তাঁত বুনতে বুনতেই চলত পড়াশোনা! কঠোর পরিশ্রম করে ছেলের সাথেই উচ্চমাধ্যমিক দেবেন মা

Published On:

বাংলা হান্ট ডেস্ক: ইতিমধ্যেই মাধ্যমিক পরীক্ষার পর্ব শেষ হয়েছে রাজ্যে। এমতাবস্থায় আগামী মঙ্গলবার অর্থাৎ ১৪ মার্চ থেকে রাজ্য জুড়ে শুরু হতে চলেছে চলতি বছরের উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা (Higher Secondary Examination)। এই আবহে এক্কেবারে চূড়ান্ত পর্বের প্রস্তুতি সারছেন পরীক্ষার্থীরা। এমন পরিস্থিতিতে, বর্তমান প্রতিবেদনে আজ আমরা এমন এক পরীক্ষার্থীর প্রসঙ্গ উপস্থাপিত করব যিনি এবার তাঁর ছেলের সাথে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলেছেন।

মূলত, সমস্ত প্ৰতিবন্ধকতা এবং সংসারের কাজ সামলেই ছেলের সাথে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় বসতে চলেছেন বছর ৩৮-এর লতিকা রানী মন্ডল বিশ্বাস। তিনি নদিয়ার শান্তিপুরের হরিপুর অঞ্চলের অন্তর্গত নতুন সর্দার পাড়ার বাসিন্দা। জানা গিয়েছে, তাঁর মা অসুস্থ থাকার কারণে ষষ্ঠ শ্রেণিতেই পড়াশোনা বন্ধ হয়ে যায় লতিকার। পরবর্তীকালে বিয়ে হয় যায় তাঁর।

এদিকে, লতিকার স্বামী ভিনরাজ্যে নির্মাণকর্মীর কাজ করেন। তাঁর এক ছেলে এবং এক মেয়েও রয়েছেন। এমতাবস্থায়, মেয়ে বর্তমানে কলেজে পড়াশোনা করলেও লতিকা এবার তাঁর ছেলের সাথেই উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিতে চলেছেন। উল্লেখ্য যে, ছোটবেলায় পড়াশোনা বন্ধ হয়ে গেলেও বরাবরই পড়তে চেয়েছিলেন লতিকা।

তারপরেই নিজের সব কাজ সামলে তিনি শুরু করেন ফের পড়াশোনার পর্ব। পরিবারের সদস্যরাও লতিকার এহেন সিদ্ধান্তে তাঁর পাশে ছিলেন। এমতাবস্থায়, শান্তিপুর মিউনিসিপ্যাল উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষে মাধ্যমিক পাশ করেন তিনি। তারপর নৃসিংহপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে ভর্তি হন লতিকা। শুধু তাই নয়, উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষায় ভালোভাবে উত্তীর্ণ হওয়ার বিষয়েও যথেষ্ট আশাবাদী তিনি।

https://twitter.com/BanglaHunt/status/1635172202260869120

এই প্রসঙ্গে লতিকা জানিয়েছেন, আর্থিক প্ৰতিবন্ধকতার জেরে তিনিও বিভিন্ন কাজের মাধ্যমে রোজগারের চেষ্টা করেন। তার সাথে রয়েছে সংসারের কাজও। সেইসব সামলে তিনি পড়াশোনা চালিয়ে গিয়েছেন। এমনকি, তাঁত বুনতে বুনতেও বইয়ের দিকে নজর থাকত লতিকার। আর এভাবেই নিজের উদ্যম এবং সাহসের ওপর ভর করে উচ্চমাধ্যমিক পরীক্ষা দিচ্ছেন তিনি। পাশাপাশি, তিনি আরও পড়াশোনা করতে চান বলেও জানিয়েছেন। এদিকে, এই খবর সামনে আসতেই তাঁকে শুভকামনা জানাচ্ছেন সকলেই।

Sayak Panda

সায়ক পন্ডা, মেদিনীপুর কলেজ (অটোনমাস) থেকে মাস কমিউনিকেশন এবং সাংবাদিকতার পোস্ট গ্র্যাজুয়েট কোর্স করার পর শুরু নিয়মিত লেখালেখি। ২ বছরেরও বেশি সময় ধরে বাংলা হান্ট-এর কনটেন্ট রাইটার হিসেবে নিযুক্ত।

সম্পর্কিত খবর

X