বাংলা হান্ট ডেস্কঃ গতকাল নেতাজি ইন্ডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের কর্মীসভা থেকে উঠে এসেছে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে বিরোধী পক্ষকে ‘এক ছটাক’ জমি ছাড়তে নারাজ তৃণমূল শিবির। তাই বিরোধীদের কড়া বার্তা দেওয়ার পাশাপাশি দলের অন্দরে থাকা বেসুরোদেরও এদিন আগাম সতর্ক করে দিয়েছেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বান্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee)। একই সাথে খুব ভালো করে বুঝিয়ে দিয়েছেন দলই শেষ কথা! দল ছাড়া আর কারো কোনো অস্তিত্ব নেই। বিশেষ বার্তা দিয়েছেন দলের নেতা-কর্মীদের ফেসবুক পোস্ট নিয়েও। ‘ব্যক্তিপূজা’য় বিশ্বাসী দলীয় কর্মীদের শৃঙ্খলা এবং অনুশাসনের পাঠ পড়ানোর পাশাপাশি দলের শৃঙ্খলা পরায়ণ, বুথে বুথে বিরোধীদের সন্ত্রাসের সামনে বুক চিতিয়ে লড়াই করা কর্মীদেরও প্রশংসায় ভরিয়েছেন মমতা।
‘ব্যাক্তিপুজায়’ বিশ্বাসীদের কড়া ডোজ মমতার (Mamata Banerjee)
বৃহস্পতিবার তৃণমূলের বিশেষ অধিবেশন থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ‘দল বাদ দিয়ে বেক্তি আনুগত্যকে একদম প্রশ্রয় দেওয়া হবে না’। বিষয়টি আরও স্পষ্ট করে দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী এদিন বলেছেন,’শুধুমাত্র নিজের কথা ভাবলে হবে না, দলের কথা মাথায় রেখে কাজ করুন।’ একইসাথে নেত্রীর নির্দেশ, ‘সকলকে ডেকে নিয়ে একসঙ্গে আগামী একবছর সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করুন। যাঁরা সবাইকে নিয়ে চলতে পারবেন না, তাঁদের আমি বদলে দেব।’ একইসাথে তাঁর সংযোজন, ‘যাঁরা শুধু বিবৃতি দেন, দলের সমালোচনা করেন, তাঁদের জন্য আমার কোনও দয়ামায়া নেই।’
দলে থেকে যারা আলাদা নেতার নামে ফেসবুক পোস্ট করছেন তাঁদের উদ্দেশে গতকাল ধমক দিয়ে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বললেন, ‘আজকাল দেখছি, অনেকে বলছে, আমি তৃণমূল বুঝি না, ওই দাদা বুঝি। দলের প্রতীক ছাড়া কেউ পঞ্চায়েতে একটা বুথেও জিততে পারবেন না। কেউ এখানে নেতা নয়, আমিও কর্মী। নেতা যদি কেউ হয়, সে হল জোড়া ফুল। মনে রাখবেন, দলই শেষ কথা, দল ছাড়া কারও কোনও অস্তিত্ব নেই।’ তাই আগাম সতর্ক করে এদিন মুখ্যমন্ত্রী আরও বললেন, ‘অন্য নেতার নাম নয়, সব কিছু বুঝে ফেসবুকে পোস্ট করুন।’
আরও পড়ুন: কলকাতায় বাড়ছে মেট্রো সংখ্যা? জনস্বার্থ মামলায় বড় সিদ্ধান্ত নিল কলকাতা হাইকোর্ট
শুধু মুখের কথা নয়, প্রত্যেকের ফেসবুক পোস্ট নাকি রীতিমতো খুঁটিয়ে দেখেন স্বয়ং তৃণমূল সুপ্রিমো (Mamata Banerjee)। তাঁর কথায়, ‘ফেসবুকে আমি নিয়মিত খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে সবার ফেসবুক দেখি, কে কী পোস্ট করছেন, সবটাই নজরে রাখি।’ একইসাথে যেসমস্ত কর্মীরা দায়িত্ব নিয়ে দলের হয়ে কাজ করে চলেছেন তাঁদের প্রশংসা করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর কথায়, ‘আমি সেই কর্মীকে পুরস্কৃত করতে চাই, যে কর্মী কিছু পাওয়ার আশা না করে বুথে গিয়ে ভোটের দিন বুক চিতিয়ে লড়াই করে, অথচ কিছু চায় না।’ একই সঙ্গে এদিন কর্মীদের ৪ দফা দায়িত্ব বুঝিয়ে দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। নেত্রীর নির্দেশ মিলতেই আজ, শুক্রবার থেকে জেলায় জেলায় বুথভিত্তিক ভোটার লিস্ট তৈরীর কাজ শুরু করে দিয়েছেন দলীয় কর্মীরা।
প্রসঙ্গত, গতকাল ওই একই মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখার সময় দল-বিরোধীদের কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে দলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বান্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, ‘অনেকেই সংবাদমাধ্যমে অনেক কথা বলে দলকে ছোট করছেন। দলের সঙ্গে যাঁরা বেইমানি করেছিলেন, সেই মুকুল রায়, শুভেন্দু অধিকারী তাঁদের কিন্তু আমিই চিহ্নিত করেছিলাম। এবারেও বেইমানদের ল্যাজেগোবরে করার দায়িত্ব আমার।’