বাংলা হান্ট ডেস্ক : রাজ্যে বিধানসভা নির্বাচনের (Assembly Election) আবহ ক্রমশ চরমে উঠেছে। শেষ দফার ভোট যত এগিয়ে আসছে, ততই জোরদার হচ্ছে প্রচার। প্রতিটি রাজনৈতিক দলই এখন সর্বশক্তি দিয়ে জনসমর্থন টানার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে তৃণমূল কংগ্রেসের নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) একাধিক জনসভা করে প্রচারে গতি বাড়িয়েছেন।
বিজেপিকে বিঁধলেন মমতা (Mamata Banerjee)
রবিবার একদিনেই চারটি সভা করে তিনি বার্তা দেন, লড়াইয়ের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত ময়দান ছাড়তে নারাজ তিনি। আসানসোলে জনসভা থেকে কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে সরব হন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এসআইআর ইস্যু নিয়ে সরব হয়ে তিনি বলেন, ” আপনারা দেখতে পাচ্ছেন কী অত্যাচার চলছে? কী অনাচার চলছে? কী স্বৈরাচার চলছে? কী ভোট খাতার ষড়যন্ত্র চলছে? আমি নিজে সুপ্রিম কোর্টে গিয়েছিলাম ভোট তোলার জন্য। আপনাদের আশীর্বাদে ৩২ লক্ষ নাম ভোটার লিস্টে তুলতে পেরেছি। এখনও ৯০ লক্ষ নাম বাদ আছে। ৬০ লক্ষ হিন্দু আর ৩০ লক্ষ মুসলমান।”
শুধু এসআইআর নয়, এনআরসি প্রসঙ্গে কড়া জবাব দেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ”এরপর এদের কাজ হচ্ছে NRC করা। ডি লিমিটেশন করে বাংলাকে টুকরো টুকরো করা। উনারা নাকি আমাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন। আমি চার্জশিট দিচ্ছি আপনাদের বিরুদ্ধে। এতই যদি হিম্মত থাকত, এই লিস্টে জিতে আপনি প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন। আগে পদত্যাগ করুন আপনি। এই ভোটার লিস্টে ভোট করে ২০২৪-এ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হয়েছেন অমিত শাহ , আগে পদত্যাগ করুন। লজ্জা লাগা দরকার। বিজেপিকে ধিক্কার। ভোটের আগে অত্যাচারী, দুরাচারী, ব্যভিচারী, ভোট কাটারি এরা।”
বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করে মমতা বলেন, ” বাংলায় এসেছো ভোট চাইতে? লজ্জা করে না? আমি যদি এই অন্যায় করতাম তবে এখানে এসে গঙ্গায় কলসি নিয়ে জলে ডুবে মরতাম। কোনও লজ্জা নেই এই লোকেদের।”

আরও পড়ুন : ভোটের মুখে ভবানীপুরে তুলকালাম! কী হচ্ছে হাইভোল্টেজ কেন্দ্রে?
এছাড়াও আয়ুষ্মান ভারত প্রকল্প নিয়ে প্রশ্ন তোলেন মমতা। তাঁর বক্তব্য,”বলে আয়ুষ্মান ভারত নাকি করতে দেয়নি। কেন দেব? যদি কারও পাকা বাড়ি থাকে সে পাবে না, স্কুটার থাকলে পাবে না, ফোন থাকলে পাবেন না। তাহলে পাবে কে?” আসানসোলের মঞ্চ থেকে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই ভাষণ স্পষ্ট করে দিল যে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক লড়াই এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। শেষ দফার ভোটের আগে এই ধরনের সভা যে রাজনৈতিক সমীকরণে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে, তা বলাই বাহুল্য।












