বাংলাহান্ট ডেস্ক: কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা AI-কেন্দ্রিক ভবিষ্যতের দিকে আরও দ্রুত এগোতে গিয়ে বড়সড় ছাঁটাইয়ের পথে হাঁটল মার্ক জুকারবার্গের সংস্থা মেটা (Meta)। এক ধাক্কায় প্রায় ৮ হাজার কর্মীকে চাকরি থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে, যা সংস্থার মোট কর্মীর প্রায় ১০ শতাংশ। এই সিদ্ধান্ত ঘিরে ইতিমধ্যেই প্রযুক্তি মহলে বিতর্ক শুরু হয়েছিল। তবে বিতর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের কাছে পাঠানো শেষ ইমেলের ভাষা নিয়ে। ওই মেলে লেখা ছিল, “আপনি যদি এই মুহূর্তে অফিসে থাকেন, তবে ব্যক্তিগত জিনিসপত্র নিয়ে বাড়ির পথে রওনা হয়ে যান।” এই বার্তাকেই অনেক কর্মী ‘অপমানজনক’ ও ‘অমানবিক’ বলে কটাক্ষ করেছেন।
এক ধাক্কায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করে ‘অপমানজনক’ ইমেল মেটার (Meta)-র
জানা গিয়েছে, ভোর চারটে নাগাদ কর্মীদের কাছে এই ইমেল পৌঁছয়। সেখানে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে আপনার ভূমিকা সংস্থার পুনর্গঠনের জন্য আর প্রয়োজনীয় নয়।” মেলের ভাষা ছিল অত্যন্ত আনুষ্ঠানিক ও নিরাবেগ, তবে তার অন্তর্নিহিত বার্তা কর্মীদের কাছে ছিল যথেষ্ট কঠোর। উল্লেখযোগ্য বিষয় হল, বেশিরভাগ কর্মী তখন বাড়ি থেকেই কাজ করছিলেন। ফলে কেন এমন ভাষা ব্যবহার করা হল, তা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়া ও প্রযুক্তি মহলে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেকের মতে, কর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগের ক্ষেত্রে মানবিকতার অভাব স্পষ্টভাবে ধরা পড়েছে।
আরও পড়ুন: ১৩ বছর হয়নি ভোট! এবার নির্বাচন হাওড়া পুরসভায়, দুর্নীতির তদন্তের ঘোষণাও মুখ্যমন্ত্রীর
মেটার মোট কর্মীসংখ্যা এতদিন ছিল প্রায় ৭৮ হাজার। সূত্রের খবর, প্রথমে কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয় এবং তারপরই পাঠানো হয় ছাঁটাইয়ের ইমেল। জানা যাচ্ছে, এই মেল পাঠানো হয়েছে সংস্থার সিঙ্গাপুর দপ্তর থেকে। শুধু ছাঁটাই নয়, আরও কয়েক হাজার কর্মীকে অন্য বিভাগে স্থানান্তর করা হচ্ছে। সংস্থার কর্তা জ্যানেল গেল জানিয়েছেন, ছাঁটাই হওয়া কর্মীদের জায়গায় নতুন AI-কেন্দ্রিক টিম তৈরি করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রায় ৬ হাজার শূন্য পদ সম্পূর্ণভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
প্রযুক্তি মহলের একাংশের দাবি, এমন পদক্ষেপের ইঙ্গিত আগেই পাওয়া গিয়েছিল। গত কয়েক মাস ধরে মেটা ধারাবাহিকভাবে AI-ভিত্তিক প্রযুক্তির উপর জোর বাড়াচ্ছিল। কর্মীদের মধ্যেও ছাঁটাইয়ের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। মনে করা হচ্ছে, অফিসে কোনও ধরনের উত্তেজনা বা বিক্ষোভ এড়াতেই আগে থেকেই ওয়ার্ক ফ্রম হোমের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে ইঞ্জিনিয়ারিং ও প্রোডাক্ট টিম, এমন আশঙ্কাও প্রকাশ করা হয়েছে। শিল্প বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি শুধু শুরু, বছরের শেষের দিকে আরও ছাঁটাই হতে পারে।

আরও পড়ুন: অভিনবভাবে মাথায় আসে বিজনেস আইডিয়া! মাত্র ৬ মাসেই ২৫ লক্ষের আয়, অবাক করবে জয়তীর কাহিনি
উল্লেখযোগ্যভাবে, মেটা (Meta) আগেই জানিয়েছিল যে চলতি বছরে তারা ১২৫ থেকে ১৪৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা করেছে, যার বড় অংশই ব্যয় হবে AI প্রযুক্তির উন্নয়নে। অর্থাৎ সংস্থার ভবিষ্যৎ কৌশলের কেন্দ্রে এখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাই। তবে সেই পরিবর্তনের মূল্য দিতে হচ্ছে হাজার হাজার কর্মীকে। প্রযুক্তি শিল্পে AI-নির্ভর পুনর্গঠনের এই প্রবণতা আগামী দিনে আরও বাড়তে পারে বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল।













