীতিক লোককে বলতেই পারে। আপনারা সৌজন্যের সীমারেখা রাখবেন।”
বিজেপির পাশাপাশি সিপিএমকেও তীব্রভাবে আক্রমণ করেন তৃণমূল নেত্রী। তাঁর অভিযোগ, দুই দলের মধ্যে গোপন সমঝোতা রয়েছে। মমতার কথায়, “বিজেপির এখন সবচেয়ে বড় বন্ধু সিপিএম। এই যে এত বছর ধরে সিপিএম মানুষের উপর এত অত্যাচার করল, এত রক্ত ঝরল, কই তাদের বিরুদ্ধে তো একটাও সিবিআই মামলা করেনি বিজেপি! তাই আমি বলব, বিজেপি, সিপিএম কাউকে জিততে দেবেন না। এমন করুন, যাতে একটাও আসন না পায় ওরা”

আরও পড়ুন : বুথে বাড়তি নজরদারি, ভোটের আগে BLO-দের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার নির্দেশ কমিশনের, কেন?
পানিহাটি কেন্দ্রের সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্তও আর জি কর আন্দোলনের গুরুত্বপূর্ণ মুখ। একই কেন্দ্রের লড়াইয়ে একদিকে অভয়ার মা রত্না দেবনাথ, অন্যদিকে আন্দোলনের আরেক মুখ কলতান। রাজনৈতিক মহলে এই সমীকরণ ভোটকে আরও আকর্ষণীয় করে তুলেছে। পানিহাটির নির্বাচনী লড়াই এখন শুধু দলীয় প্রতিদ্বন্দ্বিতায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং আবেগ, অভিযোগ এবং পাল্টা অভিযোগের মিশেলে তা আরও জটিল আকার নিয়েছে।













