বাংলাহান্ট ডেস্ক: হিমাচল প্রদেশের ছোট শহর থেকে উঠে আসা জয়তী গোয়েলের সাফল্যের গল্প (Success Story) এখন অনেক তরুণ উদ্যোক্তার কাছেই অনুপ্রেরণা হয়ে উঠছে। মাত্র কয়েক মাসের মধ্যেই তিনি তৈরি করেছেন একটি জনপ্রিয় স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড, যার নাম ‘হে-টিন’। বিশেষভাবে প্রি-টিন ও টিনএজারদের জন্য তৈরি এই ব্র্যান্ড ইতিমধ্যেই বাজারে আলাদা পরিচিতি তৈরি করেছে। ফেস ওয়াশ, লিপ বাম, ফেসিয়াল স্ক্রাব, বডি লোশন থেকে শুরু করে পিম্পল প্যাচ ও স্কিনকেয়ার কিট, কিশোর-কিশোরীদের চাহিদা মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে প্রতিটি পণ্য। গত বছরের অক্টোবর মাসে সফর শুরু করা এই ব্র্যান্ড ছ’মাসের মধ্যেই প্রায় ২৫ লক্ষ টাকার ব্যবসা করেছে।
জয়তী গোয়েলের অসাধারণ সাফল্যের কাহিনি (Success Story)
জয়তী গোয়েল পেশায় একজন সনদপ্রাপ্ত কসমেটিক ফর্মুলেটর। যুক্তরাজ্যের ADCS এবং ভারতের EDCT-এর মতো প্রতিষ্ঠানে তিনি কসমেটিক ফর্মুলেশন, প্রোডাক্ট সেফটি এবং ডার্মাটোলজিক্যাল কম্প্যাটিবিলিটি নিয়ে পড়াশোনা করেছেন। পাশাপাশি ব্যবসায়িক কৌশল ও ভোক্তাদের মনস্তত্ত্ব বোঝার জন্য তাঁর রয়েছে এমবিএ ডিগ্রিও। তবে তাঁর এই ব্যবসায়িক যাত্রার শুরু কোনও বড় পরিকল্পনা থেকে নয়, বরং একজন মায়ের উদ্বেগ থেকেই। ছেলে কৈশোরে পা দেওয়ার পর উপযুক্ত স্কিনকেয়ার পণ্য খুঁজতে গিয়ে তিনি বুঝতে পারেন, বাজারে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য বহু পণ্য থাকলেও টিনএজারদের জন্য নিরাপদ ও উপযোগী বিকল্প প্রায় নেই বললেই চলে।
আরও পড়ুন: ‘মেলোডি’-র সৌজন্যে কূটনীতিতে নয়া চমক! ভারত-ইতালির মধ্যে এবার স্পেশাল স্ট্রাটেজিক পার্টনারশিপ
এই সমস্যার সমাধান করতেই ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে ‘হে-টিন’ ব্র্যান্ডের সূচনা করেন জয়তী। ব্র্যান্ডটির অন্যতম বড় বৈশিষ্ট্য হল, তিনি বাইরের কোনও প্রস্তুতকারকের উপর নির্ভর করেন না। গবেষণা থেকে উৎপাদন, সবটাই হয় তাঁর নিজস্ব ল্যাবে। ফলে পণ্যের গুণমান ও নিরাপত্তার উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে পারেন তিনি। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান বাজারে যেখানে অনেক স্টার্টআপ ‘হোয়াইট লেবেল’ পণ্যের উপর নির্ভর করে, সেখানে জয়তীর এই স্বনির্ভর মডেলই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।
‘হে-টিন’-এর পণ্যগুলি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে যাতে কিশোর-কিশোরীরা সহজেই সেগুলি ব্যবহার করতে পারে। কেমিক্যালের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ, ত্বকের সংবেদনশীলতা এবং ব্যবহারিক সুবিধার দিকে বিশেষ নজর দেওয়া হয়েছে। শুধু পণ্য বিক্রি নয়, আত্ম-যত্ন ও আত্মবিশ্বাসের ধারণাকেও সামনে আনতে চাইছেন জয়তী। তাঁর মতে, কৈশোর এমন একটি সময় যখন সঠিক যত্ন ও সচেতনতা আত্মবিশ্বাস গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয়।

আরও পড়ুন:মুখরোচক সেদ্ধ চিকেন ভর্তা হতে পারে গরমের সেরা ফুড অপশন, জানুন সহজ রেসিপি
মাত্র ছ’মাসের মধ্যেই কোনও বাহ্যিক বিনিয়োগ ছাড়াই ২৫ লক্ষ টাকার লাভ অর্জন করেছে ‘হে-টিন’। ব্র্যান্ডটির জনপ্রিয়তা বাড়তে শুরু করতেই মিন্ট্রা, ফ্লিপকার্ট এবং ফার্স্টক্রাইয়ের মতো বড় ই-কমার্স সংস্থাগুলিও অংশীদারিত্বের আগ্রহ দেখিয়েছে। জয়তীর লক্ষ্য, ভবিষ্যতে ‘হে-টিন’-কে শুধু একটি স্কিনকেয়ার ব্র্যান্ড হিসেবে নয়, বরং টিনএজারদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য ও ইতিবাচক লাইফস্টাইল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলা (Success Story)।













