‘হ্যাঁ, আমি মুসলিম, কিন্তু আমি ভারতীয়’, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান ভক্তদের মুখে ঝামা ঘষলেন শামি

বাংলা হান্ট নিউজ ডেস্কঃ ওডিআই বিশ্বকাপের (2023 ODI World Cup) ফাইনাল বাদ দিলে বাকি টুর্নামেন্টে মহম্মদ শামি (Mohammed Shami) যে কয়েকটি ম্যাচে মাঠে নেমেছেন, সেই প্রত্যেকটি ম্যাচেই ভারতীয় দলের (Indian Cricket Team) জয়ে পালন করেছিলেন বড় ভূমিকা। প্রথম ভারতীয় ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ওডিআই বিশ্বকাপে ৫০ উইকেট নেওয়ার সম্মান অর্জন করেছেন। এছাড়া বিশ্ব ক্রিকেটে দ্রুততম ক্রিকেটার হিসেবে তিনি ওডিআই বিশ্বকাপে ৫০ উইকেটের মালিক হয়েছেন।

shami evil smile

   

এই বিশ্বকাপে তিনি মোট ৩টি ফাইফার নিয়েছিলেন। এর মধ্যে দুটি এসেছিল শ্রীলঙ্কা এবং নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে গ্রূপপর্বের ম্যাচে। অপরটি এসেছিল সেমিফাইনালে কিউয়িদের বিরুদ্ধেই। তার মধ্যে একটি ফাইফার নিয়ে নতুন করে বিতর্ক আরম্ভ করেছিলেন বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের ক্রিকেটপ্রেমীরা।

না, তাদের কাছ থেকে শামি-কে নিয়ে কোনও ক্ষোভ দেখা যায়নি। কিন্তু একটি ম্যাচে ফাইফার নেওয়ার সন্তুষ্টিতে তিনি মাটিতে হাঁটু গেড়ে কিছুক্ষণ বসে তারপর উঠে দাঁড়ানোয় ওই দুই দেশের ভক্তরা দাবি করেছিলেন যে শামি ফাইফার পাওয়ার পরে মাটিতে সাজদা করতে বসেছিলেন। কিন্তু নিজে ভারতবর্ষে থেকে তার নিজের ধর্মাচারণ করলে সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশবাসীর বিরাগভাজন হতে হবে বলে তিনি নাকি সেই প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ করেননি।

আরও পড়ুন: অব্যাহত CR7 ম্যাজিক, ৬ বছরের ব্যবধানে ফের গোলের হাফসেঞ্চুরি রোনাল্ডোর!

এবার তাদের সেই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে মুখ খুলেছেন মহম্মদ শামি। ভারতের তারকা পেসার একটি সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, “আমি যদি সাজদা করতে চাই তাহলে কে আমাকে বাধা দেবে? আমি অন্য ধর্মের কাউকে তাদের ধর্মাচারণে বাধা দিইনি এবং তারাও আমাকে বাধা দেবে না। আমি যদি এটি করতে চাইতাম তবে আমি এটি অবশ্যই করতাম। এতে সমস্যার কি আছে? আমি একজন মুসলিম, আমি গর্ব করে বলি যে আমি একজন মুসলিম এবং ভারতীয়। তাহলে এতে সমস্যা কি? আমার কোনো সমস্যা হলে আমি ভারতে থাকতাম না।”

আরও পড়ুন: এবার একসাথে ধোনি, কোহলিকে টপকাবেন রোহিত! কিভাবে সম্ভব? উপায় বললেন বিশ্বজয়ী তারকা

এরপর তিনি আরও বলেছেন, “আমি সেই ম্যাচের পরে ইনস্টাগ্রাম এবং টুইটারেও দেখেছি যে লোকেরা দাবি করছে যে আমি সাজদা করতে চেয়েছিলাম কিন্তু শেষপর্যন্ত করিনি। আমি আমার জীবনে অনেক ফাইফার নিয়েছি, কিন্তু কোনওদিন মাঠে ওই কাজ করিনি। ভারতের মাটিতে আমি যদি সাজদা করতে চাই তাহলে যে কোন পরিস্থিতিতে বিনা বাধায় করতে পারি। আসলে সেদিন আমি আমার সাধ্যের বাইরে ২০০ শতাংশ পরিশ্রম করে সেই স্পেলটি করছিলাম। তাই, আমি ক্লান্তিতে নতজানু হয়েছিলাম। কেউ পিছন থেকে আমার চুল টেনে এনেছিল এবং আমি কিছুটা নত হয়েছিলাম এবং লোকেরা এটি থেকে মিম বা ট্রোল তৈরি করেছিল। কিন্তু আসল ঘটনা একেবারেই তেমন নয়।”

 

সম্পর্কিত খবর