মুকেশ আম্বানির নতুন পরিকল্পনা! এই ব্যবসায়ে করতে চান প্রবেশ, সম্প্রতি ‘এন্ট্রি’ নিয়েছেন আদানিও

Published on:

Published on:

Follow

বাংলা হান্ট ডেস্ক: এবার একটি অত্যন্ত বড় আপডেট সামনে এসেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী জানা গিয়েছে যে, ভারতীয় ধনকুবের মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) নেতৃত্বাধীন রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেড (Reliance Industries Limited) তথা RIL অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন ব্যবসায় প্রবেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। যদি সংস্থাটি ওই দিকে অগ্রসর হয়, সেক্ষেত্রে এটি তার প্রস্তাবিত কয়লা গ্যাসিফিকেশন প্রজেক্টের মেটাল ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের সঙ্গে যুক্ত করার কৌশলের একটি অংশ হতে পারে। তবে, সংস্থাটি এখনও তাদের পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেনি এবং বিষয়টি প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রকে উদ্ধৃত করে মিন্ট একটি প্রতিবেদনে জানিয়েছে যে, রিলায়েন্স মেটালস এই ব্যবসায় প্রবেশের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছে। একইসঙ্গে, ইউএনআই-এর তথ্যমতে, সংস্থাটি ওড়িশার (Odisha) কার্লাপট বক্সাইট ব্লকের টেন্ডার নথিও কিনেছে।

মুকেশ আম্বানির (Mukesh Ambani) নতুন পরিকল্পনা:

২০০ মিলিয়ন টনেরও বেশি বক্সাইট: প্রায় ৩,১০০ হেক্টর জুড়ে বিস্তৃত কার্লাপট ব্লকে ২০০ মিলিয়ন টনেরও বেশি বক্সাইট রয়েছে বলে অনুমান করা হয়। রিলায়েন্স এবং আদানি গ্রুপ সহ বেশ কয়েকটি সংস্থা পূর্বে এই ব্লকটির প্রতি আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তবে, নিলামে ১৭৫ শতাংশ নিলাম প্রিমিয়াম প্রস্তাব দিয়ে বেদান্ত অ্যালুমিনিয়ামের সহযোগী প্রতিষ্ঠান বালকো পছন্দের দরদাতা হিসাবে বিবেচিত হয়েছে।

Mukesh Ambani new plan! He wants to enter this business.

কয়লা গ্যাসিফিকেশনের প্রস্তুতি: জানিয়ে রাখি যে, রিলায়েন্স অন্ধ্র প্রদেশে একটি কয়লা গ্যাসিফিকেশন প্রজেক্ট গড়ে তোলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। সংস্থাটি রাজ্যটিতে রেচেরলা এবং চিন্তালপুডি নামে ২ টি কয়লা ব্লক অধিগ্রহণ করেছে। উল্লেখ্য যে, গ্যাসিফিকেশনের প্রক্রিয়ায় কয়লাকে সিন্থেসিস গ্যাস বা সিনগ্যাসে রূপান্তরিত করা হয়। এই গ্যাস বিদ্যুৎ উৎপাদনে অথবা শিল্প জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করা যেতে পারে।

আরও পড়ুন: বৈভব এবং যশস্বীর আচরণে অসন্তুষ্ট সঞ্জয় মঞ্জরেকর! ICC- BCCI-র কাছে জানালেন ‘অভিযোগ’

রিলায়েন্স কেন অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসার দিকে নজর দিচ্ছে: রিপোর্ট অনুসারে, রিলায়েন্স যদি অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায় প্রবেশ করে, তবে কয়লা গ্যাসিফিকেশন থেকে উৎপাদিত জ্বালানি অ্যালুমিনা পরিশোধন এবং অ্যালুমিনিয়াম গলানোর মতো শক্তি-নিবিড় কার্যক্রমে ব্যবহার করা যেতে পারে। এর মাধ্যমে সংস্থাটি তার কয়লা গ্যাসিফিকেশন প্রজেক্টের বাণিজ্যিক উপযোগিতা বাড়ানোর চেষ্টা করতে পারে। এমনিতেই অ্যালুমিনিয়াম শিল্পে প্রচুর শক্তির প্রয়োজন হয়। বক্সাইট থেকে অ্যালুমিনা উৎপাদন এবং তারপর অ্যালুমিনিয়াম গলানোর প্রক্রিয়ায় উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খরচ হয়। এমন পরিস্থিতিতে, কয়লা গ্যাসিফিকেশন ও অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকে একত্র করা রিলায়েন্সের জন্য কৌশলগতভাবে লাভজনক হতে পারে।

আরও পড়ুন: সামনে এল এশিয়ান গেমসে ক্রিকেটের শিডিউল! কবে, কাদের মুখোমুখি হবে ভারতের মেন্স ও ওমেন্স টিম?

আদানি গ্রুপও বড় পদক্ষেপ নিচ্ছে: এদিকে, রিলায়েন্সের এই সেক্টরে সম্ভাব্য প্রবেশ এমন এক সময়ে ঘটছে যখন আদানি গ্রুপও অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায় বড় ধরণের সম্প্রসারণের প্রস্তুতি নিচ্ছে। ইতিমধ্যেই আদানি এন্টারপ্রাইজেস লিমিটেড জুলাই মাসে সংযুক্ত আরব আমিরশাহীতে স্থিত ইন্টারন্যাশনাল হোল্ডিং কোম্পানির সহযোগিতায় ওড়িশায় বার্ষিক ২০ লক্ষ টন উৎপাদন ক্ষমতাসম্পন্ন একটি অ্যালুমিনিয়াম প্রকল্প গড়ে তোলার জন্য প্রায় ১১.৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। এমতাবস্থায়, যদি রিলায়েন্সও এই সেক্টরে প্রবেশ করে, সেক্ষেত্রে দেশের ২ টি বড় ব্যবসায়িক গোষ্ঠীর মধ্যে অ্যালুমিনিয়াম ব্যবসায় সরাসরি প্রতিযোগিতা দেখা যায়। ইতিমধ্যেই ভারতের অ্যালুমিনিয়াম বাজারে একাধিক বড় সংস্থা রয়েছে। বেদান্ত অ্যালুমিনিয়াম দেশের বৃহত্তম অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী সংস্থা। যার বার্ষিক উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ২.৫ মিলিয়ন টন। এছাড়াও, আদিত্য বিড়লা গ্রুপের হিন্ডালকো ইন্ডাস্ট্রিজের অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ১.৪ মিলিয়ন টন। একইসঙ্গে, সরকারি সংস্থা ন্যালকো-র উৎপাদন ক্ষমতা প্রায় ০.৫ মিলিয়ন টন বলে জানানো হয়েছে।